রাজবাড়ীর গোয়ালন্দের দৌলতদিয়া যানজটের ঘাট হিসেবে পরিচিত। নানা কারণে ফেরি পারাপার ব্যাহত হওয়ায় বছরের অধিকাংশ সময় এখানে যানজট লেগেই থাকত। তবে এখন গাড়ির চাপ কমে যাওয়ায় এ ঘাটে যানজটের দৈনন্দিন চিত্র পাল্টে গেছে। এখানে কোনো গাড়ি আর ফেরির অপেক্ষায় থাকছে না। উল্টো গাড়ির অপেক্ষায় অনেক ফেরি বিভিন্ন ঘাট পন্টুনে ভিরে থাকছে।
শনিবার দুপুরে সরেজমিন গিয়ে দেখা যায়, দৌলতদিয়া ঘাটের জিরো পয়েন্ট থেকে দৌলতদিয়া-খুলনা মহাসড়কের গোয়ালন্দ এলাকায় কোথাও কোনো যানজট নেই। এদিকে দৌলতদিয়া ২ নম্বর ঘাট পন্টুনে ভাষা শহীদ বরকত ও কেরামত আলী নামের দুটি, ৩ নম্বর ঘাটে ঢাকা নামের একটি, ৫ নম্বর ঘাটে খানজাহান নামের একটি ফেরি গাড়ির অপেক্ষায় পন্টুনে ভিরে আছে।
বিআইডব্লিউটিসির দৌলতদিয়াঘাট অফিস ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বর্তমানে দৌলতদিয়া-পাটুরিয়া নৌপথের বহরে ছোট বড় মোট ১৭টি ফেরি রয়েছে। এর মধ্যে ৮টি রো রো, ৭টি ইউটিলিটি, ১টি মিডিয়াম ও ১টি কে টাইপ ফেরি সচল রয়েছে। এসব ফেরি সার্বক্ষণিক সচল থাকায় ঘাটে গাড়ি নিয়ে চালকদের আর অপেক্ষা করতে হচ্ছে না। ফলে দক্ষিণাঞ্চলের বিভিন্ন জেলা থেকে ছেড়ে আসা ঢাকাগামী বিভিন্ন গাড়ি দৌলতদিয়ায় এসে সরাসরি ফেরিতে উঠছে। এদিকে ঘন কুয়াশা ও নদীর নাব্যতা সংকট না থাকায় এবং নদী শান্ত থাকায় আগের তুলনায় ফেরি পারাপারের সময় অনেকটা কম লাগছে। অন্যদিকে মাওয়া-কাওড়াকান্দি ঘাট সচল থাকায় ওদিকের গাড়ির বাড়তি চাপও কমে গেছে।
যশোর থেকে ছেড়ে আসা ঢাকাগামী পণ্যবাহী ট্রাক চালক আরিফুল ইসালাম বলেন, ‘কয়েকদিন আগেও দৌলতদিয়া ঘাটে এসে ফেরির নাগাল পেতে তিন চার দিন অপেক্ষা করতে হতো, কিন্তু ঘাটে আসার সাথে সাথে ফেরি পাওয়ায় বিস্মিত হয়েছি’।
দৌলতদিয়া-পাটুরিয়া নৌপথে প্রতিদিন যাত্রীবাহী বাস, পণ্যবাহী ট্রাকসহ কয়েক হাজার বিভিন্ন গাড়ি ও যাত্রী ফেরি পারাপার হয়। তবে ফেরি সংকট, ঘাট সমস্যা, নাব্যতা সংকট, ঘন কুয়াশাসহ নানা কারণে বছরের অধিকাংশ সময় এখানে ফেরি পারাপার ব্যাহত হয়। ফলে নৌপথ পাড়ি দিতে আসা ঢাকাগামী গাড়িগুলো ফেরির অপেক্ষায় ঘণ্টার পর ঘণ্টা ঘাটেই আটকা পড়ে থাকে। এতে সাধারণ বাসযাত্রী, বিশেষ করে নারী ও শিশুরা সবচেয়ে বেশি দুর্ভোগের শিকার হয়। কিন্তু গত ২৭ জানুয়ারি থেকে দৌলতদিয়া ঘাটের চিত্র পাল্টে গেছে। সেখানে আগের মতো কোনো গাড়ি ফেরির অপেক্ষায় থাকছে না।
বিআইডব্লিউটিসির দৌলতদিয়া ঘাট ব্যবস্থাপক (বাণিজ্য) মো. শফিকুল ইসলাম বলেন, নদী এখন শান্ত, নাব্যতা সংকট নেই, ফেরি পারাপারে এখন সময় কম লাগছে। এছাড়া গাড়ির চাপ কম থাকায় আগের মতো কোনো গাড়ি ফেরির অপেক্ষায় থাকছে না।’