‘বাঙালির জয় কবিতার জয়’

 ‘বাঙালির জয় কবিতার জয়’—প্রতিপাদ্য নিয়ে শুরু হয়েছে ৩৩ তম জাতীয় কবিতা উত্সব-২০১৯। গতকাল শুক্রবার সকালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় গণগ্রন্থাগারের হাকিম চত্ত্বরে দুই দিনব্যাপী এই কবিতা উত্সবে বাংলাদেশের খ্যাতিমান নবীন-প্রবীণ কবিদের সঙ্গে অংশ নিচ্ছেন বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা ১১ দেশের কবি ও লেখকবৃন্দ।

জাতীয় কবিতা পরিষদ এই জাতীয় কবিতা উত্সবের আয়োজন করে। উদ্বোধনী দিনের শুরুতে সকালে কেন্দ্রীয় শহিদ মিনারে ভাষাশহীদদের শ্রদ্ধা জানান কবিরা। পরে জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম, শিল্পাচার্য জয়নুল আবেদিন ও শিল্পী পটুয়া কামরুল হাসানের সমাধিতে ফুলেল শ্রদ্ধা জানানোর পর শুরু হয় কবিতা উত্সবের আনুষ্ঠানিকতা। জাতীয় সংগীতের সঙ্গে উত্সব পতাকা উত্তোলন করেন কবিরা।

উদ্বোধকের বক্তব্যে কবি আসাদ চৌধুরী বলেন, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর পশ্চিমা গণতন্ত্রের আশঙ্কায় সতর্ক করে বলেছিলেন, একটা সমাজে কোনো ব?্যক্তি বা গোষ্ঠীর লোভকে যখন অপরিমিত মাত্রায় বাড়তে দেওয়া হয় এবং অনে?্যর দ্বারা তা প্রলুদ্ধ হয়ে থাকে—তখন পশ্চিমের দেশে যাকে গণতন্ত্র বলে তা রূপায়ন আর সম্ভব হয় না। এ রকম পরিস্থিতিতে ব?্যক্তিতে ব?্যক্তিতে অবিরাম সংগ্রাম চলতে থাকে আপন আকাঙ্ক্ষাপূরণ আর স্বার্থসিদ্ধির জন?্য তারা সামাজিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে দখল করতে চায়। গণতন্ত্রের তখন একমাত্র কাজ হয়ে দাঁড়ায় ধনীদের আনন্দবিহারের হস্তিবাহক হয়ে ওঠা।’

পরিষদের সাধারণ সম্পাদক তারিক সুজাত বলেন, আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা ইনস্টিটিউট, জাতীয় গ্রন্থকেন্দ্র, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক্সটারনাল পাবলিসিটি উইংয়ের কার্যক্রম আরও গতিশীল করা দরকার। একজন কবি-লেখকের প্রধান দায়িত্ব তার সৃজনশীল ক্ষমতার সর্বোচ্চ ব?্যবহার নিশ্চিত করা। আর সংশ্লিষ্ট রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানের দায়িত্ব সেই সৃষ্টিকর্ম নিজ দেশ ও বিশ্বব?্যাপী ছড়িয়ে দেওয়া। আজ পর্যন্ত আমাদের দেশের লেখকদের সেরা সাহিত?্যকর্মগুলো নিয়ে কোনো রাইট ক?্যাটালগ তৈরি করে আন্তর্জাতিক কোনো বইমেলায় নিয়ে যাওয়া হয়নি। তাহলে মাতৃভাষার জন?্য প্রাণ বিসর্জন দেওয়া জাতির সাহিত?্যকর্মের বিশ্বের সংযোগ ঘটানোর দায়িত্ব কে নেবে।

আহবায়কের বক্তব্যে কবি রবিউল হুসাইন বলেন,কবি ও কবিতার সৃষ্টি প্রাগুক্ত কাল এবং বিবেচনায়। কবি শুধু সুদূরের বাসিন্দা নয়, তাকেও সামাজিক দায়িত্ব পালন করতে হয়। জাতীয় কবিতা পরিষদ কবিতার মাধ্যমে কাজ করে যাচ্ছে সফল ভাবে।

জাতীয় কবিতা উত্সবে ঘোষণাপত্র পাঠ করেন রুবী রহমান, শোকপ্রস্তাব পাঠ করেন আমিনুর রহমান সুলতান। উত্সবে স্প?্যানিস ভাষায় কবিতা পড়েন কামা কামান্দা, একই ভাষায় নারীদের উত্সর্গ করে কবিতা পড়েন নারী কবি অ্যনাবেল ভিলার।

এ ছাড়া আয়োজনে ছিল কবিতার গান। অন্য ভাষায় কবিতার উপস্থাপনায় অংশ নেন দেশের খ্যাতিমান বাকশিল্পীরা আবৃত্তিপর্বে। বহুমাত্রিক আয়োজনে সকাল থেকে রাত অবধি খ্যাতিমান কবিসহ নানা বয়সী কবিতাপ্রেমীদের ব্যাপক উপস্থিতিতে উত্সবের প্রথম দিন প্রাঙ্গণ ছিল মুখর। এ বছর উত্সবটি উত্সর্গ করা হয়েছে ১৯৬৯ সালের গণ-অভ্যুত্থানের ৫০ বছরে শ্রদ্ধা জানিয়ে শহীদ আসাদ, শহীদ ডাঃ শামসুজ্জোহা, শহীদ সার্জেন্ট জহুরুল হক ও শহীদ মতিউর রহমানকে। আজ শনিবার সকাল থেকে দিনব্যাপী থাকবে সেমিনার ও কবিতাপাঠের আয়োজন।