করোনাভাইরাস মোকাবিলায় দরিদ্র দেশগুলোতে টিকা পাওয়া সহজ করতে স্বত্বে ছাড়ের প্রস্তাবে চাপের মুখে যুক্তরাষ্ট্র সমর্থন দিলেও বিশ্বের বৃহত্ অর্থনৈতিক দেশগুলোর জোট জি-২০ আপাতত সে পথে হাঁটছে না। কোভিড-১৯ টিকার স্বত্ব ছাড়ের বদলে যুক্তরাষ্ট্রসহ ২০ দেশের এই জোট দরিদ্র দেশগুলোতে টিকা তৈরির জন্য লাইসেন্স বিনিময়, প্রস্তুত প্রণালী ও প্রযুক্তি হস্তান্তর করতে চায় বলে একটি শীর্ষ সম্মেলনের খসড়া প্রস্তাবকে উদ্ধৃত করে জানিয়েছে রয়টার্স।
শুধু তাই নয়, এর আগে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থাকে বাড়তি তহবিল জোগানোর জন্য যুক্তরাষ্ট্র যে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল তাও খসড়ার ‘হালে পানি পায়নি’। শুক্রবার রোমে অনুষ্ঠেয় বিশ্ব স্বাস্থ্য সম্মেলনে ঘোষণাপত্র হিসেবে যে খসড়া প্রস্তাবটি গৃহীত হতে যাচ্ছে, তাতে জি-২০ জোটের সদস্য রাষ্ট্র ও অংশগ্রহণকারী অন্য দেশের প্রতিশ্রুতিগুলোর নাম রয়েছে।
চলমান মহামারি মোকাবিলায় সমন্বিত বৈশ্বিক পদক্ষেপ নিয়ে এ বছরের অন্যতম বড় আয়োজন এটি। এই খসড়া প্রস্তাবটি পরিবর্তনের সুযোগ থাকলেও এর মধ্য দিয়ে টিকার পেটেন্ট ছাড়ে সমর্থন ও বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থাকে (ডব্লিউএইচও) বাড়তি তহবিল যোগানোর বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের যে প্রতিশ্রুতি, তার কার্যকারিতা প্রশ্নের মুখে পড়েছে। খসড়া ঘোষণাপত্রটি জি-২০ দেশগুলোর বিশেষজ্ঞদের মধ্যে সমঝোতার ফল, যেখানে কোভিড-১৯ টিকার মেধাস্বত্ব শিথিলের প্রস্তাবে মতভেদ রয়ে গেছে। মে মাসের শুরুতে কোভিড-১৯ টিকার ‘পেটেন্ট’ সাময়িকভাবে শিথিলে ভারত ও সাউথ আফ্রিকার আনা প্রস্তাবে সমর্থন দিয়েছিল জো বাইডেন প্রশাসন।
তবে ইউরোপীয় ইউনিয়নসহ অন্যান্য টিকা উত্পাদনকারী দেশ এ ব্যাপারে তাদের উত্কণ্ঠা জানায়। তাদের ভাষ্য, টিকা উত্পাদনের কাঁচামাল রপ্তানিতে যুক্তরাষ্ট্রের নিয়ন্ত্রণ তুলে নেওয়া, টিকা উত্পাদনের কলা-কৌশল বিনিময় এবং টিকা উত্পাদকদের মধ্যে ‘স্বেচ্ছা সহযোগিতা’ নিশ্চিত হলেই বরং দ্রুততার সঙ্গে বিশ্ব জুড়ে টিকা উত্পাদন বাড়ানো সম্ভব হবে।
স্বাস্থ্য সম্মেলনের খসড়া সমাপনী ঘোষণাপত্রে এই মতভেদের বিষয় প্রতিফলিত হয়েছে এবং ‘পেটেন্ট’ শিথিল করার ব্যাপারে কিছুই বলা হয়নি। জি-২০ দেশের নেতারা বরং ‘পেটেন্ট-পুল’ তৈরি করার একটি প্রতিশ্রুতি দিতে যাচ্ছেন। এটাও ওষুধ কোম্পানিগুলোর জন্য ‘অবন্ধুসুলভ’ পদক্ষেপ হলেও পেটেন্ট শিথিল করার মতো কড়া পদক্ষেপের চেয়ে অনেক ভালো বলে ওষুধ শিল্পখাতের এক বিশেষজ্ঞ মনে করছেন। পেটেন্ট পুলের অধীনে দরিদ্র দেশগুলোতে উত্পাদনের জন্য স্বেচ্ছায় পণ্যের ‘নিবন্ধন বিনিময়’ করার বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেবে ওষুধ উত্পাদকেরা। আফ্রিকায় এইচআইভির ওষুধ সহজে উত্পাদনের জন্য এই পুল পদ্ধতি ব্যবহার করা হয়েছিল।
ইত্তেফাক/টিআর