ঢাকা আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মেলায় ছুটির দিনে লোক সমাগম বেশি হয়। একই ছাদের নিচে ঘোরাঘুরির পাশাপাশি নিত্য প্রয়োজনীয় সব জিনিসপত্র একসাথে কেনাকাটাও করা যায় মেলার মাঠে। সঙ্গে মূল্যছাড় তো আছেই। এজন্য কর্মব্যস্ত মানুষ সাপ্তাহিক ছুটির দিনকে কাজে লাগিয়ে বেরিয়ে পড়েন সপরিবারে। অন্যদিকে বিক্রেতারাও সাপ্তাহিক ছুটির দিনের অপেক্ষায় থাকেন। এজন্য আয়োজক ও ব্যবসায়ীদের থাকে আলাদা প্রস্তুতি।
আয়োজকরা জানান, গতকাল প্রায় আড়াই লাখ লোকের সমাগম হয়েছে মেলায়। বাড়তি লোকের কথা মাথায় রেখে মেলায় নিরাপত্তাও বাড়ানো হয়। মেলা চত্বরে পুলিশ, র্যাব ও ডিবিসহ আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর ছিল সতর্ক অবস্থান। বাড়ানো হয় আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সংখ্যাও। ব্যবসায়ীরা বলেন, মেলায় কেউ আসে বেচাবিক্রিকে লক্ষ্য রেখে, আবার কেউ চায় প্রচার-প্রসার। তবে সব প্রতিষ্ঠানই চায়, তার প্রতিষ্ঠানের স্টলে ক্রেতা-দর্শনার্থী বেশি আসুক। গতকাল শুক্রবার সবচেয়ে বেশি লোকসমাগম হয়েছে। সব স্টল ও প্যাভিলিয়নে ভিড় লক্ষ্য করা গেছে। ক্রেতা-দর্শনার্থীদের সামাল দিতে হিমশিম খেতে হয়েছে বিক্রেতাদের। গৃহস্থালি পণ্যের স্টলগুলোতে ভিড় ছিল উপচে পড়ার মতো। বিশেষ করে, নারী ক্রেতারা হুমড়ি খেয়ে পড়েন প্লাস্টিক ও এ্যালুমিনিয়ামের গৃহাস্থলির স্টলগুলোতে। যারাই স্টলে ঢুকেছেন, কিছু না কিছু হাতে নিয়ে বেরিয়েছেন।
প্রাণ-আরএফএল এর প্যাভিলিয়নে গিয়ে দেখা যায়, ক্রেতা-দর্শনার্থীদের চাপে দম ফেলার ফুসরত নেই বিক্রেতাদের। বিক্রেতা সোহেল রানা বলেন, একদিকে মেলা শেষের দিকে, অন্যদিকে শুক্রবার সাপ্তাহিক ছুটি। এজন্য ক্রেতাদের চাপ সবচেয়ে বেশি। সকাল থেকেই লোকজন আসা শুরু করেছেন। এখন ঘোরাঘুরি কম করছেন। যারাই স্টলে আসছেন, কিছু না কিছু কিনছেন।
প্লাস্টিকের তৈরি গৃহস্থলির পাশাপাশি প্রেসার কুকার, জুস মেকার, জুস ব্লেন্ডার, ওভেন, রাইস কুকার, ইস্ত্রি, ইন্ডাকশন চুলা, ফ্যানসহ নানা ধরনের ইলেক্ট্রনিক ও ইলেক্ট্রিক পণ্যের বেচাবিক্রি হয়েছে ভালো। অন্যদিকে মেলায় তরুণদের বেশি উপস্থিতি লক্ষ্য করা গেছে স্যুট, কোট ও ব্লেজারের স্টলগুলোতে। এ বছর শীতের আবহ কমে আসলেও, সামনের বছরের কথা চিন্তা করে অনেকে একাধিক ব্লেজার কিনে নিচ্ছেন। সবধরনের পণ্যই কম-বেশি বিক্রি হয়েছে।
প্রতিবন্ধীদের বিনামূল্যে বিনোদন
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কন্যা সায়মা ওয়াজেদ পুতুলের অনুপ্রেরণায় এবারও ঢাকা আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মেলায় অটিজম ও প্রতিবন্ধীদের জন্য বিনামূল্যে বিনোদনের সুযোগ করে দিয়েছে সারিকা ফ্যান্টাসি ইমাজিং ওয়ার্ল্ড পার্ক। এই পার্কটির সবগুলো রাইড বিনামূল্যে উপভোগ করতে পারছে অটিজম ও প্রতিবন্ধীরা। ইতোমধ্যে অটিজম শিশুদের বিনোদনের সুযোগ করে দিয়ে ব্যাপক সাড়া ফেলেছে এই পার্কটি। প্রতিদিনই অনেক অভিভাবক তাদের প্রতিবন্ধী শিশুদের মেলায় নিয়ে এসে বিনোদনের সুযোগ নিচ্ছেন। পার্কটির প্রতিষ্ঠাতা মুহাম্মদ মাহবুবুর রহমান পলাশ বলেন, বঙ্গবন্ধু কন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার তনয়া বিশিষ্ট মনোবিজ্ঞানী সায়মা ওয়াজেদ পুতুলের অটিজমদের নিয়ে নানা কাজ আমাকে উত্সাহ প্রদান করেছে। তার কাজের প্রেরণায় আমি কাজ চালিয়ে যাচ্ছি। পার্কটি চালুর পর যখন দেখলাম প্রতিবন্ধী শিশুদের কোনো বিনোদনের ব্যবস্থা নেই, পার্কের কোনো রাইডে উঠতে দেয়া হয় না, তখন তাদের প্রতি সহানুভূতি থেকেই এ উদ্যোগ গ্রহণ করি আমি। অটিজম-প্রতিবন্ধী শিশুদের জন্য রাইডগুলো সম্পূর্ণ ফ্রি করে দেই।