ট্রাম্প আমাকে হত্যার নির্দেশ দিয়েছেন

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বিরুদ্ধে হত্যার নির্দেশ দেওয়ার অভিযোগ এনেছেন ভেনিজুয়েলার সমাজতান্ত্রিক নেতা নিকোলাস মাদুরো। এই অভিযোগের মাধ্যমে বিশ্বের সবচেয়ে বেশি তেল মজুদকারী দেশ ভেনিজুয়েলার সঙ্গে প্রভাবশালী যুক্তরাষ্ট্রের সম্পর্কের বড় ধরনের অবনতি হলো বলে বিশ্লেষকরা ধারণা করছেন। এরই মধ্যে গতকাল স্বঘোষিত অন্তর্বর্তীকালীন প্রেসিডেন্ট হুয়ান গুয়াইদোর সম্পদ জব্দ ও তার ভ্রমণে নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে সুপ্রিম কোর্ট। মাদুরোর কট্টর সমর্থক রাশিয়া ও চীন সংলাপের মাধ্যমে সমাধান চেয়েছে। আর প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প নিজ দেশের নাগরিকদের ভেনিজুয়েলা ভ্রমণে সতর্ক থাকার নির্দেশ দিয়েছেন। খবর সিএনএন, রয়টার্স ও আল-জাজিরা’র

মস্কোর বার্তা সংস্থা আরআইএকে প্রেসিডেন্ট মাদুরো বলেন, এ নিয়ে কোনো সন্দেহ নেই যে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প তাকে হত্যা করার জন্য কলম্বিয়া সরকার এবং দেশটির মাফিয়াকে নির্দেশ দিয়েছেন। তিনি আরো অভিযোগ করেন, গুয়াইদো যুক্তরাষ্ট্রের সহায়তায় তার বিরুদ্ধে অভ্যুত্থানের ষড়যন্ত্র করছেন। তবে যুক্তরাষ্ট্র এবং কলম্বিয়া উভয়ই এই ধরনের অভিযোগ অস্বীকার করে বলেছে, সংকটের সময় মাদুরো এসব অভিযোগ করে পরিস্থিতি নিজের পক্ষে নিতে চান। উল্লেখ্য, সমপ্রতি মার্কিন মিডিয়ায় খবর প্রকাশিত হয়, মার্কিন জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা জন বোল্টনের একটি নোটপ্যাডে লেখা ছিল কলম্বিয়ায় ৫ হাজার সৈন্য। এই খবর প্রকাশিত হওয়ার পর গুঞ্জন শুরু হয়েছে, ভেনিজুয়েলায় যুক্তরাষ্ট্র সামরিক হামলা চালাতে পারে। সাক্ষাত্কারে মাদুরো আলোচনায় রাজি উল্লেখ করে বিরোধী দল ও ইইউভুক্ত চার দেশের আগাম নির্বাচনের দাবি নাকচ করে দিয়েছেন। তিনি বলেন, সাম্রাজ্যবাদীরা যদি নির্বাচন চান তাহলে তাদেরকে ২০২৫ সাল পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে।

গুয়াইদোর সম্পদ জব্দ

বিরোধী নেতা গুয়াইদোর সম্পদ জব্দ এবং তার ভ্রমণে নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে কারাকাসের সুপ্রিম কোর্ট। এর আগে অ্যাটর্নি জেনারেল সর্বোচ্চ আদালতে সম্পদ জব্দ ও ভ্রমণে নিষেধাজ্ঞার আবেদন জানিয়েছিলেন। সেই আবেদনের প্রেক্ষিতে সুপ্রিম কোর্ট গুয়াইদোর ব্যাংক অ্যাকাউন্ট জব্দেরও নির্দেশ দেয়। গুয়াইদোর বিরুদ্ধে সুপ্রিম কোর্টের এই নির্দেশের পর ব্যাপক বিক্ষোভের খবর পাওয়া গেছে।

এর আগে যুক্তরাষ্ট্র হুঁশিয়ারি দিয়েছিল, গুয়াইদোর বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হলে কঠোর জবাব দেওয়া হবে। এমনকি গুয়াইদোকে আর্থিকভাবে শক্তিশালী করতে যুক্তরাষ্ট্র দেশটির তেলের ওপর নিষেধাজ্ঞা দেয়। এতে মাদুরো তেল থেকে অর্জিত আয় পাবেন না। যুক্তরাষ্ট্রই ভেনিজুয়েলার সবচেয়ে বড় তেল আমদানিকারক দেশ। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের প্রশাসন যুক্তরাষ্ট্রে ভেনিজুয়েলার বিভিন্ন ব্যাংক অ্যাকাউন্টের নিয়ন্ত্রণও গুয়াইদোর হাতে তুলে দিয়েছে।

সংলাপ চায় রাশিয়া ও চীন

ভেনিজুয়েলায় কোটি কোটি ডলার বিনিয়োগ করেছে রাশিয়া ও চীন। দুই দেশই বিরোধী নেতা গুয়াইদোকে আগাম নির্বাচনের দাবি থেকে সরে এসে সংলাপের পথে হাঁটার আহবান জানিয়েছে।

ট্রাম্পের সতর্কবার্তা

রাজনৈতিক সহিংসতার মধ্যে ভেনিজুয়েলা ভ্রমণে সতর্কবার্তা জারি করেছেন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প। এক টুইটার বার্তায় প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প বলেন, দেশটির বর্তমান পরিস্থিতিতে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত মার্কিনীদের সেখানে চলাচল করা উচিত হবে না। যুক্তরাষ্ট্র অন্তর্বর্তীকালীন প্রেসিডেন্ট হিসেবে গুয়াইদাকে স্বীকৃতি দিয়েছে।