বিবিসি
ভারত থেকে এক সময় ব্যবসা গুটিয়ে নিতে বাধ্য হয়েছিল জনপ্রিয় পানীয় প্রস্তুতকারক সংস্থা কোকাকোলা এবং সফটওয়্যার জায়ান্ট আইবিএম। সদ্য প্রয়াত ভারতের সাবেক শিল্পমন্ত্রী জর্জ ম্যাথিউ ফার্নান্ডেজ মার্কিন এই কোম্পানিগুলোকে দেশছাড়া করেছিলেন, তেমনি এক সময় তাকেই আবার যুক্তরাষ্ট্রের গোয়েন্দা সংস্থা সিআইএ’র এজেন্ট হিসেবে অভিযুক্ত হতে হয়েছিল। দীর্ঘ অসুস্থতার পর গত মঙ্গলবার ৮৮ বছর বয়সে তিনি মৃত্যুবরণ করেন। এককালে সোশ্যালিস্ট বা সমাজবাদী আন্দোলনের চ্যাম্পিয়ন ও পরে দক্ষিণপন্থী বিজেপির বন্ধুতে পরিণত হওয়া জর্জ ফার্নান্ডেজের মতো আকর্ষণীয় রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব ভারতে খুব কমই আছেন।
গত শতকের সত্তরের দশকের শেষ দিকে কোকাকোলার সঙ্গে জর্জ ম্যাথিউ ফার্নান্ডেজের সংঘাত ভারতে প্রায় লোকগাথার অংশ হয়ে গেছে। ১৯৭৭ সালের সেপ্টেম্বরে ভারতের শিল্পমন্ত্রী হিসেবে ফার্নান্ডেজ দাবি করেছিলেন, বহুজাতিক সংস্থা কোকাকোলাকে ভারতে তাদের ব্যবসার অন্তত ৬০ শতাংশ মালিকানা কোনো ভারতীয় সংস্থার হাতে তুলে দিতে হবে। শুধু তাই নয়, কোকাকোলা পানীয় প্রস্তুত করতে যে কনসেনট্রেট ব্যবহার করে, তার গোপন ফর্মুলাও ওই ভারতীয় সংস্থাকে জানাতে হবে বলে তিনি দাবি জানান। সারা বিশ্বজুড়ে ব্যবসা করলেও এই ফর্মুলা কোথাও ফাঁস করে না কোকাকোলা। ফলে তারা ভারত সরকারের ওই দাবিও মানতে রাজি হয়নি। সে বছরই তারা ভারত থেকে ব্যবসা গুটিয়ে নেয়।
প্রায় দেড় দশক পরে ভারতে প্রধানমন্ত্রী পিভি নরসিমহা রাও ও অর্থমন্ত্রী মনমোহন সিংয়ের নেতৃত্বে যখন আর্থিক উদারীকরণ চলছে, তখন আবার কোক ভারতে ব্যবসা করতে ফিরে আসে। ভারতে ষাট বা সত্তর দশকে যাদের জন্ম, আজকের সেই মধ্যবয়সী বা প্রৌঢ়রা জর্জ ফার্নান্ডেজকে ভারত থেকে কোকাকোলাকে তাড়ানোর জন্য মনে রেখেছেন।
দক্ষিণ কর্নাটকের এক গোঁড়া খ্রিস্টান ক্যাথলিক পরিবারে জন্মানো জর্জ ফার্নান্ডেজকে তার বাবা পাঠিয়েছিলেন যাজক হতে। কিন্তু চার্চের শৃঙ্খলাবদ্ধ জীবন মানতে না পেরে তিনি পালিয়ে যান মুম্বাইতে। অটলবিহারী বাজপেয়ীর ক্যাবিনেটে প্রতিরক্ষা মন্ত্রীও ছিলেন জর্জ ফার্নান্ডেজ। মুম্বাইয়ের চৌপাট্টিতে খোলা আকাশের নিচে তিনি বহু রাত কাটিয়েছেন। কাজ করেছেন খবরের কাগজেও। তারপর শ্রমিক আন্দোলনের সূত্র ধরে একটা সময় রাজনীতিতে ঝাঁপিয়ে পড়েন। তবে দীর্ঘ কয়েক দশক জুড়ে ভারতের রাজনীতিতে জর্জ ফার্নান্ডেজ যে অত্যন্ত প্রভাবশালী একটা নাম ছিল, তাতে কোনো সন্দেহ নেই।