খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের অদম্য বাংলার সামনে দিনব্যাপী ‘খুলনা আইটি-আইটিইএস জবফেয়ার-২০১৯’ ফিতা কেটে ও বেলুন উড়িয়ে উদ্বোধন করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য প্রফেসর ড. মোহাম্মদ ফায়েক উজ্জামান। এদিন মেলায় চাকরি প্রত্যাশীদের উপচে পড়া ভিড় লক্ষ্য করা গেছে।
খুলনা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে সরেজমিনে দেখা গেছে, আইটি-আইটিইএস জব ফেয়ারে চাকরি প্রত্যাশিদের উপচে পড়া ভিড়। খানজাহান আলী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বিএসসি ইঞ্জিনিয়ারিং শেষ করেছেন খুলনার জিরো পয়েন্ট এলাকার মেয়ে বৃষ্টি। একটি চাকরি তার খুব প্রয়োজন। চাকরি পেলে সংসারে একটু স্বচ্ছলতা আসে, আবার তার বাবার ইচ্ছাটিও পূরণ হয়। ‘খুলনা আইটি-আইটিইএস জব ফেয়ারে’ চাকরির সাক্ষাত্কার দিতে এসে বৃষ্টি তার অভিব্যক্তি প্রকাশ করে বলেন, বাবা-মা কষ্ট করে আমাকে এতদূর নিয়ে এসেছেন, এখন কিছুটা হলেও তাদের কষ্ট পূরণ করতে চাই।
পাইকগাছা উপজেলার কপিলমুনি থেকে এসেছেন এম খায়রুল ইসলাম। খুলনা সরকারি বিএল কলেজ থেকে বাংলায় অনার্স করেছেন তিনি। খায়রুল বলেন, চাকরিটা পেলে পরিবারের উপর চাপ কমবে। চাকরির আয় দিয়েই পড়ালেখা শেষ করতে পারবো। এছাড়া সাতক্ষীরার তালা উপজেলার সুমন দেবনাথ, যশোরের অভয়নগর উপজেলার প্রেমবাগ এলাকার দিপংকর বিশ্বাস, আনিসা আক্তারসহ শতাধিক তরুণ-তরুণীর সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে তারা ভালো চাকরি করে বাবা-মায়ের স্বপ্ন পূরণ করতে চান।
আয়োজকরা জানান, এ চাকরি মেলায় শেখ হাসিনা সফটওয়্যার টেকনোলজি পার্ক ও যশোরের ১১টি প্রতিষ্ঠানসহ দেশের শীর্ষস্থানীয় ৪২টি আইটি কোম্পানির প্রতিনিধিরা উপস্থিত থেকে চাকরিপ্রার্থী আগ্রহী তরুণ-তরুণীদের সাক্ষাত্কার নেন। মেলায় প্রাথমিকভাবে ২৫০ জনকে নির্বাচিত করা হবে। চাকরি মেলায় প্রায় ১০ হাজার স্নাতক অনলাইনে নিবন্ধন করেছেন। মেলার আকর্ষণ ছিল ডব্লিউ-থ্রি ইঞ্জিনিয়ার্সের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আয়েশা সিদ্দিকার ক্যারিয়ার ইন আইসিটি আউটসাইট ঢাকা শীর্ষক সেমিনার এবং কাজী আইটি’র সিইও মাইক কাজীর সঞ্চালনায় কাজী আই রিক্রুটমেন্ট আওয়ার নামে দুটি বিশেষ সেশন।
মেলার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র বিষয়ক পরিচালক প্রফেসর মো. শরীফ হাসান লিমন, মেলার বিশ্ববিদ্যালয়ের সমন্বয়কারী সহযোগী অধ্যাপক মো. এনামুল হক এবং আয়োজকদের পক্ষে এলআইসিটি প্রকল্প পরিচালক রেজাউল করিম, এনডিসি, এল আইসিটি প্রকল্পের কম্পোনেন্ট টিম লিডার সামি আহমেদ, অগমেডিক্স বাংলাদেশের কান্ট্রি ডিরেক্টর রাশেদ মুজিব নোমান এবং বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন হাসান বেনাউল ইসলাম।
শেখ হাসিনা সফটওয়্যার টেকনোলজি পার্ক, যশোরের বর্ণ আইটির সিইও উজ্জ্বল বিশ্বাস বলেন, তার প্রতিষ্ঠানটিতে গ্রাফিকস ডিজাইনার, ডিজিটাল মার্কেটিং ও ওয়েভ ডেভেলপারের উপর পরীক্ষা নেওয়া হয়। তিনি বলেন, মনে করেছিলাম আমার প্রতিষ্ঠানে চাকরির জন্য ৫০-৬০টি সিভি জমা পড়বে। কিন্তু ১২টার মধ্যেই ২শরও বেশি সিভি জমা পড়েছে। মেলার চাকরি প্রত্যাশিতদের উপস্থিতি দেখে তিনি সন্তোষ প্রকাশ করেন।
এক্সপ্রেশান সোশ্যাল কোম্পানির সিনিয়র ম্যানেজার নাহিদ ইসলাম তুষার বলেন, ভাবতে পারিনি এতো আবেদন পড়বে। এ মেলায় প্রায় ১০ হাজার স্নাতক রেজিস্ট্রেশন করেছেন। এর মধ্য থেকে ২৫০ জনকে চাকরি হবে বলে তিনি জানান।