উপজেলা পরিষদ নির্বাচনকে সামনে রেখে কালাই উপজেলার আওয়ামী লীগের সম্ভাব্য প্রার্থীদের নাম বিভিন্ন হাট-বাজারে, চায়ের দোকানে, ভোটার, সমর্থক ও নেতা-কর্মীদের মুখে মুখে শোনা যাচ্ছে। এবার কে পাচ্ছে কালাই উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান পদে নৌকার প্রতীক। এই নিয়ে চলছে উপজেলাবাসীর চুলচেরা বিশ্লেষণ। কালাই উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান প্রার্থীরা দলীয় মনোনয়ন পেতে এখন থেকেই তৃণমূল পর্যায়ে গণসংযোগ, দৌড়-ঝাঁপ, গ্রুপিং ও জোর লবিং শুরু করেছেন। আওয়ামী লীগের হাফ-ডজন মনোনয়ন প্রত্যাশীরা পৃথক পৃথকভাবে তাদের দলীয় সমর্থক নেতা-কর্মীদের নিয়ে সভা-সমাবেশ, উঠান বৈঠক, পথসভাসহ এলাকায় পোস্টার, ব্যানার-ফেস্টুন, ফেসবুক, এসএমএস ও টুইটারের মাধ্যমে গণসংযোগ, দোয়া, শুভেচ্ছাসহ মতবিনিময় অব্যাহত রেখেছেন। এ ছাড়াও উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান ও মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান প্রার্থীরাও সমান তালে গণসংযোগ, দোয়া, শুভেচ্ছাসহ মতবিনিময় করছেন। অন্যদিকে কালাই উপজেলা পরিষদ নির্বাচনের বিষয়ে বিএনপি, জাতীয় পার্টি (এ)সহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলগুলো নীরব অবস্থানে রয়েছে।
জানা গেছে, কালাই পৌরসভাসহ উপজেলার মাত্রাই, উদয়পুর, পুনট, জিন্দারপুর ও আহম্মেদাবাদ ইউনিয়ন নিয়ে কালাই উপজেলা পরিষদ। এক লাখ ১১ হাজার ৫১৫ ভোটার রয়েছে। আগামী এক থেকে দুই সপ্তাহের মধ্যেই উপজেলা পরিষদ নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা হতে পারে। ইতোমধ্যেই আওয়ামী লীগ থেকে মনোনয়ন প্রত্যাশীরা কালাই উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান পদে ছয়জন দলীয় মনোনয়ন পেতে লড়াই করছেন। তারা হলেন: জেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক ও কালাই উপজেলা পরিষদের বর্তমান চেয়ারম্যান মোঃ মিনফুজুর রহমান মিলন, উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও কালাই পৌরসভার সাবেক মেয়র মোঃ তৌফিকুল ইসলাম তালুকদার বেলাল, জেলা আওয়ামী লীগের সদস্য ও মাত্রাই ইউনিয়ন পরিষদের বর্তমান চেয়ারম্যান আ.ন.ম. শওকত হাবিব তালুকদার লজিক, জিন্দারপুর ইউনিয়নের আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও নেপচুন জুটমিলের চেয়ারম্যান মোঃ সাইফুল ইসলাম, জেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি মোঃ আব্দুল কাদের মণ্ডল এবং উপজেলা কৃষক লীগের সভাপতি ও বীর মুক্তিযোদ্ধা অধ্যক্ষ মুনীষ চৌধুরী দলের নিকট থেকে মনোনয়ন চাইছেন এবং দলের সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় রয়েছেন।
অন্যদিকে ভাইস চেয়ারম্যান ও মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান প্রার্থীরা দলীয় সমর্থন পেতে এখন থেকেই তৃণমূল পর্যায়ে গণসংযোগ,দৌড়-ঝাঁপ ও গ্রুপিং শুরু করেছেন। ভাইস চেয়ারম্যান প্রার্থীরা হলেন:বাংলাদেশ ছাত্রলীগের উপজেলার আহ্বায়ক মোঃ তফিকুল ইসলাম তৌহিদ, উপজেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি মোঃ ফজলুর রহমান এবং মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান প্রার্থীরা হলেন: বাংলাদেশ যুব মহিলা লীগের উপজেলার সভাপতি ও মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান মোছাঃ মরিয়ম নেছা স্বপ্না, বাংলাদেশ যুব মহিলা লীগের উপজেলার সাংগঠনিক সম্পাদক মোছাঃ সাবানা আক্তার। তারা কোমর বেঁধে এলাকার প্রতিটি গ্রাম, পাড়া-মহল্লা, অলি-গলি, রাস্তা-ঘাট, হাট-বাজারে ভোটারদের দ্বারে দ্বারে গিয়ে দোয়া চাচ্ছেন।
জাতীয় পার্টির (এ) কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্য কাজী আবুল কাশেম রিপন বলেন, জাতীয় পার্টি একটি নির্বাচনমুখী দল। আমরা উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে অবশ্যই অংশগ্রহণ করব, তবে এখনো কেন্দ্র থেকে কোনো সিদ্ধান্ত আসেনি। জেলা বিএনপির সহ-সভাপতি ও কালাই থানার বিএনপির আহ্বায়ক মোঃ ইব্রাহিম হোসেন বলেন, বর্তমান সরকারের আমলে এবং নির্বাচন কমিশনের অধীনে কোনো নির্বাচন করা সম্ভব নয়। তাই আমরা কোনো নির্বাচনে অংশগ্রহণ করব না। কালাই উপজেলা নির্বাচন অফিসার মোঃ আবুল কালাম বলেন, আগামী উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে বিভিন্ন রাজনীতিক দলগুলো অংশগ্রহণ করবেন। ইতোমধ্যে উপজেলা পরিষদের বিভিন্ন পদে প্রার্থীরা এই এলাকাতে শান্তিপূর্ণভাবে নির্বাচনী কর্মকাণ্ড চালিয়ে যাচ্ছেন।