মালয়েশিয়া হেলথকেয়ার ট্রাভেল কাউন্সিল ঢাকায় বাংলাদেশের স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে বৈঠক করেছে। বাংলাদেশি রোগীদের মালয়েশিয়ায় চিকিৎসা গ্রহণ থেকে অর্জিত স্বাস্থ্যসেবা ভ্রমণ রাজস্ব গত বছরের তুলনায় ২২.৭ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে।
বাংলাদেশে নিযুক্ত মালয়েশিয়ার হাইকমিশনার মোহাম্মদ শুহাদা ওসমান-এর নেতৃত্বে মালয়েশিয়া হেলথকেয়ার ট্রাভেল কাউন্সিল-এর একটি প্রতিনিধি দল আজ বাংলাদেশের স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন-এর কার্যালয়ে বৈঠক করে। বৈঠকের উদ্দেশ্য ছিল বাংলাদেশ ও মালয়েশিয়ার মধ্যে স্বাস্থ্যসেবা সহযোগিতা আরও এগিয়ে নেওয়া।
এই বৈঠকটি ১৭ থেকে ২০ আগস্ট ২০২৬ পর্যন্ত বাংলাদেশে এমএইচটিসির কর্মসূচি ও সফরের অংশ। এটি ২২ জুন ২০২৬ তারিখে বাংলাদেশের মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর মালয়েশিয়া সফরের মাধ্যমে তৈরি হওয়া সহযোগিতার ধারাবাহিকতার অংশ।
সফরের সময় দুই দেশের নেতৃবৃন্দ স্বাস্থ্যখাতে দ্বিপাক্ষিক সহযোগিতা সম্প্রসারণের ব্যাপারে আশাবাদ ব্যক্ত করেন, বিশেষ করে মালয়েশিয়া চিকিৎসা পর্যটন বর্ষ ২০২৬ এর সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে।
বৈঠকে স্বাস্থ্যসেবা ও মেডিকেল ট্যুরিজম খাতে আরও ঘনিষ্ঠ সহযোগিতার সুযোগ নিয়ে আলোচনা করা হয়। পাশাপাশি বাংলাদেশ ও মালয়েশিয়ার দীর্ঘদিনের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক আরও শক্তিশালী করার বিষয়েও গুরুত্ব দেওয়া হয়।
বাংলাদেশ থেকে মালয়েশিয়ায় চিকিৎসা নেওয়ার ক্রমবর্ধমান চাহিদা এই সহযোগিতার পেছনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। বাংলাদেশি রোগীদের কাছ থেকে মালয়েশিয়ার স্বাস্থ্যসেবা ভ্রমণ খাতের আয় ২০২৫ সালের প্রথম প্রান্তিকে RM 2.2 million থেকে ২০২৬ সালের প্রথম প্রান্তিকে RM 2.7 million-এ উন্নীত হয়েছে। অর্থাৎ এক বছরে ২২.৭ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে।
স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন বাংলাদেশের বৃহত্তর জনগোষ্ঠীর জন্য মালয়েশিয়ার স্বাস্থ্যসেবা আরও সহজলভ্য ও সাশ্রয়ী করার গুরুত্ব তুলে ধরেন। এর মধ্যে প্রতিযোগিতামূলক মূল্য নির্ধারণ এবং সম্ভব হলে বিশেষ চিকিৎসা প্যাকেজ চালুর বিষয়েও গুরুত্ব দেওয়া হয়।
তিনি আরও বলেন, রোগী ও হাসপাতালের মধ্যে সুস্পষ্ট ও কার্যকর যোগাযোগ ব্যবস্থা থাকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, যাতে রোগীদের চিকিৎসা গ্রহণের পুরো প্রক্রিয়াটি সহজ ও নির্বিঘ্ন হয়।
দুই দেশের ডাক্তার ও হাসপাতালের মধ্যে জ্ঞান ও তথ্য বিনিময়ের আরও সুযোগ তৈরির বিষয়টিও তুলে ধরা হয়। এর মধ্যে রয়েছে পেশাগত যোগাযোগ ও সহযোগিতা, কারিগরি সহযোগিতা, দক্ষতা ও সক্ষমতা বৃদ্ধি, চিকিৎসা-সংক্রান্ত জ্ঞান বিনিময় এবং বিশেষজ্ঞদের মধ্যে সহযোগিতা ও প্রশিক্ষণ।
এমএইচটিসির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা দাতো’ সুরিয়াগান্দি সুপ্পিয়াহ বলেন: “বাংলাদেশ ও মালয়েশিয়ার মধ্যে পাঁচ দশকেরও বেশি সময়ের অংশীদারিত্ব রয়েছে। এখন সেই সম্পর্ককে স্বাস্থ্যসেবা খাতেও বাস্তব সহযোগিতায় রূপ দেওয়ার সময় এসেছে। শুধু চিকিৎসা ভ্রমণ নয়, দক্ষতা, মানদণ্ড ও জ্ঞান বিনিময়ের মাধ্যমে উভয় দেশের স্বাস্থ্যব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী করাই লক্ষ্য।”
আরভিং এভিয়েশন-এর ভূমিকা
বাংলাদেশে এমএইচটিসির স্থানীয় অংশীদার আরভিং এভিয়েশন-এর প্রতিনিধিত্বকারী এইচবিএম লুৎফুর রহমান বলেন, মালয়েশিয়ার স্বাস্থ্যসেবা বাংলাদেশি রোগীদের জন্য বিভিন্ন সুবিধা দিতে পারে।
এর মধ্যে রয়েছে অভিজ্ঞ বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের সেবা, প্রতিষ্ঠিত ও উন্নত চিকিৎসা প্রতিষ্ঠান, মুসলিম-বান্ধব পরিবেশ, হালাল খাবার এবং মালয়েশিয়ার বিখ্যাত আতিথেয়তা।
রোগীকেন্দ্রিক ও নিরাপদ চিকিৎসা ব্যবস্থা
বাংলাদেশ ও মালয়েশিয়ার স্বাস্থ্যসেবা সহযোগিতাকে একটি সুশৃঙ্খল, নৈতিক এবং রোগীকেন্দ্রিক ব্যবস্থায় গড়ে তোলাই এই উদ্যোগের অন্যতম লক্ষ্য।
আলোচনার বিষয়গুলোর মধ্যে রয়েছে: স্বচ্ছ মেডিকেল ট্রাভেল ব্যবস্থা; জ্ঞান ও তথ্য বিনিময়; সক্ষমতা বৃদ্ধি; বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের বিনিময় ও প্রশিক্ষণ; রোগীর নিরাপত্তা; চিকিৎসার মান নিশ্চিতকরণ; চিকিৎসার আগে, চিকিৎসার সময় এবং চিকিৎসার পর আরও ভালো সমন্বয়; এবং বাংলাদেশে ফিরে আসার পর রোগীর চিকিৎসার ধারাবাহিকতা নিশ্চিত করা।
মালয়েশিয়া বাংলাদেশি রোগীদের জন্য সহজলভ্যতা, উন্নত চিকিৎসা, মুসলিম-বান্ধব পরিবেশ, উচ্চ নিরাপত্তা মান, বিশেষায়িত স্বাস্থ্যসেবা এবং মালয়েশিয়ার আতিথেয়তার সমন্বয় প্রদান করে।

