ফল

বর্ষার ফল লটকন

আঙুরের মতো থোকায় থোকায় ঝুলে থাকে গোলাকৃতির হলদে ফল লটকন। আঙুরের নামের সঙ্গে মিল রেখেই এর ইংরেজি নাম Burmese grap। লটকনের বৈজ্ঞানিক নাম Baccaurea sapida। এর ভেতরে হালকা গোলাপি বা বেগুনি রঙের সাদাটে রসালো কোয়া। টক-মিষ্টি স্বাদের এই দেশি ফলটি সাধারণত বর্ষাকালেই পাওয়া যায়।

দেশে বিভিন্ন অঞ্চলে লটকনের কিছু স্থানীয় নাম আছে। চট্টগ্রামে হাডাফাটা, সিলেটে ডুবি আর ময়মনসিংহে কানাইজু নামে পরিচিত। এছাড়াও  লটকা, লটকাউ, কিছুয়ান—এসব নামেও পরিচিত ফলটি। ছোটখাটো ঝাঁকড়া ধরনের এ ফলের গাছের পাতা ডিম্বাকৃতির, গাঢ়সবুজ বর্ণের। ডুমুরের মতো এ গাছের কাণ্ড ও মোটা ডালের বাকল ফেটে লম্বা বৃন্তে গুচ্ছাকারে ফল ধরে। একটি গুচ্ছে বিশ থেকে ত্রিশটি পর্যন্ত ফল থাকে।

অম্লমধুর স্বাদের লটকনকে আগে ফল হিসাবে খুব একটা গুরুত্ব দেওয়া না হলেও বর্তমানে এর পুষ্টিমানের কারণে কদর বেড়েছে। লটকনে রয়েছে প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন ‘বি’। প্রতি গ্রাম লটকনে ভিটামিন বি-১ আছে ১০.০৪ মিলিগ্রাম এবং বি-২ আছে ০.২০ মিলিগ্রাম। পাকা লটকনের খাদ্যমানে প্রতি ১০০ গ্রামে থাকে ৯২ কিলোক্যালরি খাদ্যশক্তি। তাছাড়া রয়েছে প্রচুর পরিমাণ ভিটামিন ‘সি’, আমিষ, লৌহ এবং খনিজ পদার্থ। তবে সব থেকে বিস্ময়কর তথ্য হলো লটকনে আছে কাঁঠালের প্রায় দ্বিগুণ ক্যালরি। পুষ্টিগুণের পাশাপাশি লটকন ভেষজগুণেও পরিপূর্ণ। এটি বমি ভাব দূর করে আর মুখের রুচি ফিরিয়ে দেয়। এর গাছের শুকনো পাতার গুঁড়ো ডায়রিয়ায় খুব উপকারী। এর পাতা ও মূল পেটের পীড়া ও পুরান জ্বর নিরাময়ক। গাছের ছাল ও পাতা চর্মরোগের ওষুধ হিসেবে ব্যবহূত হয়। পুষ্টিবিজ্ঞানীদের মতে, প্রতিদিন কমপক্ষে দু-তিনটে লটকন খেলে যে পুষ্টিমান পাওয়া যাবে তা একজন স্বাভাবিক মানুষের সুস্বাস্থ্যের জন্য যথেষ্ট।