সানেম ও এমএফওর জরিপ
ইত্তেফাক রিপোর্ট
কোভিড-১৯-এর টিকাদানের ব্যাপারে পর্যাপ্ত তথ্য শ্রমিকদের কাছে নেই। ভ্যাকসিন নিতে চান এমন শ্রমিকদের মধ্যে মাত্র ২২ শতাংশ এটি নেওয়ার প্রক্রিয়া সম্পর্কে অবগত রয়েছেন। এই পরিস্থিতি অত্যন্ত উদ্বেগজনক বলে উল্লেখ করেছে গবেষণা প্রতিষ্ঠান সাউথ এশিয়ান নেটওয়ার্ক অন ইকোনমিক মডেলিং (সানেম)। এক জরিপের তথ্য উল্লেখ করে সানেমের বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, ভ্যাকসিন গ্রহণ নিশ্চিত করা না গেলে বাংলাদেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ শিল্পে কর্মরত লাখো শ্রমিকের জীবন ঝুঁকির মুখে পড়বে। তৈরি পোশাক খাতের উত্পাদন, রপ্তানি এবং সামগ্রিকভাবে পুরো অর্থনীতি পুনরুদ্ধারে কারখানার মালিকপক্ষ, সরকার, নীতিনির্ধারক ও অ্যাডভোকেসি গ্রুপগুলোকে সম্মিলিতভাবে শ্রমিকদের স্বাস্থ্য ও জীবনের নিরাপত্তা বিষয়ে অগ্রাধিকার দিতে হবে।
কোভিড-১৯ পরিস্থিতি চলাকালীন বাংলাদেশের পোশাক শ্রমিকদের জীবনে কী ধরনের পরিবর্তন এসেছে সে বিষয়টি বোঝার জন্য সানেম ও মাইক্রোফাইন্যান্স অপরচুনিটিজ (এমএফও) যৌথভাবে ধারাবাহিক জরিপ পরিচালনা করছে।
‘গার্মেন্ট ওয়ার্কার ডায়েরিজ’ শীর্ষক প্রকল্পের অধীনে সানেম ও এমএফও ২০২০ সালের এপ্রিল মাস থেকে বাংলাদেশের মূল পাঁচটি শিল্প এলাকা—চট্টগ্রাম, ঢাকা, গাজীপুর, নারায়ণগঞ্জ ও সাভারে কর্মরত ১ হাজার ২৮৫ জন পোশাক শ্রমিকের আর্থসামাজিক অবস্থার ওপর ফোনের মাধ্যমে ধারাবাহিক জরিপ পরিচালনা করছে। এবারের জরিপে লকডাউন পরিস্থিতি ও ভ্যাকসিনের বিষয়ে শ্রমিকদের সচেতনতা ও মতামতের বিষয়গুলো আলোকপাত করা হয়। জরিপে অংশগ্রহণকারী মাত্র ২ শতাংশ শ্রমিক কোভিড-১৯-এর ভ্যাকসিন নিয়েছেন বলে জানিয়েছেন। ভ্যাকসিন প্রদান কর্মসূচির জন্য নির্বাচিত কি না, সেই প্রশ্ন করা হলে ৩৬ শতাংশ উত্তরদাতা জানিয়েছেন, তারা ভ্যাকসিন কর্মসূচির জন্য নির্বাচিত। তাদের মধ্যে ৭৬ শতাংশ জানিয়েছেন যে তারা ভ্যাকসিন নিতে চান। সব মিলিয়ে ৬৯ শতাংশ উত্তরদাতা জানিয়েছেন, সুযোগ থাকলে তারা ভ্যাকসিন নিতে আগ্রহী এবং ৩১ শতাংশ জানিয়েছেন যে তারা ভ্যাকসিন নিতে চান না।
যারা ভ্যাকসিন নিতে চান না, তাদের ৪৮ শতাংশ জানিয়েছেন যে তাদের শরীরে ভ্যাকসিনের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া হতে পারে, অসুস্থ হতে পারেন বা মারা যেতে পারেন—এই আশঙ্কায় ভীত। ২৩ শতাংশ ভ্যাকসিন নেওয়ার কোনো প্রয়োজনীয়তা বা উপকারিতা আছে বলে মনে করেন না, ১৭ শতাংশ জানিয়েছেন যে তারা নিরাপদে থাকার জন্য ধর্মবিশ্বাসের ওপর ভরসা রাখেন, ৩ শতাংশ জানিয়েছেন যে তারা গর্ভবতী অথবা অন্যান্য শারীরিক সমস্যা বা এলার্জিতে ভুগছেন, ২ শতাংশ জানিয়েছেন যে তাদের স্বামী নিষেধ করেছেন।