মানুষের বেঁচে থাকার জন্য পুষ্টি ও খাবার প্রয়োজন

বিজ্ঞান

 

সুপ্রিয় বন্ধুরা, তোমরা প্রথমে অধ্যায়টি মনোযোগ দিয়ে পড়বে। তারপর দেখবে উত্তরগুলো তোমার আয়ত্তে চলে এসেছে। বছরের প্রথম থেকে একটু একটু করে পড়লে সবকিছু তোমার কাছে সহজ মনে হবে। এখন অনেক স্কুলে খেলাধূলা, পিকনিক চলছে তবুও ফাঁকে ফাঁকে একটু একটু করে পড়ো।

 

৬.মানুষ বেঁচে থাকার জন্য কীভাবে জড় বস্তুর উপর নির্ভরশীল তা পাঁচটি বাক্যে লেখ।

উত্তর :  অন্যান্য প্রাণীর মত মানুষও বেঁচে থাকার জন্য জড় বস্তুর উপর নির্ভরশীল। নিচে এ নির্ভরশীলতা আলোচনা করা হলো—

১.মানুষ তার শ্বাসকার্য সম্পাদনের জন্য বায়ুতে বিদ্যমান অক্সিজেন ব্যবহার করে।

২.মানুষকে বেঁচে থাকার জন্য পানি পান করতে হয়।

৩.মানুষের বেঁচে থাকার জন্য পুষ্টি ও খাবার প্রয়োজন।

৪.মানুষ ফসল ফলায় ও বাসস্থান নির্মাণ করে যার জন্য মাটির প্রয়োজন।

৫.এছাড়া জীবনযাপনের জন্য বাসস্থান আসবাবপত্র, পোষাক, যন্ত্রপাতি ইত্যাদি প্রয়োজন হয় যা সাধারণত জড়বস্তু।

৭.গ্যাসীয় পদার্থের আদান প্রদানে উদ্ভিদ ও প্রাণী একে অপরের উপর নির্ভরশীল কেন?

উত্তর : প্রাণীর শ্বাসকার্যের আবশ্যকীয় উপাদান অক্সিজেন এবং উদ্ভিদের খাদ্য উত্পাদন প্রক্রিয়ায় ব্যবহূত কার্বন ডাইঅক্সাইডের আদান প্রদানের মাধ্যমে উদ্ভিদ ও প্রাণী একে অপরের উপর নির্ভরশীল।

সকল জীবিত বস্তুর (উদ্ভিদ ও প্রাণী) শ্বাসকার্যে (শ্বসন প্রক্রিয়ায়) অক্সিজেন প্রয়োজন। সালোকসংশ্লেষণ প্রক্রিয়ায় সবুজ উদ্ভিদ খাদ্য তৈরির পাশাপাশি পরিবেশে অক্সিজেন প্রদান করে। সকল জীব শ্বসন প্রক্রিয়ায় এই অক্সিজেন ব্যবহার করে এবং কার্বন ডাইঅক্সাইড ত্যাগ করে। সবুজ উদ্ভিদ উক্ত কার্বন ডাইঅক্সাইডকে খাদ্য তৈরিতে ব্যবহার করে। এভাবে অক্সিজেন ও কার্বন ডাইঅক্সাইডের আদান-প্রদানের মাধ্যমে উদ্ভিদ ও প্রাণী একে অপরের উপর নির্ভরশীল।

৮.উদ্ভিদ ও প্রাণীর পারস্পরিক নির্ভরশীলতা পাঁচটি বাক্যে বর্ণনা কর।

উত্তর :  উদ্ভিদ ও প্রাণীর পারস্পরিক নির্ভরশীলতা পাঁচটি বাক্যে নিচে বর্ণনা করা হলো—

১.সকল প্রাণী উদ্ভিদ হতে খাদ্য গ্রহণ করে।

২.উদ্ভিদ কার্বন-ডাইঅক্সাইড গ্রহণ করে ও অক্সিজেন ত্যাগ করে। অন্যদিকে প্রাণী উদ্ভিদের ত্যাগকৃত অক্সিজেন গ্রহণ করে শ্বাসকার্য চালায় এবং কার্বন ডাইঅক্সাইড ত্যাগ করে।

৩.বিভিন্ন প্রাণী যেমন— পাখি, মৌমাছি ইত্যাদি উদ্ভিদের পরাগায়নে সাহায্য করে।

৪.উদ্ভিদকে অনেক প্রাণী আবাসস্থল হিসেবেও ব্যবহার করে।

৫.প্রাণীর মলমূত্র, দেহাবশেষ ইত্যাদি মাটিতে মিশে মাটির উর্বরতা বৃদ্ধি করে যা উদ্ভিদের বৃদ্ধিতে সাহায্য করে।

৯.সাজুদের স্কুলের মাঠে বড় একটি বটগাছ আছে। গাছটি কোন কোন ক্ষেত্রে সাজু ও অন্যান্য প্রাণীর উপর নির্ভরশীল?

উত্তর : উদ্ভিদ ও প্রাণী পরস্পর নির্ভরশীল। সাজুদের স্কুলের মাঠে থাকা বটগাছটি নানাভাবে সাজু ও অন্যান্য প্রাণীর উপর নির্ভরশীল। যেমন—

সাজু ও অন্যান্য প্রাণী শ্বাস-প্রশ্বাসের মাধ্যমে যে কার্বন ডাইঅক্সাইড ত্যাগ করে বটগাছটি তা ব্যবহার করে খাদ্য তৈরি করে।

পাখি, মৌমাছি ইত্যাদি বটগাছটির পরাগায়নে সাহায্য করে।

সাজু ও অন্যান্য প্রাণী, যেমন— পাখি গাছটির বীজের বিস্তরণে সাহায্য করে বলে গাছটির নতুন নতুন আবাস গড়ে ওঠে।

বিভিন্ন প্রাণীর মৃতদেহ প্রাকৃতিক সারে পরিণত হয়, এই সার পুষ্টি হিসেবে ব্যবহার করে বটগাছটি বেড়ে ওঠে।

১০.সৌরভদের বাড়ির শিউলী গাছে ফুল আর বীজে ভরে গেছে। কিসের ফলে এই বীজ সৃষ্টি হয়? এই বীজ মাটিতে ছড়িয়ে পড়লে কী ঘটবে?

উত্তর : পরাগায়নের ফলে গাছটিতে বীজ সৃষ্টি হয়েছে। বিভিন্ন প্রাণী যেমন— পাখি, মৌমাছি, ইত্যাদি পরাগায়নে সাহায্য করে। মাতৃউদ্ভিদ থেকে বিভিন্ন স্থানে বীজ ছড়িয়ে পড়লে বীজের বিস্তরণ ঘটবে। এই বিস্তার থেকে নতুন উদ্ভিদ জন্মাবে। ফলে নতুন নতুন উদ্ভিদের আবাস গড়ে উঠবে।