তিন বছরেই পূর্বাচলে নতুন স্টেডিয়াম

স্পোর্টস রিপোর্টার

বাংলাদেশে ক্রিকেট খেলা হয় এমন স্টেডিয়ামগুলোর মধ্যে সবচেয়ে বেশি দর্শক ধারণ ক্ষমতা রয়েছে মিরপুর শেরেবাংলা স্টেডিয়ামে। সর্বোচ্চ ২৫ হাজার দর্শক একসঙ্গে খেলা দেখতে পারেন হোম অব ক্রিকেটে। আরও বেশি দর্শক ধারণ ক্ষমতার স্টেডিয়াম না থাকার আক্ষেপটা অনেকদিনের। অবশেষে বাংলাদেশের ক্রিকেটপ্রেমীদের অপেক্ষার প্রহর ফুরাতে যাচ্ছে।

পূর্বাচলে আগামী তিন বছরের মধ্যেই নির্মিত হতে যাচ্ছে ৫০ হাজার দর্শক ধারণ ক্ষমতা সম্পন্ন স্টেডিয়াম। যার নামকরণ হতে পারে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নামে। আওয়ামী লীগের প্রতীক নৌকার আদলে চীনের বার্ডস নেস্টের প্রতিরূপ নিয়ে গড়ে উঠবে অনেক স্বপ্নের, সাধের আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়াম।

পুরো একটা কমপ্লেক্স গড়ে তোলা হবে। যেখানে একাডেমি থেকে শুরু করে ইনডোর, সুইমিং পুল, জিমনেশিয়াম সবই তৈরি হবে স্টেডিয়ামের আঙ্গিনায়। সঙ্গে একটি পাঁচ তারকা হোটেল গড়ারও পরিকল্পনা রয়েছে। গতকাল এসব তথ্য জানিয়েছেন বিসিবি সভাপতি নাজমুল হাসান পাপন।

গত কয়েক বছর ধরে অনেক আলোচনা-টানাপোড়েনের পর ২০১৮ সালে বিসিবির নামে পূর্বাচলে স্টেডিয়ামের জন্য ৩৭.৪৯ একর জমি বরাদ্দ দিয়েছে সরকার। ১০ লাখ টাকা সম্মানির নামমাত্র মূল্যে জমি দেয়ায় গতকাল বোর্ড সভা থেকে প্রধানমন্ত্রীকে ধন্যবাদ জানিয়েছে বিসিবি।

নিজস্ব অর্থায়নে এই স্টেডিয়াম নির্মাণ করবে বিসিবি। গতকাল বিসিবি সভাপতি জানিয়েছেন, আগামী তিন বছরের মধ্যে স্টেডিয়ামের কাজ শেষ করতে চায় বিসিবি। তাই শিগগিরই আন্তর্জাতিকভাবে দরপত্র আহ্বান করা হবে। প্রাথমিকভাবে ডিজাইন ও কনসালটেন্সির জন্য দরপত্র আহ্বান করবে বিসিবি।

গতকাল বোর্ড সভা শেষে সংবাদ সম্মেলনে নাজমুল হাসান পাপন বলেছেন, ‘আমরা ঠিক করেছি এটার জন্য এক্সপ্রেশন অব ইন্টারেস্ট চেয়ে আন্তর্জাতিকভাবে দরপত্র দিব। বেসিক্যালি ডিজাইন এবং কনসাল্টেন্সির জন্য। তাদের নির্বাচন করার প্রক্রিয়া নিয়ে আলাপ করেছি। বোর্ডের লোক তো থাকবেই, বাইরের থেকেও বিশেষজ্ঞ এই কমিটিতে অন্তর্ভুক্ত করব। আগামী তিন বছরের মধ্যে এই স্টেডিয়ামটা সম্পূর্ণ করতে চাই।’

স্টেডিয়াম নির্মাণের আনুমানিক ব্যয় সম্পর্কে এখনই ধারণা দিতে পারেননি বিসিবি সভাপতি। তবে যেহেতু আকর্ষণীয় ডিজাইন হবে তাই সাধারণ স্টেডিয়ামের চেয়ে এখানে বেশি ব্যয় হবে। গতকাল তিনি বলেছেন, ‘পুরোটা করবে বিসিবি। আমরা নিজেরাই করব, নিজ খরচে করব। যেহেতু আমরা চাচ্ছি স্টেট অব আর্ট স্টেডিয়াম হবে। দেখার মতো একটা জায়গা হবে। এটা ধারণ ক্ষমতা বেশি হবে। এবং এটার ডিজাইনের কারণে খরচ বেশি হবে। আমরা চাইছি এটা একটা আইকনিক কিছু করব।’

দর্শকদের বিপুল চাহিদার কথা চিন্তা করে বড় স্টেডিয়াম নির্মাণের আলোচনা অনেকদিন ধরেই হয়ে আসছে দেশে। কক্সবাজার, মানিকগঞ্জে পদ্মা পাড়ে ছাড়াও অনেক স্থান নিয়েই আলোচনা হয়েছে। শেষ পর্যন্ত পূর্বাচলেই গড়ে উঠতে যাচ্ছে নয়নাভিরাম স্টেডিয়াম। যার জন্য অপেক্ষা এখন আরও তিন বছরের।