কান্তের সাফল্যের গোপন রহস্য

প্রতিদিনই উন্নতি করছেন ফ্রান্সের মিডফিল্ডার এনগোলো কান্তে। নিজেকেই যেন ছাড়িয়ে যাচ্ছেন প্রতিনিয়ত। নিশ্চিতভাবেই বছরশেষে ব্যক্তিগত পুরস্কারের জোর দাবিদার তিনি। 

একটু বাড়িয়ে অনেকেই বলছেন, এ বছর ব্যালন ডি’অরটাও উঠতে যাচ্ছে কন্তের হাতে। চেলসিকে চ্যাম্পিয়ন্স লিগ জেতাতে জোর ভূমিকা রেখেছেন এই মিডফিল্ডার। 

সেমিফাইনালে রিয়াল মাদ্রিদের বিপক্ষে দুই পর্বেই ম্যাচসেরা হন কান্তে। ম্যানচেস্টার সিটির বিপক্ষে ফাইনাল ম্যাচেও সেরা খেলোয়াড়ের পুরস্কারটা উঠেছে তার হাতে। তার দুর্দান্ত নৈপুন্যেই চেলসির হাতে উঠেছে চ্যাম্পিয়ন্স লিগের শিরোপা।

ব্যালন ডি’অরের জন্য সাধারণত চ্যাম্পিয়ন্স লিগ ও ইউরোপিয়ান ক্লাব ফুটবলের পারফরম্যান্সকেই মানদন্ড হিসেবে ধরা হয়। যেটি গেল একযুগের প্রায় পুরোটা সময় নিজেদের দখলে রেখেছেন লিওনেল মেসি ও ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো। এবারও তারা আছেন বিবেচনায়। সঙ্গে যোগ হয়েছে রবার্ট লেওয়ানডস্কি, কিলিয়ান এমবাপ্পে ও আর্লিং হ্যালান্ডের নামও। তবে সবার ওপরে ভাবা হচ্ছে কান্তের নাম।

কিভাবে এমন সাফল্যের দেখা পাচ্ছেন ফরাসী এই তারকা? গোপন রহস্যের কথা জানালেন বিশ্বকাপে ফ্রান্স জাতীয় দলের ফিজিশিয়ানের দায়িত্ব পালন করা গ্রেগরি দুঁপে। 

তিনি বলেন, তীব্র প্রতিযোগিতার মধ্যে সে দলের সেরা পারফর্মার। সবসময় নিজের সর্বোচ্চ সামর্থ্য অনুযায়ী খেলতে সে সক্ষম এবং ইনজুরিতে পড়লে অন্য যে কারো চেয়ে সে দ্রুত সেরে উঠতে পারে। তার জীবনযাপন এবং অভ্যাসই মূলত তাকে এমন করে তুলেছে। 

রিয়াল মাদ্রিদের ফিটনেস কোচের দায়িত্ব পালন করা দুঁপে আরো বলেন, কান্তে তার খাবারের বিষয়ে বেশ সচেতন। একইসঙ্গে সে প্রচুর পরিমানে ঘুমায়। সে খুবই পেশাদার এবং নিজেকে সবসময় সেরা অবস্থায় রাখার জন্য শরীরের দিকে বেশ খেয়াল রাখে। আশ্চর্যজনক ব্যাপার হচ্ছে, সাড়ে ১১টার পর সে কখনো জাগে না। প্রতিদিন এর আগেই সে ঘুমাতে যায়। 

তারকা ফুটবলারদের বিলাসী জীবনযাপনের মধ্যে একেবারেই ব্যতিক্রম এই মুসলিম ফুটবলার। আর সেজন্যেই সাফল্য ধরা দিয়েছে কন্তের কাছে। 

ক্লাব ফুটবল ছেড়ে কান্তে এখন জাতীয় দলের হয়ে খেলছেন ইউরো চ্যাম্পিয়নশিপে। রাউন্ড অব সিক্সটিনের ম্যাচে আগামীকাল সুইজারল্যান্ডের মুখোমুখি হবে তার দল। কেবল ক্লাবে নয়, জাতীয় দলেও সেরা একাদশের অপরিহার্য সদস্য কান্তে। দলকে ইউরো জেতাতে পারলে ব্যালন ডি’অর পুরস্কারের জন্য তার দাবিটা আরো জোরালো হবে। 

ইত্তেফাক/এএএন