৮ গোলের নাটকীয় ম্যাচে ক্রোয়েশিয়াকে হারিয়ে শেষ আটে স্পেন

ফুটবল যদি হয় জীবনের মানে ক্রোয়াটরা তাহলে নির্ঘাত সংগ্রামী তবে ব্যর্থ চরিত্র। হয় না, আজীবন সংগ্রাম করেও সফলতার মুখ দেখেনি কেউ কেউ, অমন! নব্বইটা মিনিটকে যদি ব্যপ্তি ধরি, তাহলে ক্রোয়াটরা জীবনের উত্থান-পতন সবটুকুই দেখে ফেলেছে ওইটুকু সময়ে। স্প্যানিশরাও। দু'দলেরই উত্থান-পতনের এই দ্বান্দ্বিক লড়াইয়ে নব্বই মিনিটে কেউ জেতে নি, কেউ হারেও নি। 

শুরু থেকেই শুরু করা যাক। ইউরোপের শীর্ষ দুই দলের বাঁচা মরার লড়াই। পা হড়কালেই বাড়ি ফেরার টিকিট, জিতলে আরো একবার লড়াইয়ে নামার সুযোগ। এমন ম্যাচে জানবাজি রেখে লড়বে যে কেউই। হচ্ছিলোও তাই। দু'পক্ষই লড়ছিলো সমানতালে, চলছিলো আক্রমন-পাল্টা আক্রমন। সে সময়ই ভুলটা করে বসলেন স্পেন গোলকিপার উনাই এমেরি। পেদ্রির দেয়া ব্যাকপাসটা নিতান্ত অবহেলায় ঠেকাতে চেয়েছিলেন, পা গলে মুহুর্তেই সেটি জড়িয়ে গেল জালে। অপ্রত্যাশিত আনন্দে বিভোর ক্রোয়াট শিবির। স্প্যানিশদের চোখে মুখে ঘোরতর অন্ধকার। 

স্প্যানিয়ার্ডরা ফিরতে জানে। সময় বেশি নেয় নি। ৩৮ মিনিটেই সারাবিয়া ফিরতি শটে বল পাঠান জালে। প্রাণপন চেষ্টায়ও ঠেকিয়ে রাখতে পারলেন ক্রোয়েশিয়ার গোলকিপার।

প্রথমার্ধ্ব শেষ ওই ১-১ স্কোরলাইনে।

বিরতিতে লুই এনরিকে কি মন্ত্র পড়িয়েছেন কে জানে, মাঠে নেমেই ভয়ংকর রূপ নেয় স্প্যানিশরা। বলের নিয়ন্ত্রন রেখে একের পর এক আক্রমন শানায় তারা। ৫৭ মিনিটে আজপিলিকুয়েতার গোলটা যার ফল। 

৭৬ মিনিটে ফেরান তোরেস নাম লেখান স্কোরশিটে। স্পেনের লিড ৩-১। 

এখানেই ম্যাচের শেষ দেখে ফেলেছিলেন হয়তো কেউ কেউ। উপরে একজন মুচকি হাসেন। দৃশ্যপট তো এখনো বাকি! ক্রোয়াটরা হাল ছাড়ে না। ৮৫ মিনিটে ওরসিচ গোল করে ব্যবধান করেন ৩-২।

নির্ধারিত নব্বই মিনিট শেষ। চলছে অতিরিক্ত সময়ের খেলা। ম্যাচে ফিরতে মরিয়া ক্রোয়েশিয়া। অতিরিক্ত সময়ের ২য় মিনিটে গোল করেন পায়ালিচ। 

স্কোরলাইন ৩-৩।

প্রাণ ফিরে পায় ক্রোয়েশিয়া, হতাশ স্পেন। ম্যাচের দৈর্ঘ্য বাড়লো আরো ৩০ মিনিট। আবারো লড়াইয়ে নামে দুু'দল।

হুট করেই চিত্রপটে হাজির আলভারো মোরাতা। সেই মোরাতা, যিনি কিনা আগের ম্যাচে পেনাল্টি মিস করেছিলেন! যিনি একের পর এক সুযোগ নষ্ট করেছেন। এত এত মিসের দায়ে যাকে হুমকি পর্যন্ত দেয় স্প্যানিশ সমর্থকরা। সেই মোরাতা ক্রস থেকে পাওয়া বলটা নিখুঁতভাবে জালে পাঠিয়ে দিলেন! আবারো স্প্যানিয়ার্ড উল্লাস। 

মিনিট তিনেক পর সেই উল্লাস দ্বিগুণ করেন ওয়ারজাবাল। স্কোরশিট বলছে ৫-৩।

যে স্কোরশিট ক্রোয়াটদের পোড়াবে। ম্যাচে ফেরার, যুদ্ধে ফেরার গল্পের কথা জানাবে। স্বপ্ন জ্বেলে সে স্বপ্ন নষ্ট হয়ে যেতে দেখাবে। 

এই স্কোরশিটটাই আবার স্প্যানিশদের কাছে চরম আনন্দের মুহুর্তগুলোর একটা ছবি হয়ে থাকবে! জীবনের রং কতো রকম!


ইত্তেফাক/এনএ