এক বুড়োবুড়িকে নিয়ে এই গল্প। খুবই গরিব তারা। একদিন দুজনে গেছে ধানখেতে কাজ করতে। খেতে নিড়ানি দিচ্ছিল বুড়ো। হঠাত্ শক্ত একটা কী যেন ঠং করে ঠেকল। মাটি খুঁড়ে দেখে, বিশাল একটা কলসি। তাতে সোনাদানা ভর্তি। অবাক কাণ্ড! সে বুড়িকে ডাকে। কলসিটা দেখায়। বুড়ি তো আহ্লাদে আটখানা। বুড়োকে বলে, জলদি করো। এই কলসি নিয়ে বাড়ি চলো। এক্ষুনি।
বুড়ো রাজি হয় না এ প্রস্তাবে। দৃঢ়কণ্ঠে বলে, না গো, তা হয় না। এটার মালিক আমরা নই। এটা যদি আমাদের হতো, তাহলে ঠিকই নিয়ে যেতাম।
বুড়ির পছন্দ হলো না কথাটা। অনিচ্ছায় সে মেনে নেয়। বাড়ি ফিরে পাড়ার অন্য মহিলাদের কাছে সে এ ঘটনার কথা সব বলে দেয়। পাড়ার মহিলারা বিশ্বাস করে না তার কথা।
পাড়ার এক লোভী লোক এই গল্প শুনে হতবাক। সে এক পরিকল্পনা আঁটে। পরদিন খুব ভোরবেলা সেই জমিতে গিয়ে হাজির হয়। মাটি খুঁড়ে কলসি বার করে। ঢাকনা খুলে সে বিস্মিত। এ কী কাণ্ড! একটা সাপ কুণ্ডলী পাকিয়ে শুয়ে আছে কলসির ভিতর। সর্বনাশ! এর বিষাক্ত ছোবলে তো প্রাণ যাবে দেখা যাচ্ছে। বুড়ি তাহলে মিথ্যে কথা বলেছে। ওই দম্পতিকে উচিত শিক্ষা দেওয়া দরকার।
সে করে কী, কলসিটার ঢাকনা ভালোমতো বন্ধ করে। তারপর সেটা নিয়ে বাড়ি ফেরে। রাতের অন্ধকারে বুড়োর বাড়ির দরজায় নিয়ে রেখে আসে। ব্যাটা এবার তার জোচ্চুরির ফল পাবে। সাপের ছোবলে যখন প্রাণ যাবে, তখন বুঝবে মিছে কথা বলার কী পরিণতি।
পরের দিন ঘুম ভাঙার পর বুড়ো দেখে, তার দরজায় সেই কলসি। বুড়ো হতভম্ব। এটা এখানে কেমন করে এল? কলসির ঢাকনা খুলে দেখে, ভিতরে সোনাদানা ভর্তি। হৈচৈ করে বুড়িকে ডাকে। বুড়ি বলে, ওগো, এবার তুমি কী বলবে? এবারও কি এই কলসি তুমি হাতছাড়া করবে নাকি? এই কলসির আসল মালিক কে বলো তো?
বুড়ো হাসতে হাসতে বলে, না গো, এবার সেটা করব না। হ্যাঁ, এটা এখন আমাদের। সে-কথা তুমি বলতে পার। এটার মালিকানা আমাদের বলেই আমরা তা পেয়েছি।
হাসান হাফিজ