ঝালকাঠি প্রতিনিধি
এক শিক্ষিকার সহায়তায় প্রতারণার আশ্রয় নিয়ে অন্য বিদ্যালয়ের প্রবেশপত্র পেয়েও ৪ শিক্ষার্থী এসএসসি পরীক্ষা দিতে পারেনি।
প্রতারিত হওয়া পরীক্ষার্থী জামাল, নাইম হোসেন, শাওন খান, পারভেজ এবং তাদের অভিভাবকরা জানায়, প্রতাপ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের এসএসসি পরীক্ষার্থী ছিল তারা। কিন্তু এসএসসির টেস্ট পরীক্ষায় তারা ভালো রেজাল্ট করতে পারেনি। তাই বিদ্যালয় থেকে এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নিতে না পারায় তারা উদ্বিগ্ন হয়ে পড়ে। এ খবর পেয়ে শাওনের বাড়ির নিকটবর্তী কাঠিপাড়া আমিরুননেছা বালিকা বিদ্যালয়ের শিক্ষিকা পারভীন আইরিন তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করেনি। তিনি ৪ জনের কাছ থেকে জনপ্রতি ১০ হাজার টাকার চুক্তিতে এ পরীক্ষার্থীদের প্রেমহার মাধ্যমিক বিদ্যালয় থেকে পরীক্ষা দেয়ার আশ্বাস দেন। কথানুযায়ী সবশেষ ৮ হাজার ৫শ’ টাকার বিনিময়ে শিক্ষিকা পারভীন আইরিন বরিশাল বোর্ড থেকে প্রেমহার বিদ্যালয়ের প্রবেশপত্র করিয়ে দেন ঐ চার শিক্ষার্থীকে।
গত শুক্রবার দুপুর ২টার দিকে পরীক্ষার্থীদের হাতে প্রবেশপত্র ধরিয়ে দিলে তারা কেন্দ্র সচিবের সাথে যোগাযোগ করে। প্রেমহার কেন্দ্র সচিব খলিলুর রহমান বিষয়টি জানতে পেরে বরিশাল শিক্ষা বোর্ডের নিয়ন্ত্রক আনোয়ারুল আজীমকে অবহিত করেন। এ বিষয়ে প্রতাপ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মিজানুর রহমান জানান, আমাকে গত শুক্রবার রাতে বোর্ডের নিয়ন্ত্রক আনোয়ারুল আজিম ফোনে জানান, আমার বিদ্যালয়ের টেস্টে ফেল করা ৪ পরীক্ষার্থী প্রতারণার আশ্রয় নিয়ে বোর্ড থেকে প্রবেশপত্র বের করেছে। আমি এ খবর পেয়ে বিষয়টি তাত্ক্ষণিকভাবে প্রশাসনকে অবহিত করি। এ ঘটনা টের পেয়ে শিক্ষিকা পারভীন আইরিন চার পরীক্ষার্থীর কাছ থেকে প্রবেশপত্রে ত্রুটির কথা বলে তা ফিরিয়ে নেয়।
প্রধান শিক্ষক খলিলুর রহমান আরো জানান, শিক্ষা বোর্ডের ৩টি স্তর পার হয়ে যে কোনো পরীক্ষার্থীর প্রবেশপত্র ইস্যু হয়। এ ক্ষেত্রে শিক্ষিকা আইরিনের ভাই বরিশাল বোর্ডের সাবেক বোর্ড নিয়ন্ত্রক হওয়ায় তিনি একটি সিন্ডিকেটের সহায়তায় এ প্রবেশপত্র বের করতে সক্ষম হন। শুনেছি আইরিন মোট ১০ জন পরীক্ষার্থীর কাছ থেকে এভাবে অর্থ আদায়ের মাধ্যমে প্রতারণার আশ্রয় নিয়েছে।
এ প্রসঙ্গে শিক্ষিকা আইরিন পারভিন বলেন, আমি একটি প্রতারক চক্রের ফাঁদে পড়েছি। চক্রটি আমার বিরুদ্ধে প্রেমহার মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের কেন্দ্র সচিবের কাছে অভিযোগ করে আমাকে ফাঁসিয়েছে। আমি ওদের ভবিষ্যতের কথা চিন্তা করে বোর্ডে টাকার বিনিময়ে প্রবেশপত্র ইস্যু করিয়েছিলাম। কেন্দ্র সচিবের কাছে আমার বিরুদ্ধে টাকা নেয়ার অভিযোগ না করলে তারা সহজেই পরীক্ষায় অংশ নিতে পারত।
এ বিষয়ে ঝালকাঠি জেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা সিদ্দিকুর রহমান জানান, এ ঘটনাটি আমার জানা নেই। তবে অভিযোগ পেলে ঘটনার সাথে জড়িত যেই থাকুক তদন্ত করে তার বিরুদ্ধে ব্যাবস্থা নেয়া হবে।