ফরিদপুর ও কুষ্টিয়ায় দীর্ঘদিন বন্ধ থাকা চারটি পাটকল চালু করেছে আবুল খায়ের গ্রুপ। এসব কারখানায় উৎপাদন শুরুর ফলে নতুন করে কর্মসংস্থান হয়েছে প্রায় ১৫ হাজার শ্রমিকের। একই সঙ্গে কারখানাগুলোতে উৎপাদিত পাটপণ্য রপ্তানিও শুরু হয়েছে।
এর মধ্যে ফরিদপুরের রাজ্জাক জুট ইন্ডাস্ট্রিজ বিভিন্ন কারণে দীর্ঘদিন বন্ধ ছিল। এতে প্রতিষ্ঠানটির বিপুলসংখ্যক শ্রমিক কর্মহীন হয়ে পড়েন। সম্প্রতি আবুল খায়ের গ্রুপের উদ্যোগে কারখানাটি আবার চালু করা হয়েছে। বর্তমানে সেখানে পাটপণ্য উৎপাদনের পাশাপাশি রপ্তানিও করা হচ্ছে।
রাজ্জাক জুট ইন্ডাস্ট্রিজের পাশাপাশি আরও তিনটি বন্ধ পাটকল চালু করেছে আবুল খায়ের গ্রুপ। এগুলো হলো-ফরিদপুরের দাহমাশী জুট ইন্ডাস্ট্রিজ, ফরিদপুর জুট ফাইবার্স এবং কুষ্টিয়া জুট ইন্ডাস্ট্রিজ। চারটি কারখানাতেই বর্তমানে পাটপণ্য উৎপাদন চলছে।
আবুল খায়ের গ্রুপ সূত্রে জানা গেছে, এসব পাটকল থেকে বছরে প্রায় ৮০ হাজার মেট্রিক টন পাটের সুতা ও অন্যান্য পাটজাত পণ্য রপ্তানির লক্ষ্যমাত্রা নেওয়া হয়েছে। চলতি ২০২৬ সালের ডিসেম্বরের মধ্যে প্রায় ১২০ কোটি ডলার বা ১ হাজার ৫০০ কোটি টাকার পাটের সুতা রপ্তানির লক্ষ্যে কাজ করছে প্রতিষ্ঠানটি। তুরস্ক, চীনসহ বিভিন্ন দেশে এসব পাটপণ্য রপ্তানি করা হচ্ছে।
এ বিষয়ে আবুল খায়ের গ্রুপের হেড অব করপোরেট অ্যাফেয়ার্স অ্যান্ড লিগ্যাল শেখ শাবাব আহমেদ বলেন, ‘পাটপণ্যের ব্যবসা মূলধননির্ভর। দেশের বেসরকারি খাতে অনেক পাটকল বর্তমানে বন্ধ। সে কারণে আমরা নতুন কারখানা না করে বন্ধ কারখানার সঙ্গে কাজ করেছি।’
তিনি বলেন, ‘সম্প্রতি পাট ব্যবসায় নামার অংশ হিসেবে বেসরকারি খাতের চারটি বন্ধ পাটকল চালু করেছি। এতে চারটি কারখানায় ১৫ হাজার মানুষের কর্মসংস্থান হয়েছে। এ ছাড়া সরকারি খাতের বন্ধ থাকা আরও তিন থেকে চারটি পাটকল নেওয়ার জন্য আমরা আবেদন করেছি।’
তিনি আরও বলেন, ‘ভবিষ্যতে বেশি মূল্যের (ভ্যালু অ্যাডেড পণ্য) পাটপণ্য উৎপাদনের জন্য আমরা চেষ্টা করছি। বাংলাদেশের পাটের মান উন্নত। পরিবেশবান্ধ্ব এ পণ্যটির বাজারও আছে। সে জন্য আমাদের প্রতিষ্ঠান পাটপণ্যে বিনিয়োগের সিদ্ধান্ত নিয়েছি। এতে পরোক্ষভাবে হলেও পাটচাষীদের ভাগ্য উন্নয়নে ভূমিকা রাখবে বলে আমরা বিশ্বাস করি।’

