পেশাদারিত্বের অনন্য নিদর্শন

স্পোর্টস রিপোর্টার

ম্যাচ সেরা হয়েছেন কেমার রোচ। তবে, সেই রোচকে ছাপিয়েও ম্যাচের বড় নায়ক আসলে আলজারি জোসেফ। তৃতীয় দিনের খেলা চলাকালেই পেয়েছিলেন মায়ের মৃত্যুর খবর। যদিও, সেই খবরে ভেঙে না পড়ে নিজের পেশাদারিত্বের দায়িত্বটুকু আগে পালন করতে চেয়েছেন তিনি।

আর এখানেও ক্যারিবিয়ান এ পেসার দারুণ সফল। দুই উইকেট পেয়েছেন দ্বিতীয় ইনিংসে। এর সাথে জেসন হোল্ডার ও কেমার রোচ নেন চারটি করে উইকেট। ফলাফল, মাত্র ১৩২ রানে অলআউট হয়ে যায় ইংল্যান্ড। ফলে মাত্র ১৪ রানের লক্ষ্য পায় স্বাগতিকরা। সেই লক্ষ্যটাতে কোনো উইকেট না হারিয়েই জয়ের বন্দরে পৌঁছে যায় ওয়েস্ট ইন্ডিজ। দুই ইনিংস মিলিয়ে আট উইকেট নেওয়ার সুবাদে ম্যাচ সেরার পুরস্কার জিতেছেন কেমার রোচ।

এরই মধ্য দিয়ে ১০ বছর পর ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে টেস্ট সিরিজ জিতে গেল ওয়েস্ট ইন্ডিজ। সেটাও আবার এক ম্যাচ হাতে রেখেই। সর্বশেষ ২০০৯ সালে পাঁচ ম্যাচের টেস্ট সিরিজে নিজেদের মাটিতে এ ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ১-০ ব্যবধানে সিরিজ জিতেছিল ওয়েস্ট ইন্ডিজ। এখানেই শেষ নয়, ২০১২ সালের পর বাংলাদেশ ও জিম্বাবুয়ে বাদে এবারই প্রথমবারের মতো বড় কোনো টেস্ট দলের বিপক্ষে জিতল ক্যারিবিয়ানরা। সিরিজের তৃতীয় ও শেষ টেস্ট শুরু হবে আগামী ৯ ফেব্রুয়ারি।

দারুণ এ জয়টাকে ওয়েস্ট ইন্ডিজ দল আলজারি জোসেফের মায়ের সম্মানে উত্সর্গ করেছে। ম্যাচ শেষে অধিনায়ক জেসন হোল্ডার জানান, মায়ের মৃত্যুর খবর জানার পরও মাঠে ২২ বছর বয়সী জোসেফের উপস্থিতি গোটা দলকেই আরো উজ্জীবিত করে তুলেছিল।

তিনি বলেন, ‘ও যেভাবে আজকে মাঠে ছিল, তার জন্য অনেক সাহস দরকার। আমরা ওর জন্য, ওর মায়ের জন্য বিশেষ কিছু একটা করতে চাচ্ছিলাম। তাই কৃতিত্বটা জোসেফকে দিতেই হচ্ছে।’ ব্রেইন টিউমারে আক্রান্ত হয়ে বেশ কদিন ধরেই ভুগছিলেন জোসেফের মা শ্যারন। এ টেস্টের আগেও তাই জোসেফের খেলা নিশ্চিত ছিল না। তবে, জোসেফ পেশাদারিত্বটাকে বেছে নিয়েছিলেন। চেয়েছিলেন, ম্যাচটা শেষ করেই মায়ের কাছে ছুটে যেতে। তবে, বিধাতা অন্যভাবেই সব কিছু লিখে রেখেছিলেন।

শেষ সময়ে মায়ের পাশে থাকা না হলেও মাঠ থেকে বিজয়ীর বেশেই বিদায় নিতে পেরেছেন জোসেফ। দলের জয়েও তার ভূমিকা কম নয়। দারুণ এক স্পেলে তিনি ফিরিয়ে দিয়েছেন জো ডেনলি ও জো রুটকে। অধিনায়ক হোল্ডার বলেন, ‘আমরা সবাই একত্র হয়ে কেবল ওর জন্যই জয়টা খুব করে চাচ্ছিলাম। ও নিজে থেকেই খেলাটা চালিয়ে যেতে চাচ্ছিল, আমরাও ওকে নিরাশ করতে চাইনি। এ দিনটাকে আমরা ওর জন্য, ওর মায়ের জন্য, ওর পরিবারের জন্য উত্সর্গ করলাম। ও একজন সত্যিকারের চ্যাম্পিয়ন।’