মাশরেকা বিনতে মোশাররফ বিশ্বজুড়ে পাটপণ্য সমাদৃত করতে কাজ করছেন। এখন অস্ট্রেলিয়া, জাপান, আমেরিকা, দুবাই ও ভরতে রপ্তানি করছেন পাটপণ্য। কয়েক বছর ধরে বাণিজ্য মেলায় থাকছে তার পণ্যপ্রদর্শনী। স্বপ্ন দেখছেন বাংলাদেশ থেকে করবেন পাটের ব্র্যান্ডিং।
মাশরেকা জানান, ২০০৪ সালে তিনি উচ্চ মাধ্যমিক শেষ করে জার্মানি যান। উদ্দেশ্য গ্রাফিক্স ডিজাইন আর ভাষা শেখা। সেখানে গিয়ে দেখেন—তার সোনার বাংলাদেশকে তেমন কেউ চেনেন না। তাকে ভারতীয় বলেই মনে করেন। বিষয়টি ভাবিয়ে তোলে তাকে। ঠিক করেন এমন কিছু করবেন; যার নাম শুনলেই বাংলাদেশকে চিনবে সবাই। তাই দেশে ফিরে পাটকে বিশেষায়িত করে বিভিন্ন পণ্য তৈরি করতে শুরু করেন। পাটের গবেষণাসহ বিভিন্ন অনুষ্ঠানে যেতে শুরু করেন মাশরেকা। ভাবতে থাকেন— শুধু চট নয়; পাট দিয়ে হবে অনেক পণ্য। সেই ভাবনা থেকে প্রথমে পাটের পাঞ্জাবি তৈরি করেন। কিন্তু বুঝতে পারেন আমাদের দেশের আবহাওয়ায় পাটের পাঞ্জাবি উপযোগী নয়। পরে পাটের কুশনকাভার, ওয়ালম্যাটসহ বিভিন্ন পণ্য তৈরি করেন। এখন তার ১২০ রকমের পাটের কুশনকাভার, ১০০ রকমের ওয়ালম্যাটসহ অনেক ধরনের পণ্য রয়েছে। মাশরেকা দেখেছেন— জার্মানিতে ভারতের কিছু নিম্নমানের পাটজাত পণ্য হলেও ভালো নকশার কারণে কদর রয়েছে। তিনি তাই নকশার পাশপাশি পণ্যের গুণগত মানের দিকেও নজর দেন। মাশরেকা আরও বলেন, মেইড ইন জার্মানি দেখলে আমাদের যেমন একটা নির্ভরতা আসে; পণ্যটি ভালো হবে। আমি ঠিক সেই জায়গা থেকে কাজ করতে চাই। আমি দেখেছি, ভালো পণ্য হলে তার কদর করে ক্রেতা। ক্রেতার গুরুত্ব ব্যবসায় সবচেয়ে বেশি।
কাজের পথের প্রতিবন্ধকতা নিয়ে প্রশ্ন করলে উত্তরে বলেন, আমাদের সমাজে তোমার বউ চাকরি করে এ পর্যন্ত ঠিক আছে। কিন্তু নারীর নিজ উদ্যোগে ব্যবসা পরিচালনা এখনো কিছুটা প্রতিবন্ধকতা রয়েছে। বড় প্রতিবন্ধকতা হলো— মেয়েদের ব্যবসায়িক পরিবেশ। এখানে মেয়েদের ঋণ পাওয়া, ট্রেডলাইসেন্স করা সবই এক একটা যুদ্ধ জয়। আর মেয়েদের মা হওয়ার কথাতো না বললেই না। মা হওয়ার জন্য আমি টানা দুই বছর কাজ বন্ধ রেখেছি। আমার উত্পাদন কমেছে, ঋণ বেড়েছে। তারপরে আবার শুরু করি। পরিশ্রম করে নিজের জায়গায় ফিরে যেতেহয়। মাশরেকা এরই মধ্যে অর্জন করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের ওকলাহোমা বিশ্ববিদ্যালয় তরুণ উদ্যোক্তা ফেলোশিপ। তার পণ্য প্রদর্শিত হয়েছে মালয়েশিয়া ও ভারতে। তাই পাটের ব্র্যান্ডিং-এর স্বপ্নের জায়গায়টাও তার একটু একটু করে বাড়ছে বলে প্রত্যয়ী হন মাশরেকা।