চাঁদপুর প্রতিনিধি
চাঁদপুর সদর ও হাইমচর উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নে নদী থেকে বুলডেজার দিয়ে অবৈধভাবে বালু ও মাটি উত্তোলন বন্ধে এলাকাবাসীর পক্ষে হাইকোর্টে একটি রিট আবেদন দায়ের করা হয়েছে। সরকারি সংশ্লিষ্ট অফিসে আবেদন নিবেদন করেও কোনো সুরাহা না হওয়ায় অবশেষে গত ২৯ জানুয়ারি এলাকাবাসীর পক্ষে জেলার খালিশপুর গ্রামের মাহমুদুল হাসান রিট পিটিশনটি দায়ের করেন। আবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে চাঁদপুর জেলার রাজরাজেশ্বর, নীলার চর, ইব্রাহিমপর, জাফরাবাদ, সফরমালি, দক্ষিণ পোয়ারচর, মনোহরকান্দি চর জহিরউদ্দিন, চর প্রকাশ, চর লগ্নিমারা, চর জাহাজমারা, মরারচর, চালতাতলী গুনানন্দী, গোরাপিয়া, ইন্দুলী. সাখুয়া, ইচলী ও মির্জাপর মৌজায় মেসার্স সেলিম এন্টারপ্রাইজ ও ইব্রাহিমপুর, রাজরাজেশ্বর ও নীলারচর চর শেলাদী, পশ্চিম চরকৃষ্ণপুর, চরজহিরউদ্দিন, নীলকমল, মনিপুর মৌজায় মেসার্স বৃষ্টি এন্টারপ্রাইজ নামের দু’টি প্রতিষ্ঠান দীর্ঘদিন যাবত্ নদীর তলদেশ থেকে দিন-রাত ৩১টি ড্রেজার দিয়ে অবৈধভাবে বালি ও মাটি কেটে প্রতিবছর কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে। এতে চাঁদপুর মোলহেড ও শহর রক্ষা বাঁধ যেকোনো মুহূর্তে দেবে গিয়ে নদীগর্ভে বিলীন হতে পারে। এছাড়া সরকারি প্রশাসনিক ভবনসহ এলাকার লক্ষাধিক বাড়িঘর নদীগর্ভে বিলীন হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। এছাড়া বালি উত্তোলন বন্ধে সাবেক সাংসদ ড. মোহাম্মদ সামছুল হক ভূঁইয়া ২০১৫ সালে ভূমি মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব বরাবর আবেদন করেন। ইতোপূর্বে বালি ও মাটি উত্তোলন বন্ধে তিনি ভূমি মন্ত্রণালয়, নৌ-পরিবহন মন্ত্রণালয়, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও চাঁদপুর জেলা প্রশাসক বরাবর আবেদন করেন।
রিট পিটিশনকারী হাসান মাহমুদ বলেন, অনেক বছর ধরে সরকারি সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার দপ্তরে আবেদন নিবেদন করেছি। বালি ও মাটি উত্তোলন বন্ধে কোনো সুরাহা হয়নি। ক্ষতিগ্রস্ত আমার এলাকাবাসীর অনুরোধেই আদালতে রিট পিটিশন করেছি। আশা করছি, এবার আমাদের আশা পূরণ হবে।