রাজনৈতিক উদ্দেশেই আলাপনকে আক্রমণ করছে কেন্দ্রীয় সরকার: তৃণমূল

রাজনৈতিক উদ্দেশ্য চরিতার্থ করতেই পশ্চিমবঙ্গের সাবেক মুখ্য সচিব এবং মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বর্তমান উপদেষ্টা আলাপন বন্দ্যোপাধ্যায়কে কেন্দ্রীয় সরকার আক্রমণ করছে। গতকাল মঙ্গলবার কলকাতায় তৃণমূল ভবনে এক সাংবাদিক সম্মেলনে এই অভিযোগ করেছেন তৃণমূল কংগ্রেসের দুই এমপি সৌগত রায় এবং সুখেন্দু শেখর রায়।

সৌগত রায় অভিযোগ করে বলেন, আলাপনের বিরুদ্ধে প্রতিশোধমূলক আচরণ করছে ভারত সরকার। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির বৈঠকে না থাকায় আলাপনের বিরুদ্ধে বিপর্যয় মোকাবিলা আইনে ব্যবস্থা নেওয়ার কথা বলা হচ্ছে। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় পশ্চিমবঙ্গের বিপর্যয় মোকাবিলা দপ্তরের প্রধান। মুখ্যমন্ত্রী, মুখ্য সচিবই বিপর্যয় মোকাবিলা দপ্তরের দায়িত্বে থাকেন। প্রতিহিংসামূলক যা করা হচ্ছে, তা প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশেই হচ্ছে। কোনো আমলাকে ডাকতে হলে রাজ্য সরকারের মতামত নিতে হয়। ভারত সরকারের এই পদক্ষেপ যুক্তরাষ্ট্রীয় কাঠামোকে দুর্বল করে দিচ্ছে।

সুখেন্দু শেখর রায় বলেন, রাজনৈতিক উদ্দেশ্যেই পশ্চিমবঙ্গের প্রশাসনকে দুর্বল করে দেওয়ার চেষ্টা। অবসরপ্রাপ্ত আমলার বিরুদ্ধে এভাবে বিভাগীয় পদক্ষেপ নেওয়া যায় না।

উল্লেখ্য, গত ৩১ মে আলাপন বন্দ্যোপাধ্যায় অবসর নিয়েছেন। এর আগে ২৭ মে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি পশ্চিমবঙ্গের কলাইকুন্ডায় ঘূর্ণিঝড় ইয়াসের ক্ষয়ক্ষতি নিয়ে বৈঠক ডেকেছিলেন। অভিযোগ, সেই বৈঠকে পশ্চিমবঙ্গের তত্কালীন মুখ্য সচিব আলাপন বন্দ্যোপাধ্যায় যাননি।

পেনশন আটকানো যায় না

পশ্চিমবঙ্গের সাবেক এক আমলা প্রসঙ্গে বলেছেন, চুরির দায়ে কেউ অভিযুক্ত না হলে কারোর পেনশন বা গ্র্যাচুইটি আটকানোর ক্ষমতা ভারত সরকারের নেই। এ নিয়ে ভারতের সুপ্রিম কোর্টের নির্দিষ্ট রায় রয়েছে। আলাপনকে হয়রানি করতে এটা করা হচ্ছে। তবে শোকজ করাই যায়। আলাপন অবসর নিয়েছেন। তারপরও তাকে অবসর নেওয়ার আগের একটি ঘটনা নিয়ে প্রথমে শোকজ এবং পরবর্তী সময় চার্জশিট দেওয়া হয়েছে। এ ক্ষেত্রে আলাপনকে উত্তর অবশ্যই দিতে হবে।

ইত্তেফাক/টিএ