ইত্তেফাক রিপোর্ট
বাংলাদেশে ইউরোপীয় ক্রেতাদের সমন্বয়ে গঠিত বহুল আলোচিত কারখানা পরিদর্শন জোট অ্যাকর্ডের কার্যক্রমের সময়সীমা বাড়ানোর বিষয়ে একটি ইতিবাচক সমাধান প্রত্যাশা করছে জার্মানি। দেশটি বাংলাদেশের দ্বিতীয় প্রধান রপ্তানি গন্তব্য। গতকাল ঢাকায় নিযুক্ত জার্মানির রাষ্ট্রদূত পিটার ফারেনহোল্টজ গার্মেন্টস রপ্তানিকারকদের সংগঠন বিজিএমইএ’র নেতাদের সঙ্গে স্বাক্ষাত্কালে এ ইস্যুটি তোলেন। এ সময় তিনি বলেন, অ্যাকর্ডের মেয়াদ বৃদ্ধি ইস্যুতে তারাও চাপে রয়েছেন। এ জন্য অ্যাকর্ডের কার্যক্রমের সময়সীমা আরো একবছর বাড়ানো যায় কিনা - সে বিষয়ে বিবেচনার জন্য কারখানা মালিকদের অনুরোধ করেছেন।
বৈঠক সূত্র জানিয়েছে, আলোচনায় চলমান শ্রম পরিস্থিতির ইস্যুটি তুলে রাষ্ট্রদূত জানান, এসব বিষয়ে জার্মানির টেলিভিশনে সংবাদ প্রচার করা হচ্ছে । বৈঠকে বিজিএমইএ সভাপতি সিদ্দিকুর রহমান ছাড়াও সহ-সভাপতি মোহাম্মদ নাছির, আ ন ম সাইফুদ্দিন এবং জার্মান দূতাবাসের কাউন্সেলর আন্দ্রেস হার্টম্যান উপস্থিত ছিলেন।
অবশ্য বাংলাদেশের অ্যাকর্ডের কার্যক্রমের মেয়াদ বাড়ানো কিংবা না বাড়ানোর বিষয়টি নির্ভর করছে আদালতের উপর। ওই জোটের কিছু কার্যক্রম নিয়ে আপত্তি জানিয়ে চট্টগ্রামের একটি কারখানা উচ্চ আদালতে আবেদন করে। নির্দিষ্ট মেয়াদ শেষ হওয়ার সম্প্রতি আদালত এক মাসের সময় বাড়িয়ে এ বিষয়ে সরকার, কারখানা মালিকপক্ষ ও অ্যাকর্ডকে নিজেদের মধ্যে আলোচনা করে ঐকমত্যে পৌঁঁছানোর জন্য বলেছেন। ইতোমধ্যে কারখানা মালিক ও সরকারের পক্ষ থেকে কয়েকটি বিষয় পরিপালনের শর্তে তিন মাসের জন্য মেয়াদ বাড়ানো যেতে পারে বলে জানানো হয়েছে।
বৈঠক শেষে বিজিএমইএ সভাপতি সিদ্দিকুর রহমান ইত্তেফাককে বলেন, এটি ছিল মূলত সৌজন্য সাক্ষাত্। তবে আলোচনায় অ্যাকর্ডের কার্যক্রমের মেয়াদ বৃদ্ধি ইস্যুতে কী হচ্ছে, তা রাষ্ট্রদূত জানতে চেয়েছেন। অ্যাকর্ডের বিষয়ে তারা (জার্মানি) চাপে রয়েছে, সেটিও জানিয়েছে। আইনি প্রক্রিয়ায় এক বছর তাদের মেয়াদ বাড়ানো যায় কিনা, সে অনুরোধ জানিয়েছেন। তবে যেহেতু এটি আদালতের হাতে, এ জন্য তারা কোনো হস্তক্ষেপ করতে চান না। আমরা জানিয়েছি, এ বিষয়ে সমঝোতার জন্য একটি ছোট কমিটি করা হয়েছে। আলোচনা চলছে।