নারায়ণগঞ্জ-নরসিংদী ইরিগেশন প্রকল্পে পানির অভাবে রূপগঞ্জে ৭০০ হেক্টর জমি অনাবাদি

দেরিতে পানি ছাড়ার কারণে চলতি ইরি-বোরো মৌসুমে নারায়ণগঞ্জ-নরসিংদী ইরিগেশন প্রকল্পের বানিয়াদি পাম্প হাউসের আওতাধীন প্রায় ৭০০ হেক্টর জমি অনাবাদি হয়ে পড়েছে। অভিযোগ উঠেছে, পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) কর্মকর্তা ও ঠিকাদারের গাফিলতির কারণেই এমনটি হয়েছে। স্থানীয় কৃষকদের অভিযোগ, প্রকল্পের প্রধান খাল ও ক্যানেল সংস্কারের জন্য বরাদ্দকৃত ১০ লাখ টাকা ঠিকাদার ও পাউবোর কতিপয় কর্মকর্তা ভাগ-বাটোয়ারা করে হাতিয়ে নিয়েছেন। 

উপজেলা কৃষি অফিসের দেওয়া তথ্যমতে, নারায়ণগঞ্জ-নরসিংদী ইরিগেশন প্রকল্পের রূপগঞ্জের বানিয়াদী পাম্প হাউজের আওতাধীন ২০৪০ হেক্টর জমি রয়েছে। এর মধ্যে ১২০০ হেক্টর জমি সেচযোগ্য। স্থানীয় কৃষকরা জানান, চলতি মৌসুমে ১২০০ হেক্টর জমির মধ্যে মাত্র ৪০০ হেক্টরের মতো জমি চাষাবাদ হয়েছে। কারণ হিসাবে কৃষকরা জানান, নভেম্বর-ডিসেম্বর মাসে সেচের পানি ছাড়ার উপযুক্ত সময় হলেও এবার পানি উন্নয়ন বোর্ডের কর্মকর্তারা অনেক দেরি করে পানি ছেড়েছেন। তাও আবার অল্প অল্প করে। প্রধান সেচ ক্যানেলের অবস্থা খারাপ থাকায় পানি প্রবাহে ব্যাহত হচ্ছে। ক্যানেল পরিষ্কার করার কথা থাকলে পাউবোর ঠিকাদার মেসার্স আসিফ এন্টারপ্রাইজের স্বত্বাধিকারী আরিফ হাসান পাউবোর কতিপয় কর্মকর্তাদের সঙ্গে যোগসাজশে সংস্কারের জন্য বরাদ্দকৃত ১০ লাখ টাকা ভাগ-বাটোয়ারা করে নিয়েছেন। কৃষকরা বলছেন, মৌসুম চলে যাচ্ছে। এবারে বোরো চাষের লক্ষ্যমাত্রা অর্জিত হবে না।

সরেজমিনে ঘুরে দেখা গেছে, বানিয়াদী পাম্প হাউসের আওতাধীন মুড়াপাড়া, হাউলিপাড়া, বানিয়াদী, হাটাবো এলাকায় এখনো শত শত হেক্টর জমি অনাবাদি পড়ে রয়েছে। পানির অভাবে অনেক জমি ফেটে চৌচির হয়ে  গেছে। প্রায় ৪০০ হেক্টর জমি চাষাবাদ হলেও এসব জমির মালিকরা দ্বিগুণ টাকা খরচে ভিন্ন ব্যবস্থায় জমিতে সেচ দেওয়ার ব্যবস্থা করেছেন। কথা হয় হাটাবো এলাকার কৃষক ষাটোর্ধ্ব মকবুল মিয়ার সঙ্গে। তিনি এবার প্রায় ৫ বিঘা জমিতে বোরো চাষের প্রস্তুতি নিয়েছেন। কিন্তু সেচের পানির অভাবে তিনি এখনো চাষাবাদ শুরু করতে পারেননি। ফলে এবার ঘরে ফসল তুলতে পারবেন কিনা তা নিয়ে খুবই চিন্তিত তিনি। বৃদ্ধ মকবুল হোসেন বলেন, ‘পানি আহনের ডেরেনগুইলা (ক্যানেল) ভাঙাচোরা। গেটের লোকজন (পাউবো) ঠিকমতন পানি ছাড়ে না।’ মিয়াবাড়ি এলাকার নাঈম মিয়া প্রতি বছর ৩ বিঘা জমি বর্গা চাষ করেন। পানির অভাবে এবার তিনি এক বিঘা জমিও চাষ করতে পারেননি। উপজেলা কৃষি অফিসার তাজুল ইসলাম বলেন, কত বিঘা জমি অনাবাদি তা জানা নেই। তবে পানি দেরি করে ছাড়ার কারণে এবার ফসল উত্পাদন কম হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। বানিয়াদী ব্লকে দায়িত্বরত কৃষি বিভাগের উপ-সহকারী কর্মকর্তা খাইরুন নাহার বলেন, পানি যথাসময়ে না ছাড়ার কারণে জমি অনাবাদি রয়ে গেছে। তবে ঠিক কী পরিমাণ জমি অনাবাদি তা তাদের রেকর্ডে নেই বলে জানান। তিনি বলেন, পানি প্রবাহের খালগুলো ব্লক হয়ে পড়েছে। এদিকে অভিযুক্ত ঠিকাদার আসিফ হোসেনের সঙ্গে  যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাকে পাওয়া যায়নি। পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী নজরুল ইসলাম বলেন, নানা জটিলতার কারণে পানি ছাড়তে একটু সমস্যা হয়েছে। তবে এতে তেমন সমস্যা নেই। ফলন কিছুটা কম হতে পারে। ক্যানেল বরাদ্দের টাকার অনিয়মের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বিষয়টি অস্বীকার করেন।