মানব দেহের প্রধান রেচন অঙ্গ হলো বৃক্ক

জীববিজ্ঞান

আসাদ উজ জামান, প্রভাষক

সরকারি মোহাম্মদপুর মডেল স্কুল এন্ড কলেজ, ঢাকা

 

বৃক্কের কাজ

 

মানব দেহের প্রধান রেচন অঙ্গ হলো বৃক্ক। উদর গহবরের পেছনে  মেরুদণ্ডের দুইপাশে দুটি বৃক্ক অবস্থান করে। মূত্র উত্পাদন বৃক্কের প্রধান কাজ হলেও এটি আরো অনেক কাজ সম্পাদন করে। যথা-

রেচন বর্জ্য অপসারণ: বৃক্ক দেহ থেকে ইউরিয়া, ইউরিক এসিড, ক্রিয়েটিনিন ইত্যাদি নাইট্রোজেন ঘটিত বর্জ্যপদার্থ অপসারণ করে।

দেহের পানি সাম্যতা রক্ষা: রক্তে পানির পরিমাণ বেশি হলে বৃক্ক বেশি মূত্র উত্পন্ন করে এবং রক্তে পানির পারিমাণ কম থাকলে  কম মূত্র উত্পন্ন করে দেহে পানির সাম্যতা রক্ষা করে।

দেহের অভিস্রবন নিয়ন্ত্রণ: দেহের রক্ত ও কোষ কলার অভিস্রবনিক চাপ নিয়ন্ত্রণ করে।

অন্যান্য বস্তু অপসারণ: অতিরিক্ত ওষুধ, চিনি, অ্যামিনোএসিড ইত্যাদি বৃক্কের মাধ্যমে অপসারিত হয়।

লবণের পরিমাণ নিয়ন্ত্রণ: বৃক্ক দেহে সোডিয়াম, পটাসিয়াম, ইত্যাদি লবনের পরিমাণ নিয়ন্ত্রণ করে।

নেফ্রন (Nephron) ঃ

বৃক্কের গঠন ও কার্যকরী একককে নেফ্রন বলে। মানব দেহের প্রতিটি বৃক্কে প্রায় ১০ লক্ষ নেফ্রন থাকে। প্রতিটি  নেফ্রন প্রধানত দুটি অংশের সমন্বয়ে গঠিত। যথা-

১। ম্যালপিজিয়ান বডি।

২। বৃক্কীয়  নালীকা।

ম্যালপিজিয়ান বডি : এটি বৃক্কের সম্মুখ অংশ। প্রতিটি ম্যালপিজিয়ান বডি আবার দুটি অংশে বিভক্ত। যথা-

বোম্যান্স ক্যাপসুল : দুইস্তর বিশিষ্ট পেয়ালার মত অংশ হলো বোম্যান্স ক্যাপসুল।

অ্যাফারেন্ট ধমনী  ক্যাপসুলের ভিতরে ঢুকে রক্ত জালিকার সৃষ্টি করে, একে গ্লোমেরুলাস বলে। গ্লোমেরুলাস ছাঁকনির মতো কাজ করে রক্ত থেকে পরিস্রুত তরল উত্পন্ন করে।

বৃক্কীয় নালীকা : বোম্যান্স ক্যাপসুল পরবর্তী সংগ্রাহী নালী পর্যন্ত বিস্তৃত নালিকাকে বৃক্কীয় নালিকা বলে। দুই বৃক্কে মোট ২০ লক্ষ বৃক্কীয় নালিকা থাকে। প্রতিটি বৃক্কীয় নালিকা ৩টি অংশে বিভক্ত। যথা-

নিকটবর্তী প্যাঁচানো নালীকা

হেনলি-র লুপ

দূরবর্তী প্যাঁচানো নালিকা।

 

নেফ্রনের কাজ

অপ্রয়োজনীয় ও ক্ষতিকর তরল বর্জ্য পদার্থ মূত্রের মাধ্যমে অপসারনে নেফ্রন গুরুত্বপূর্ণ ভুমিকা পালন করে। যথা-

নেফ্রন মূত্র উত্পাদনের একক, এটি অবিরাম মূত্র উত্পাদন করে দেহকে কলূস মুক্ত রাখে।

নেফ্রনের গ্লোমেরুলাস রক্ত থেকে তরল বর্জ্য পৃথক করে বোম্যান্স ক্যাপসুলের মাধ্যমে নিকটবর্তী প্যাঁচানো নালীকায় প্রেরণ করে।

পরবর্তীতে মূত্র হেনলির লুপ ও প্রান্তীয় প্যাঁচানো নালীকার মাধ্যমে সংগ্রাহক নালীতে পৌঁছে।

সংগ্রাহক নালীর তরল বর্জ্য পেলভিস হয়ে ইউরেটারের মাধ্যমে মূত্রথলীতে জমা হয়।

মূত্রথলী মূত্রে পূর্ণ হলে মূত্রনালীর মাধ্যমে দেহের বাহিরে নিষ্কাশিত হয়।

অসমোরেগুলেশন:দেহের ভেতরে রক্ত থেকে অতিরিক্ত পানি নিষ্কাশনের মাধ্যমে দেহে পানি ও লবণের সমতা রক্ষা করার পদ্ধতিকে অসমোরেগুলেশন বলে।

পানির সমতায়/অসমোরেগুলেশনে বৃক্ক প্রধান ভুমিকা পালন করে। যথা-

পানির সমতা: রক্তে পানির পরিমাণ কমে গেলে বৃক্ক কম পরিমাণ মূত্র উত্পন্ন করে এবং রক্তে পানির পরিমাণ বেড়ে গেলে বৃক্ক বেশি মূত্র উত্পন্ন করে। এভাবে দেহে পানির সমতা বজায় থাকে।

সোডিয়ামের সমতা: সোডিয়াম দেহের একটি গুরুত্ব পূর্ণ উপাদান। খাদ্য, পানীয় এবং খাবার লবণের সাথে চাহিদার চেয়ে বেশি সোডিয়াম দেহে প্রবেশ করে, যা বৃক্কের মাধ্যমে দেহ থেকে বের হয়ে যায়।