মহারশী নদীর রাবার ড্যাম

প্রত্যাশিত সুফল পাচ্ছে না ভাটি অঞ্চলের কৃষক!

শেরপুরের ঝিনাইগাতীতে মহারশী নদীর রাবার ড্যামের যথাযথ সুফল পাচ্ছেন না হাজারো কৃষক। উজানে রাবার ড্যাম নির্মাণ করায় ভাটি এলাকার কৃষকরা সেচ সংকটে পড়েছে। শত শত একর জমির বোরো চাষাবাদ ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। দিশেহারা হয়ে পড়েছে হাজারো কৃষক।

জানা যায়, মহারশী নদীর নলকুড়া ইউনিয়নে জাইকা’র প্রকল্পে প্রায় ৯ কোটি টাকায় ২০১৩ সালে একটি রাবার ড্যাম নির্মাণ শুরু করা হয়। যুগ যুগ ধরে কৃষকদের অনাবাদী জমি চাষাবাদের আওতায় আনতে এ রাবার ড্যামটি নির্মাণ করা হয়। ২০১৬ সাল থেকে পরীক্ষামূলকভাবে শুরু হয় এ রাবার ড্যামের পানিতে বোরো আবাদ। রাবার ড্যাম পরিচালনায় গঠন করা হয় মহারশী নদীর পানি ব্যবস্থাপনা সমবায় সমিতি। ওই সমিতির সাধারণ সম্পাদক চিন্তাহরণ হাজং জানান, তাদের সমিতির আওতাভুক্ত কৃষক পরিবার রয়েছে ১ হাজার ২’শ ৫৫ জন। এ রাবার ড্যামের পানি সেচ কাজে ব্যবহার করে ওই সব কৃষকের ৩ হাজার ৫’শ একর জমিতে বোরো চাষের প্রস্তুতি গ্রহণ করা হয়েছে।

জানা যায়, রাবার ড্যামের পানিতে ওই ৩ হাজার ৫’শ একর অনাবাদী জমি আবাদের আওতায় আসলেও ভাটি এলাকার শত শত একর জমি সেচ সংকটে পড়েছে। সেচ সংকটে পড়া ভাটি এলাকার কৃষকরা জানায়, মহারশী নদীর পানি সেচ কাজে ব্যবহার করে তারা যুগযুগ ধরে তাদের জমিতে বোরো আবাদ করে আসছিল। কিন্তু উজানে রাবার ড্যাম নির্মাণ করায় এখন আর নদীতে পর্যাপ্ত পানি নেই। ফলে সেচ দিতে না পারায় তাদের জমিগুলো অনাবাদী থাকার আশঙ্কা করছেন তারা। এসব এলাকাগুলো হচ্ছে নলকুড়া, গজারীপাড়া, ভারুয়া, জারুলতলা, বনকালী, বারুয়ামারী, রামেরকুড়া, ডেফলাই ও শালচূড়া প্রভৃতি। এসব এলাকার কোনো কোনো স্থানে রাবার ড্যামের পানি সরবরাহ করা সম্ভব হলেও পুরো এলাকাগুলোতে আজও পুরোপুরিভাবে তা সম্ভব হয়নি।

উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের কর্মকর্তা হুমায়ুন কবিরের সাথে কথা হলে তিনি বলেন, সুষ্ঠু পরিকল্পনার মাধ্যমে রাবার ড্যামের উজানে চার পাশে বিস্তীর্ণ এলাকাজুড়ে পাকা ড্রেন নির্মাণ করা প্রয়োজন। এতে ওইসব এলাকায় পানি সরবরাহ সম্ভব। এতে সেচ সংকট দূরীকরণের পাশাপাশি বোরো চাষাবাদের আওতায় আসবে সেচ সংকটে পড়া জমিগুলো। এতে বোরো চাষাবাদ করে শত শত কৃষকের আসবে স্বচ্ছতা। কিন্তু সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ রাবার ড্যাম সম্প্রসারণ কর্মকাণ্ড ও সুষ্ঠু পরিকল্পনার অভাবে আজও তা সম্ভব হচ্ছে না। এ ব্যাপারে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রুবেল মাহমুদ ভাটি এলাকার সেচ সংকটের বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, জরুরি ভিত্তিতে আলোচনা মাধ্যমে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। উপজেলা প্রকৌশলী রফিকুল ইসলাম বলেন, রাবার ড্যামের ড্রেন নির্মাণসহ কর্মকাণ্ড সম্প্রসারণের বিষয়ে প্রকল্প প্রণয়ন করে সংশ্লিষ্ট দপ্তরে প্রেরণ করা হয়েছে। বরাদ্দ এলেই সম্প্রসারণ কাজ করে কৃষকদের সেচ সংকট সমাধানের ব্যবস্থা হবে।