স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের কর্মকর্তার রহস্যজনক মৃত্যু 

রাজধানীর মগবাজারের পেয়ারাবাগের একটি বাসায় স্বাস্থ্য অধিদপ্তরে সাবেক এক কর্মকর্তার মৃত্যু নিয়ে রহস্যের সৃষ্টি হয়েছে। ওই কর্মকর্তার নাম ডা. জিহানুল আলিম (৫৫)। 

তার স্ত্রী ফারহানা ফেরদৌস স্ট্রোক করার কথা বললেও অন্য স্বজনদের বরাতে পুলিশ বলছে, জিহানুলের গলায় দাগ রয়েছে, তিনি আত্মহত্যা করে থাকতে পারেন। সোমবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে পেয়ারাবাগে তার নিজ বাসায় এ ঘটনা ঘটে।


জিহানুল মহাখালীর স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের প্রোগ্রাম ম্যানেজার হিসেবে কর্মরত ছিলেন। অবশ্য একটি সূত্র বলছে, গত ১০ মাস ধরে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরে বিশেষ ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওএসডি) ছিলেন তিনি। তার গ্রামের বাড়ি পিরোজপুরের নাজিরপুর উপজেলায়। ডা. জেহানুল আলিম বর্তমানে তার স্ত্রী ও এক মাত্র মেয়েকে নিয়ে মগবাজার পেয়ারাবাগ রেলগেট এলাকার ৫৮১ নম্বর বাসায় থাকতেন।

জিহানুল আলিমের স্ত্রী ফারহানা আলিম ঢামেকে সাংবাদিকদের বলেন, আমার স্বামী স্ট্রোক করেছেন। তাকে প্রথমে স্থানীয় হাসপাতাল, সেখান থেকে ঢাকা মেডিকেলে নিয়ে এলে কর্তব্যরত চিকিৎসক বিকাল ৩টার দিকে মৃত ঘোষণা করেন। বিষয়টি হাতিরঝিল থানাকে অবহিত করা হয়েছে।


অপরদিকে জিহানুলের অন্য স্বজনদের বরাত দিয়ে পুলিশ বলছে, তিনি গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেছেন। তার গলায় দাগ রয়েছে। তবে কী কারণে গলায় ফাঁস দিতে পারে সে বিষয়ে কিছু জানা যায়নি। 
এদিকে জিহানুলের অন্য স্বজনদের বরাত দিয়ে হাতিরঝিল থানার এসআই ইদ্রিস আলী জানান, ডা. জিহানুল ঋণগ্রস্ত ছিলেন। এ থেকে হতাশায় আত্মহত্যা করতে পারেন বলে ধারনা করা হচ্ছে। তবে লাশের ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পেলে জানা যাবে তার মৃত্যু কিভাবে হয়েছে। 


ঢাকা মেডিক্যাল হাসপাতালের জরুরি বিভাগের আবাসিক চিকিৎসক ডা. আলাউদ্দিন মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, মৃত ডা. জিহানুল আলিমের গলায় কালো দাগ রয়েছে। তাই আমরা ময়নাতদন্তের কথা বলেছি।
ঢামেক হাসপাতালের পুলিশ বক্সের সহকারী উপ-পরিদর্শক (এএসআই) আব্দুল্লাহ খান জানান, সোমবার দুপুরে চিকিৎসক জিহানুল আলিমকে অচেতন অবস্থায় হাসপাতালে আনা হয়। জরুরি বিভাগের কর্তব্যরত চিকিৎসক বেলা পৌনে তিনটার দিকে তাকে মৃত ঘোষণা করেন। ডা. জিহানুল আলিমের স্ত্রী ফারহানা আলিম নিজেই তার স্বামীকে হাসপাতালে আনেন। মৃতের গলায় ফাঁস লাগানোর মতো অর্ধচন্দ্র কালো দাগ রয়েছে। তার স্ত্রী ডিজি হেলথে কর্মরত। 

 

ইত্তেফাক/ইউবি