বিশ্বকাপ বাছাইয়ের খেলা হবে কাতারের রাজধানী দোহায়। যে কোনো দল মূল লড়াইয়ে নামার আগে সেখানকার আবহাওয়ার সঙ্গে মানিয়ে নিতে আগেভাগে চলে যান সেখানে। বাংলাদেশের প্রতিপক্ষ ভারত ফুটবল দল এখন দোহায় অনুশীলন করছে। মানিয়ে নিতে সুনীল ছেত্রীরা চলে গেছেন সেখানে। সুনীলরা ভারতে প্রয়োজনীয় সব ধরনের সুবিধা পাবে। আর বাংলাদেশের ফুটবলারদের দোহায় পাঠাতে পারেনি বাফুফে। বাধ্য হয়েই ঢাকায় অনুশীলন করে দোহার সঙ্গে মানিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করছেন সুমন রেজারা। একদিন বিরতি দিয়ে গতকাল আবার বঙ্গবন্ধু স্টেডিয়ামে ফুটবল অনুশীলন শুরু হয়েছে।
গতকাল জাতীয় দলের অনুশীলনের সময় স্ট্রাইকার সুমন রেজা কথা বলেছেন সংবাদমাধ্যমের সঙ্গে। প্রচণ্ড গরমে সকাল ১০টায় অনুশীলন শুরু হয়। উত্তর বারিধারার এই ফুটবলার খুব সুন্দর একটি কথা বলেছেন। চামড়া পোড়ানো গরমে অনুশীলন করে ফর্সা হাত কালো হয়ে গিয়েছে। বলছিলেন, আমাদের হাতের একাংশ কালো হয়ে গেছে। চেহারা কালো হয়ে গেছে। আমরা হার্ড ওয়ার্ক করছি। শুধুমাত্র রেজাল্টের আশায়। কষ্টের ছবিটা মনের ভেতরে রাখছি না শুধু রেজাল্ট পাওয়ার আশায়।’
এসব কথা বলার পর সুমন রেজা সাহস নিয়ে বললেন, বিশ্বকাপ বাছাইয়ে তিন ম্যাচই জিততে চান তিনি। তিন ম্যাচ না হলেও দুটি ম্যাচ জিততে পারেন তারা। সুমন রেজা বললেন, ‘আমরা ভারত ও ওমানের সঙ্গে জিততে চাই।’ সুমন রেজা তরুণ ফুটবলার। ঢাকার মাঠে খুব একটা পরিচিত না হলেও এই স্ট্রাইকার লিগে ৬ গোল করেছেন। জাতীয় দলে জায়গা করে নিয়েছেন। সাহস নিয়ে বললেন, ‘না জিতলেও ড্র হোক। আমরা ম্যাচ হারতে চাই না।’ ই গ্রুপে ৩ জুন আফগানিস্তান, ৭ জুন ভারত এবং ১৫ জুন ওমানের বিপক্ষে বাংলাদেশের শেষ ম্যাচ।
বাংলাদেশ ফুটবল দল ম্যাচের চার দিন আগে ৩০ মে কাতার যাবে। মূলত ঢাকার অনুশীলনের ওপর ভর করেই প্রথম ম্যাচে আফগানিস্তানের বিপক্ষে লড়াই করতে হবে। প্রথম ধাক্কা সামাল দিয়ে না উঠতেই তিন দিন পরই ভারতের বিপক্ষে লড়াই। এই বাছাইয়ে আফগানিস্তানের বিপক্ষে প্রথম দেখায় ১-০ গোলে হেরেছিল বাংলাদেশ। আর ভারতের বিপক্ষে গোল করে এগিয়েও সেই ম্যাচটা ১-১ গোলে ড্র হয়। শেষ ম্যাচে ওমানের আগে সাত দিন প্রস্তুতির সুযোগ পাবে সুমন রেজাদের বাংলাদেশ।
সুমন বললেন, ‘খেলাধুলায় হার-জিত আছে। আমরা তিন ম্যাচ নিয়েই কাজ করছি।’ বাংলাদেশের ফুটবলাররা খেলতে নেমে বল পাস দেওয়ার সময় সিদ্ধান্তহীনতায় ভোগে। সুমন বললেন, ‘এটা ঠিক হয়ে যাবে। অনেক দিন এক সঙ্গে জাতীয় অনুশীলন হলে এই সমস্যা থাকবে না। আসলে জাতীয় দলে আমরা এবার ব্যক্তিগতভাবে কে কি করব সেটা বড় কথা নয়। আমরা সবাই মিলে একটা টিম হয়ে কাজ করছি।’
ইত্তেফাক/জেডএইচডি