অনুষ্ঠিত হল ন্যাশনাল নিউজপেপার অলিম্পিয়াড কর্তৃক আয়োজিত আলেশামার্ট প্রেজেন্টস এনএনও ন্যাশনাল রাউন্ড ২০২১।
শুক্রবার দিনব্যাপী নানা পর্বের আয়োজনের মধ্য দিয়ে এ অলিম্পিয়াডটি অনুষ্ঠিত হয়। জুম প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে ভার্চুয়াল এ আয়োজনে দেশের নানা প্রান্তের শিশুকিশোর ও তরুণরা অংশ নেয়।
সকাল ১০টায় পবিত্র কুরআন তেলাওয়াতের মধ্য দিয়ে অলিম্পিয়াডের আয়োজন শুরু হয়। এরপর জাতীয় সংগীত পরিবেশনের পরপর অতিথিবৃন্দ বক্তব্য রাখেন। উদ্বোধনী পর্বে বক্তব্য রাখেন সাইবার টিনসের সিইও ও ইন্টারন্যাশনাল চিল্ড্রেন পিস প্রাইজ বিজয়ী সাদাত রহমান। সাদাত বলেন, অনেক বেশি ব্যস্ততার কারণে নিয়মিত সংবাদপত্র পড়া হয়ে ওঠে না। তবে খেলার খবরাখবর রাখা হয়। যেহেতু বিশ্বের যে কোন প্রান্তের খবরাখবর পত্রিকার মাধ্যমে জানা যায়, তাই পত্রিকা পাঠ করা একান্তই প্রয়োজন। এনএনও সে ব্যাপারে আগ্রহ তৈরিতেই কাজ করছে।
আলেশামার্টের এক্সিকিউটিভ ডিরেক্টর জান্নাতুন নাহার বলেন, এনএনও তরুণ সমাজকে অনুপ্রাণিত করছে। এ আয়োজনে সঙ্গী হতে পেরে আলেশামার্ট পরিবার আনন্দিত।
ডেইলি স্টারের চিফ স্ট্যাট্রেজি ও ডিজিটাল ট্রান্সফরমেশন অফিসার মো. তাজদীন হাসান এ আয়োজনে অংশগ্রহণকারীদেরকে পত্রিকা পড়ার পাশাপাশি লেখালেখির চর্চা শুরুর আহ্বান জানান। তিনি তার নিজের ব্লগকে কেমন করে অনেক বেশি প্রচার করতে সক্ষম হয়েছিলেন, সেই গল্প বলেন।
উদ্বোধনী পর্বে সভাপতির বক্তব্য রাখেন নিউজপেপার অলিম্পিয়াডের জ্যেষ্ঠ উপদেষ্টা মাহফুজ ফারুক। তিনি বলেন, এখনকার সময়ে সংবাদ অনেকবেশি পরিমাণে অনলাইনভিত্তিক হয়ে পড়ায় রামুসহ অনেক ঘটনাতেই প্রচুর গুজব ছড়িয়েছে। সচেতন পাঠক হতে গেলে এই বিষয়গুলো মাথায় রাখতে হবে। কোন পত্রিকাটি মূলধারার, আর কারা গুজব ছড়ায়, সেটির পার্থক্য অনুধাবন করতে হবে। তিনি বলেন, সংবাদপত্র শুধু খবরই নয় খেলাধুলা, শিক্ষা, বিজ্ঞান, বিনোদন বিষয়ক তথ্যও আমাদের কাছে পৌছে দেয়। এর মাধ্যমে আমাদের জানার পরিধি বাড়ে।
নিউজপেপার অলিম্পিয়াডের সভাপতি লাব্বী আহসান সকলকে ধন্যবাদ জানান অলিম্পিয়াডের এই আয়োজনে যুক্ত হবার জন্য। ভবিষ্যতে আরও বড় পরিসরে অলিম্পিয়াডকে ছড়িয়ে দেওয়ার প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন তিনি।
দিনব্যাপী আয়োজনে অতিথি হিসেবে আরও যুক্ত হন জনপ্রিয় কন্টেন্ট ক্রিয়েটর রাফায়াত রাকিব। তিনি করোনাকালীন এই পরিস্থিতিতে পজিটিভিটি তৈরির প্রতি বিশেষ গুরুত্ব দেন। আয়োজনের অন্যতম আকর্ষণ ছিল অলিম্পিয়াডের পরীক্ষায় পঞ্চম শ্রেণি পড়ুয়া নাফিসা ও তার মায়ের একসঙ্গে অংশ নেয়া। সাংস্কৃতিক পর্বে যুক্ত হয় ব্যান্ড ক্যাস্টাওয়ে অন দ্য মুন টিম। এর পাশাপাশি অংশগ্রহণকারীদের নিয়ে ফিচার রাইটিং ও সাংবাদিকতার উপর সেশন নিয়েছেন দৈনিক ইত্তেফাকের ফিচার রিপোর্টার সৈয়দ তাওসিফ মোনাওয়ার। স্কিল ডেভেলপমেন্ট নিয়ে সেশন নেন এক্সিলেন্স বাংলাদেশের সিইও বেনজীর আবরার। তারা সবাই প্রতিযোগীদের উৎসাহ দেয়ার পাশাপাশি সংবাদপত্র পাঠে উদ্বুদ্ধ করেন।
অনুষ্ঠানের শেষ পর্যায়ে উপস্থিত হন জনপ্রিয় কন্টেন্ট ক্রিয়েটর ও এনএনও'র ব্র্যান্ড অ্যাম্বাসেডর মাশরুর ইনান, যিনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে 'কিটোভাই' হিসেবে পরিচিত।
পুরো আয়োজনে সহযোগিতা করেছে এক্সিলেন্স বাংলাদেশ, দাঁড়িকমা প্রকাশনী, অ্যাডমিশন অ্যাসিস্ট্যান্ট এবং ডিজিটাল শিক্ষক। এর আগে অলিম্পিয়াডের আঞ্চলিক রাউন্ডে অংশে নেয় প্রায় বিশ হাজার প্রতিযোগী। তাদের মধ্য থেকে নির্বাচিতরা আজকের চূড়ান্ত পর্বে অংশ নেয়। আগামী ৩০ জুন এ উৎসবের সমাপনী পর্বে দেশসেরা পত্রিকা বিশারদ কে হতে যাচ্ছে তা জানা যাবে।