আর্থ-সামাজিক অবস্থানে পিছিয়ে বিলুপ্ত ছিটমহলের বাসিন্দারা

শুমারির চূড়ান্ত প্রতিবেদন প্রকাশ

ইত্তেফাক রিপোর্ট

বাংলাদেশের সীমানার অভ্যন্তরে বিলুপ্ত ছিটমহলের অধিবাসীরা আর্থ-সামাজিকভাবে পিছিয়ে রয়েছে। বিলুপ্ত হওয়া ছিটমহলগুলোতে আর্থ-সামাজিক অবস্থা নিয়ে শুমারি করেছে বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো (বিবিএস)। ‘বাংলাদেশের পূর্বতন ছিটমহলের অধিবাসী শুমারি ২০১৭’ এর চূড়ান্ত প্রতিবেদন অনুযায়ী, বাংলাদেশের অভ্যন্তরে সাবেক ১১১ ছিটমহলে মোট ১০ হাজার ৪৬৭টি পরিবার রয়েছে। সবমিলিয়ে বাস করছেন ৪৫ হাজার ৪৭১ জন মানুষ। সেখানকার মানুষের, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, বাসস্থান, অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডসহ বিভিন্ন তথ্য সংগ্রহ করে এই শুমারি করা হয়েছে।

প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, সাবেক এসব ছিটমহলে শিক্ষার হার অনেক কম। মাত্র সাড়ে ১৩ ভাগ মানুষ প্রাথমিকের গণ্ডি পেরুতে পেরেছে। উচ্চ শিক্ষার সুযোগ পেয়েছে হাতে গোনা কয়েকজন। প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, এসব অঞ্চলে বাল্যবিয়ের হার অনেক বেশি। নারীদের গড় বিয়ের বয়স ১৬ দশমিক ৪০ বছর। পুরুষের গড় ২১ দশমিক ১০ বছর। বর্তমানে জাতীয় পর্যায়ে নারীদের গড়ে ১৮ দশমিক ৪০ বছর ও পুরুষের গড়ে ২৫ দশমিক ২০ বছরে বিয়ে হচ্ছে। এসব অঞ্চলে আলোর উত্স হিসেবে বিদ্যুত্ ব্যবহার করছে ৯৩ দশমিক ১০ শতাংশ মানুষ। বিবিএস সূত্র জানায়, ২০১৭ সালের ৫ থেকে ১৪ অক্টোবর পর্যন্ত এ শুমারির পরিচালনা করা হয়। ২০১৮ সালের ফেব্রুয়ারিতে শুমারির প্রাথমিক ফলাফল প্রকাশ করা হলেও সম্প্রতি চূড়ান্ত প্রতিবেদন প্রকাশ করা হয়েছে। প্রতিবেদন অনুযায়ী, সাবেক ছিটমহলের ৯৩ দশমিক ৬০ শতাংশ পরিবারের বসতঘর কাঁচা। এসব অঞ্চলে পাকা ছাদের ঘরে বসবাস করে ১ শতাংশের কম মানুষ।

মূলত দীর্ঘদিনের সীমানা জটিলতায় এসব অঞ্চলে প্রয়োজন অনুযায়ী বিভিন্ন সুবিধা পৌঁছে দেওয়া সম্ভব হয়নি। ২০১৫ সালের ১ আগস্ট ৬৮ বছরের বঞ্চনার ইতিহাসের পরিসমাপ্তি ঘটে। বাংলাদেশের মূল ভূখণ্ডে অবস্থিত ছিটমহলের বাসিন্দারা এই দিন বাংলাদেশের নাগরিক হিসেবে স্বীকৃতি পায়। লালমনিরহাটে ৫৯টি, পঞ্চগড়ে ৩৬টি, কুড়িগ্রামে ১২টি, নীলফামারীতে ৪টিসহ মোট ১১১টি ছিটমহল বাংলাদেশের মূল সীমানার সাথে যুক্ত হয়। ফলে এসব অঞ্চলের মানুষদের মূল ধারায় নিয়ে আসতে বিভিন্ন উদ্যোগ নেওয়া হয়। তার প্রাথমিক কাজ হিসাবে এ জরিপটি করা হয়েছিল। প্রকল্প সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এ সকল অঞ্চলের মানুষের আর্থ-সামাজিক অবস্থা মূল ধারায় ফিরিয়ে আনতে এখন জাতীয় পর্যায়ে পরিকল্পনা ও তার বাস্তবায়ন প্রয়োজন।