ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) ইংরেজি বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্রী ইশরাত জাহান তুষ্টি শ্বাসকষ্টজনিত কারণে মারা যেতে পারে বলে ধারণা করছে তুষ্টির সহপাঠী ও রুমমেটরা। সহপাঠীরা বলছে, আগে থেকেই তুষ্টির অ্যাজমার সমস্যা। শনিবার রাতে ওয়াশরুমে যাওয়ার পর শ্বাসকষ্ট উঠলে দরজা খুলে বের হতে না পারায় তার মৃত্যু হতে পারে।
রুমমেটরা জানায়, পলাশী সরকারি আবাসিক কোয়ার্টারের ১৮ নম্বর বাসার নিচ তলায় থাকতেন তুষ্টি। চলতি মাসেই এ বাসায় সাবলেট হিসেবে উঠেন তিনি।
ইশরাত জাহান তুষ্টি। ছবি: ইত্তেফাক
তুষ্টির রুমমেট ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগের রাহনুমা তাবাসসুম রাফি বলেন, ‘গতকাল বিকেলে আমরা কয়েকজন বন্ধুসহ নিউমার্কেট গিয়েছিলাম। নিউ মার্কেট থেকে ফেরার পথে হালকা বৃষ্টিতে ভিজেছিলাম। আমরা জানতাম না তুষ্টির অ্যাজমার সমস্যা রয়েছে। বিকেল ৩টায় আমরা বাসায় ফিরে আসি। তখন তুষ্টি বলেছিলো তার কিছুটা শ্বাসকষ্ট হচ্ছে। রাতে আমরা যখন ঘুমিয়ে পড়ছিলাম তখন মুভি দেখছিলো বা ফোন স্ক্রল করছিলো। সকাল বেলা বাসার আন্টির ডাকাডাকিতে আমাদের ঘুম ভাঙে।’
তিনি বলেন, ‘আন্টি এসে আমাদের বলছিলো বাথরুমের দরজা বন্ধ কেনো? অনেকক্ষণ ধরে কলের পানি পড়ছে। তখন আমরা দেখি বাথরুমের দরজা বন্ধ করা কিন্তু তুষ্টি তার বেডে নেই। অনেকক্ষণ ধাক্কাধাক্কি করেও দরজা খুলতে না পেরে আমরা ফায়ার সার্ভিসে কল দেই। ফায়ার সার্ভিস এসে সকাল ছয়টায় তাকে উদ্ধার করে।
ইশরাতের আরেক রুমমেট বাংলা বিভাগের চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থী লুৎফুন্নাহার ইতি বলেন, ‘তুষ্টি মাত্র ৫ দিন আগে আমাদের বাসায় আসে। গতকাল বিকেল ৩টায় নিউমার্কেট থেকে এসে বলে, ‘আপু তোমরা কিভাবে বৃষ্টিতে ভেজো। আমি একটু ভেজার পর গলা চুলকাচ্ছে।’ এর আগে আমি জানতাম না তার অ্যাজমা আছে।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়। ছবি: সংগৃহীত
রাতের ঘটনার বর্ণনা দিয়ে তিনি বলেন, ‘রাতে আমরা আড্ডা দিয়ে, হাসি, ঠাট্টা করে ঘুমিয়ে যাই। দুইটা বাজে আমি ঘুম থেকে উঠে কয়েকবার বাথরুমের দরজায় নক করি। কিন্তু তখন দরজা খুলেনি। তবে আমি কলের পানি পড়ার শব্দ পাচ্ছিলাম। বাড়িওয়ালা মনে করে আমি ঘুমিয়ে পড়ি।’
তিনি বলেন, ‘সকাল ৬টায় বাড়ির মালিকের ধাক্কাধাক্কিতে ঘুম ভাঙে। বাড়ির মালিক বলেন, ‘বাথরুমে কলের পানি পড়ছে ভেতরে কে? তখন আমরা তাকিয়ে দেখি তুষ্টি বিছানায় নেই। পরে আমরা ন্যাশনাল ইমারজেন্সি ৯৯৯ এ কল দেই। তারা আমাদের কাছ থেকে বিস্তারিত চাওয়া শুরু করে। পরে আমরা কল কেটে দিয়ে তার বন্ধু রাজুকে ডাকি। এরপর পরই ফায়ার সার্ভিসকে ডাক দেই। তারা এসে তুষ্টিকে উদ্ধার করে। ’
লালবাগ থানার ওসি (তদন্ত) খন্দকার হেলালুদ্দীন বলেন, ‘আমরা স্পটে যাওয়ার আগে ফায়ার সার্ভিসের লোকজন তাকে এখানে নিয়ে এসেছে। এখনো পর্যন্ত কোন কিছুই বলতে পারছি না।’
বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ড. একেএম গোলাম রাব্বানী বলেন, ‘আমাদের এক শিক্ষার্থীর মৃত্যুর বিষয়ে আমরা জেনেছি। এটি আমাদের জন্য অত্যন্ত দুঃখজনক ঘটনা। আমরা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে জানিয়েছি বিষয়টি। আমরা তার মৃত্যুর কারণ খতিয়ে দেখছি।’
ইত্তেফাক/এএএম