জলবায়ু পরিবর্তনে বিশ্বে বিরূপ প্রভাব

এক সময় জলবায়ু পরিবর্তনের বাস্তবতা নিয়ে অনেকেই সন্দিহান ছিলেন। কিন্তু বর্তমানে জলবায়ু পরিবর্তনজনিত অভিঘাত বিশ্বের প্রতিটি প্রান্তের মানুষকে মোকাবেলা করতে হচ্ছে। মূলত গত ৫ বছর যাবত পৃথিবী জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাব বড়মাত্রায় প্রত্যক্ষ করেছে এবং এর শিকার হয়েছে। ভয়ংকর শীত, অতি খরা, অতিবৃষ্টি, প্রলয়ঙ্করী ঝড়, অসহনীয় তাপপ্রবাহ, ভূমিধস, অসময়ে বন্যা, জলোচ্ছ্াস, টর্নেডোর মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগ বেড়েই চলেছে। এসব দুর্যোগ জানান দিচ্ছে জলবায়ু পরিবর্তন এখন এক কঠিন বাস্তবতা, এক মূর্তিমান চ্যালেঞ্জ।

গত দুই সপ্তাহ ধরে গোটা বিশ্বে আবহাওয়ার বিচিত্র বিরূপ আচরণ ত্রস্ত করে তুলেছে মানুষকে। ভয়াবহ শীতে জমে যাচ্ছে ইউরোপ-আমেরিকাসহ উত্তর-পশ্চিম গোলার্ধ। অপরদিকে দক্ষিণে অস্ট্রেলিয়া তীব্র গরমে পুড়ে যাচ্ছে। গরমের দাপটে ঘেমে একাকার অস্ট্রেলিয়ার মানুষ। সৌদি আরবে পাঁচদিনের ধূলিঝড়সহ ভারী বর্ষণে সৃষ্ট বন্যায় ১২ জন নিহত হয়েছে। গত রবিবার থেকে শুরু হওয়া টানা বৃষ্টিপাতের ফলে প্লাবিত হয়েছে বিভিন্ন অঞ্চলের প্রধান প্রধান রাস্তাঘাট-বাড়িঘর। আরব নিউজ জানায়, ভারী বর্ষণের কারণে মরু উপত্যকায় বন্যা দেখা দিয়েছে। বন্যাকবলিত এলাকাগুলোতে জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। দুর্গত এলাকাগুলো থেকে এরই মধ্যে তিন শতাধিক লোককে উদ্ধার করা হয়েছে।

ইন্দোনেশিয়ায়ও ভারী বর্ষণের ফলে আকস্মিক বন্যা দেখা দিয়েছে। বন্যার সাথে ভূমিধসে এখন পর্যন্ত অন্তত ৩৩ জন নিহত হয়েছে। কমপক্ষে ২০ হাজার মানুষ ঘরছাড়া হয়েছে। জীবিত অবস্থায় উদ্ধার করা হয়েছে হাজার তিনেক মানুষকে। এখনো নিখোঁজ রয়েছে অর্ধশতাধিক  মানুষ। এদিকে বাংলাদেশের আবহাওয়াও পড়েছে খেয়ালী প্রকৃতির কবলে। তীব্রতা না ছড়িয়েই চলে যাচ্ছে শীত।

জানা গেছে, পূর্ব এবং কেন্দ্রীয় ইউরোপে প্রচণ্ড শীতে এ পর্যন্ত কমপক্ষে ৬০ জনের মৃত্যু হয়েছে। অপরদিকে মেরু অঞ্চল থেকে আসা হিমশীতল ঘূর্ণি বাতাসে ভয়াবহ শীতে কাঁপছে আমেরিকা। সেখানে এখন পর্যন্ত ১২ জনের মৃত্যু হয়েছে। হাড়হিম করা ঠান্ডা। হিমাঙ্কের চেয়ে ৬০ ডিগ্রি নীচে তাপমাত্রা বেশ কিছু জায়গায়। ঠান্ডায় জমে যাচ্ছে আমেরিকা! মিনেসোটায় বাড়ি ছাড়তেও বাধ্য হয়েছেন অনেকে। মিনেসোটায় তাপমাত্রা মাইনাস ৪০ ডিগ্রির আশপাশে। আবহাওয়া দফতর জানিয়েছে, সেখানে হিমাঙ্কের চেয়ে ৭০ ডিগ্রি পর্যন্ত নীচে নামতে পারে তাপমাত্রা। ১৮০০ সালের পর এ বছর এরকম ঠান্ডা পড়েছে মিনেসোটায়। আবহাওয়া দফতর জানাচ্ছে, ম্যাডিসনে হিমাঙ্কের চেয়ে ২৮ ডিগ্রি নীচে রয়েছে তাপমাত্রা। মেরুবৃত্তের প্রায় আড়াই কোটি বাসিন্দা রয়েছেন হিমাঙ্কের চেয়ে ২০ ডিগ্রি নীচে। ওয়াশিংটনে তাপমাত্রা হিমাঙ্কের চেয়ে ৪ ডিগ্রি নীচে। মরণ ঠান্ডা বলেও একে উল্লেখ করেছেন এক আবহাওয়াবিদ। তারা বলছেন, বায়ুস্তরের স্ট্র্যাটোস্ফিয়ারে উত্তর মেরুর দিকে বাতাস বইতে থাকে, কিন্তু তার দিক পরিবর্তন হয়ে মেরু ঝড়ের কারণেই প্রবল শৈত্যপ্রবাহ তৈরি হয়েছে। এদিকে প্রবল ঠান্ডায় জমে যাচ্ছে কানাডাও।

নিউইয়র্কে বসবাসকারী বাংলাদেশি হাসানুজ্জামান হাসান বললেন, ‘আইস এজ’! মনে হচ্ছে যেন চোখের সামনে আস্ত তুষার যুগ দেখছি। বাড়ি থেকে বাইরে মাত্র কয়েক সেকেন্ডের জন্য পা রাখলেই মনে হচ্ছে, একশোটা বরফ-ছুরি ধেয়ে এসে ফালা ফালা করে দিচ্ছে গোটা শরীর। চারটে কখনও কখনও পাঁচটা করে পোশাক পরতে হচ্ছে অধিবাসীদের। মুখ-মাথা ঢাকছি ‘বালাকলাভা’ মাস্ক-এ।