হাজার হাজার গার্মেন্টস শ্রমিকের ঝুঁকিপূর্ণ বাসে যাতায়াত

ত্রিশাল (ময়মনসিংহ) সংবাদদাতা

ত্রিশাল উপজেলাসহ পার্শ্ববর্তী ভালুকা ও ফুলবাড়ীয়া উপজেলার প্রায় ছয় হাজার গার্মেন্টস শ্রমিক জীবন বাজি রেখে ঝুঁকিপূর্ণ যাতায়াত করছে তাদের নিজ কর্মস্থানে।

গার্মেন্টস শ্রমিকরা জানান, ত্রিশালে অবস্থিত বাগান রাগামারা কনজোমার গার্মেন্টস, আমিরাবাড়ী বগার বাজার দবির গার্মেন্টস, ভরাডোবা হ্যারি ফেশন (পাকিস্তান) গার্মেন্টস ও মুন্তাজিন স্পিনিং এন্ড গার্মেন্টস রয়েছে। এসব গার্মেন্টসে এলাকার প্রায় ২০ হাজার নারী পুরুষ চাকরি করছেন যার মধ্যে বেশিরভাগ নারী শ্রমিক।

গার্মেন্টেসের শ্রমিকরা জানান, ঘণ্টার পর ঘণ্টা উত্তাপের মাঝে ডিউটি করেও শান্তিতে ফেরার সৌভাগ্য তাদের নেই।

শ্রমিকদের আনা-নেওয়ার জন্য রয়েছে দেড় শতাধিক ফিটনেসবিহীন বাস। যেসব বাস রোডে চলাচলে অযোগ্য ঘোষণা করা হয়। পরে বাসের মালিকরা এই বাসগুলো গার্মেন্টস কোম্পানির কাছে ভাড়া দিয়ে দেয়। বাসগুলোর এমন করুন অবস্থা রাতে টর্চ লাইট দিয়ে অনেক বাস যাতায়াত করে থাকে। বাসের সিটগুলো বসার অনুপযোগী। নির্ধারিত যাত্রীর তিনগুণ বেশি শ্রমিক যাত্রী নিয়ে বাসগুলো চলাচল করে থাকে। বাসগুলোর কোনো বৈধ কাগজপত্র নেই।

একজন শ্রমিক জানান, কোম্পানির বাসগুলো শ্রমিকদের জন্য মরণ ফাঁদ। কয়েক বছরে দুর্ঘটনায় তিন জন শ্রমিকের মৃত্যু হয়েছে এবং অনেকে পঙ্গু হয়ে আছেন। কিন্তু গার্মেন্টস কোম্পানি ক্ষতিগ্রস্ত এসব গার্মেন্টস শ্রমিকদের পরিবারের জন্য সেবামূলক কোনো কিছুই করেনি।

গার্মেন্টস শ্রমিকরা প্রতিদিন এসব ভাড়া বাসে ঝুঁলে মৃত্যুর ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করলেও চাকরি হারানোর ভয়ে প্রতিবাদ করার সাহস পাচ্ছে না এমনকি কোম্পানি বা প্রশাসনের পক্ষ থেকে কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে না।