ট্যাব ও ফোনের স্ক্রিন থেকে শিশুদের দূরে রাখুন

শতাব্দী জুবায়ের

 

এখন শহরের অধিকাংশ শিশুদের নাকের ডগায় ঝুলে থাকে চশমা। মাঝে মাঝে আশ্চর্য হই। এত অল্প বয়সে ওদের চোখে চশমা কেন? এক সদ্য পাস করা এক ডাক্তার বন্ধুর বক্তব্য—এখন বাবা-মায়েরা শিশুদের যাচ্ছেতাভাবে নিজেদের মোবাইলফোনটি ব্যবহার করতে দেন অথবা বিনোদনের জন্য কিনে দেন ট্যাব—যা দিয়ে অবসর কিংবা পড়াশোনা ফাঁকি দিয়ে নানা ধরনের গেম খেলে। সারাক্ষণ তাকিয়ে থাকে মোবাইল বা ট্যাবের স্ক্রিনের দিকে। ফলে সে দূরের অথবা কাছের বস্তু ঝাপসা দেখে অথবা দেখতে পায় না স্পষ্টভাবে। এই রোগটাকে বলা হয় চোখের ক্ষীণ দৃষ্টি সমস্যা। এই রোগের কারণে ক্লাসের পেছনে বসলে সামনের বোর্ড স্পষ্ট দেখতে পায় না শিশুরা।

চিকিত্সক বলেছেন, দিনের বেশিরভাগ সময় স্মার্টফোনের স্ক্রিনে চোখ রাখার কারণে ক্ষীণ দৃষ্টিতে আক্রান্ত হয় শিশুরা। ফোনে ইউটিউবে বিভিন্ন ভিডিও দেখে, গেমস খেলে চোখের পলক না ফেলে বিরামহীনভাবে। ফলে এই দৃষ্টি সমস্যা দেখা দেয়।

পত্রিকার প্রতিবেদন থেকে জানা যাচ্ছে, এক দশক আগেও ৮ থেকে ১০ বছরের শিশুদের এমন অবস্থা দেখা না  গেলেও, বর্তমানে স্মার্টফোন আর ট্যাবের অতিরিক্ত ব্যবহারের কারণে শিশুদের এই রোগে আক্রান্ত হতে দেখা যাচ্ছে। আমরা আমাদের শিশুদের ভালোভাবে রাখতে চাই। যেহেতু ভালো রাখতে চাই তাই স্মার্ট ফোন, ট্যাব থেকে দূরে রাখতে হবে তাদের। এই বিষয়ে সর্বদা সজাগ থাকা জরুরি বাবা-মা তথা অভিভাবকদের।

বিশেষজ্ঞরা আরো  বলছেন, শিশুদের চোখে অতিরিক্ত স্ক্রিন অ্যাক্টিভিটি বড়দের চোখের চেয়ে অনেক বেশি ক্ষতি করে। কারণ তাদের চোখ এখনো পরিপক্ব হয়ে ওঠেনি। কোমল চোখে স্ক্রিনের আলো পড়লে সেটা সহজেই চোখকে আক্রান্ত করতে পারে।

বর্তমানে দেখা যাচ্ছে, গ্রামের চেয়ে শহরের শিশুদের চোখে এই সমস্যা বেশি। এর কারণ অতিরিক্ত ডিভাইস ব্যবহার করা। দীর্ঘ সময় চোখ স্ক্রিনে রাখার ফলে, স্ক্রিন থেকে আসা রশ্মি শিশুদের চোখের ক্ষতি করছে এবং চোখ স্থির হয়ে থাকার কারণে চোখ শুকনো হয়ে যায়, ফলে চোখের বিভিন্ন ক্রটি দেখা দেয়।

শিশুদের যে সময় দূরের দৃষ্টি তৈরি হওয়ার কথা, সে সময়ই তারা মোবাইল ফোনের কিংবা ট্যাবের স্ক্রিনে দৃষ্টিকে আটকে রাখছে। যে কারণে দূরের দৃষ্টি প্রসারিত হতে পারছে না। তাদের দৃষ্টিশক্তি বাড়ছে না।

গ্রামের চেয়ে শহরের শিশুদের চোখের সমস্যাটা বেশি। কেন বেশি সেটা জানার জন্য বেশি দূরে যাওয়ার দরকার নেই। একটু ভাবলেই বোঝা যায়। যেখানে শিশুর দৃষ্টি দিগন্ত বিস্তৃত থাকার কথা সেখানে আটকে থাকছে ট্যাবের স্ক্রিনে। সমস্যা তো হবেই। এটাই স্বাভাবিক।

এসব বিষয় থেকে উত্তোরণের জন্য অভিভাবকদের সচেতন হওয়ার বিকল্প নেই। শিশু যদি টিভির সামনে গিয়ে টিভি দেখে, বোর্ডেও লেখা ঝাপসা দেখে তাহলে চিকিত্সকে কাছে যেতে হবে। দেরি করা যাবে না। এখন শহরে প্রধান যে সমস্যা তা হলো শিশুদের খেলার জায়গা নেই। তারা কলোনির রাস্তায় খেলে। আবদ্ধ থাকে চার দেয়ালে মধ্যে। ঘরে বসে বসে তারা ট্যাব, মোবাইলফোন এবং ল্যাপটপের স্ক্রিনে আসক্ত হয়ে পড়ছে।

শিশুদের রোদে মাঠে খেলতে দিন এবং ট্যাব মোবাইল ফোনের স্ক্রিন থেকে দূরে রাখুন। শিশুরা টেকনোলজি অবশ্যই ব্যবহার করবে তবে তা অতিরিক্ত না। এমনভাবে ব্যবহার করবে যাতে তার কোনো ক্ষতি না হয়। আর তার জন্য সজাগ থাকতে হবে অভিভাবকদের।

কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়