ইলেকশন মনিটরিং ফোরাম
ইত্তেফাক রিপোর্ট
একাদশ জাতীয় নির্বাচন অবাধ, সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও গ্রহণযোগ্য হয়েছে বলে জানিয়েছে নির্বাচন পর্যবেক্ষক সংস্থা ইলেকশন মনিটরিং ফোরাম। গত বৃহস্পতিবার জাতীয় প্রেসক্লাবে ‘একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর্যবেক্ষণ প্রতিবেদন প্রকাশ’ শীর্ষক এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানিয়েছে সংস্থাটি। তবে কিছু সংসদীয় আসনের প্রার্থী মামলার অজুহাতে প্রশাসন কর্তৃক হয়রানির শিকার হলেও নির্বাচন কমিশন এসব বিষয়ে দ্রুত পদক্ষেপ নিতে ব্যর্থ হয়েছে বলে প্রতিবেদনে দাবি করা হয়।
প্রতিবেদনে বলা হয়, একাদশ নির্বাচনে সারাদেশে সর্বমোট ২২টি ভোটকেন্দ্রে নির্বাচন কমিশন সহিংসতার ঘটনায় ভোটগ্রহণ স্থগিত করে। সহিংসতায় আটজন আওয়ামী লীগ কর্মী ও চারজন বিএনপি কর্মীসহ মোট ১৮ জনের প্রাণহানি হয়। আহত হন শতাধিক। বিভিন্ন জেলায় শতাধিক সংঘাতের ঘটনার বিপরীতে প্রায় ৭০০ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। পূর্ববর্তী যেকোনো সাধারণ নির্বাচনের তুলনায় এবারের নিরাপত্তা পরিস্থিতি অনেক ভালো ছিল। নির্বাচনে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাগণ কেন্দ্র পর্যবেক্ষণ কার্যক্রমে সহযোগিতা করেছেন।
ইলেকশন মনিটরিং ফোরাম বেশ কিছু সুপারিশও করে। এগুলো হলো, অবাধ ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের লক্ষ্যে নির্বাচন কমিশন ও আইন প্রয়োগকারী সংস্থাসহ সংশ্লিষ্ট সকল প্রতিষ্ঠানকে আরও শক্তিশালী ও আন্তরিক হওয়া, নির্বাচন পর্যবেক্ষকদের নির্বাচন কমিশন হতে সম্মানি ভাতা প্রদান, নির্বাচনকালীন প্রার্থীরা যেনো হয়রানির শিকার না হয় তা নিশ্চিত করা ও বিদেশি পর্যবেক্ষক নির্ভরশীলতা দূরে রাখতে দেশের বিভিন্ন পেশার স্বনামধন্য ব্যক্তিবর্গকে নির্বাচন পর্যবেক্ষণে উত্সাহিত করার মতো পদক্ষেপ গ্রহণ করা।
ফোরামটি নির্বাচন কমিশন কর্তৃক নিবন্ধিত ৩১টি এনজিও এবং ২৬টি সুপ্রতিষ্ঠিত এনজিওসহ মোট ৫৬টি স্থানীয় ও জাতীয় পর্যায়ের এনজিও সংস্থার সমন্বয়ে গঠিত পর্যবেক্ষক কমিটি। সারাদেশে সংস্থার ৫,৮১১ জন পর্যবেক্ষক ২৩৯টি আসনের মোট ১৭ হাজার ১৬৫টি কেন্দ্রে পর্যবেক্ষণ করেছে। সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন— সার্ক মানবাধিকার ফাউন্ডেশনের কেন্দ্রীয় পরিচালক ড. মোহাম্মদ মাসুম চৌধুরী, আইনি সহায়তা কেন্দ্র আসক ফাউন্ডেশনের নির্বাহী পরিচালক মো. শামসুল হক, ইএমএম এর সমন্বয়কারী মো. মনির হোসেন প্রমুখ ।