কুমিল্লা শহরতলীর দূর্গাপুর এলাকায় তুচ্ছ ঘটনায় চাঞ্চল্যকর মনির হোসেন হত্যা মামলার এজাহার নামীয় ৫ আসামিকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ৩ দিনের রিমান্ডে নেওয়া হয়েছে।
মঙ্গলবার (২৫ মে) সকাল ১০টার দিকে কুমিল্লা কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে তাদেরকে কোতোয়ালি মডেল থানায় নেয়া হয়। এর আগে এ মামলার গ্রেফতারকৃত আরেক আসামি এরশাদ হত্যার দায় স্বীকার করে গত ১৮ মে আদালতে জবানবন্দি দিয়েছেন। মঙ্গলবার বিকালে এসব বিষয় নিশ্চিত করেন মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই ফারুক আহাম্মদ।
উল্লেখ্য, গত ১৩ মে মামলার আসামিরা ক্ষুদে ব্যবসায়ী মনির হোসেনকে মোবাইল চুরির মিথ্যা অপবাদ দিয়ে ঘোড়ামারা কৃষ্ণনগর গ্রামের তাদের বাড়িতে নিয়ে মারধর করে। পরে আশঙ্কাজনক অবস্থায় তারা তাকে কুমিল্লা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে জরুরি বিভাগের রেজিস্টারে ‘নাম ও পরিচয় অজ্ঞাত’ উল্লেখে ভর্তি করিয়ে পালিয়ে যায়। ওইদিন রাতে মনির মারা যান। পরদিন হাসপাতাল থেকে পুলিশ ময়নাতদন্তের পর তার লাশ ‘বেওয়ারিশ’ হিসেবে গ্রহণ করে এবং ১৫ মে আঞ্জুমানের মাধ্যমে নগরীর টিক্কারচর কবরস্থানে দাফন করা হয়।
এদিকে তার খোঁজে স্বজনেরা ঘটনার ৪ দিন পর থানায় গিয়ে ছবি দেখে বেওয়ারিশ লাশটি মনিরের বলে শনাক্ত করে। এ ঘটনায় নিহতের স্ত্রী সালমা বেগম বাদি হয়ে ৮ জনের বিরুদ্ধে থানায় হত্যা মামলা করেন। পুলিশ এ মামলার আসামি আমির আলী, এরশাদ, তৌহিদ, আজাদ, রাশেদ মিয়া ও জাহিদকে গত ১৭ মে গ্রেফতার করে।
মঙ্গলবার বিকেলে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই ফারুক আহাম্মদ জানান, ‘এ মামলায় গ্রেফতারকৃত ৬ জনের মধ্যে আসামি এরশাদ হত্যার দায় স্বীকার করে আদালতে জবানবন্দি দিয়েছে। অপর ৫ আসামিকে রিমান্ডে এনে জিজ্ঞাসাবাদ চলছে। তাদের কাছ থেকে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া যাচ্ছে।’
এর আগে গত ১৮ মে ইত্তেফাকে ‘কুমিল্লায় ‘বেওয়ারিশ’ লাশটি ব্যবসায়ী মনিরের, তুচ্ছ ঘটনায় খুন’ শিরোনামে সংবাদ প্রকাশিত হয়।
ইত্তেফাক/এমএএম