ইত্তেফাক ডেস্ক
ইসলামপুর ও মাদারগঞ্জ স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিত্সক সংকটে প্রত্যাশিত চিকিত্সা মিলছে না, ঠাকুরগাঁও হাসপাতালে ভুয়া সার্টিফিকেট কেনাবেচার অভিযোগসহ বিভিন্ন অনিয়মের অভিযোগ রয়েছে। ইত্তেফাক প্রতিনিধি ও সংবাদদাতাদের পাঠানো খবর:
ইসলামপুর ও মাদারগঞ্জে চিকিত্সক সংকট
জামালপুর:জামালপুর জেলার ইসলামপুর ও মাদারগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিত্সক সংকটের কারণে রোগীরা প্রত্যাশিত চিকিত্সা সেবা পাচ্ছে না বলে জানা গেছে।
এ বিষয়ে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. এ কে এম শহীদুর রহমান বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, ডাক্তার সংকটে হাসপাতালে চিকিত্সা সেবার সমস্যা হচ্ছে। প্রেষণ বদলি বাতিলসহ শূন্যপদে ডাক্তার চেয়ে কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন করা হয়েছে।
অপরদিকে, জেলার মাদারগঞ্জ স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সেও প্রায় একই অবস্থা। ডা. আঞ্জুমান আরা এবং স্বাস্থ্য সহকারী জাহাঙ্গীর আলম বলেন, চিকিত্সক কম। দুজন যতটুকু পারছি চিকিত্সক হিসেবে রোগী দেখে সেবা দিচ্ছি।
এ ব্যাপারে উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা মাজহারুল আলম বলেন, একজন চিকিত্সক দিয়ে স্বাস্থ্য সেবা দেয়া খুবই কঠিন। তারপরও চালিয়ে যেতে হচ্ছে। চিকিত্সকদের উপস্থিতি নিশ্চিতের পাশাপাশি ডেপুটেশন বাতিল করে তাদের নিজ কর্মস্থলে ফিরে এলে মানুষের স্বাস্থ্য সেবা দেওয়া অনেকটাই সম্ভব।
জামালপুরের সিভিল সার্জন ডা. গৌতম রায় বলেন, জেলায় ছয়টি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স, ২৮টি স্বাস্থ্য উপ-কেন্দ্র ও ইউনিয়ন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্র রয়েছে। এসব কেন্দ্রের জন্য ১৭৬ জন চিকিত্সকের স্থলে মাত্র ৮৯ জন রয়েছেন। তার মধ্যে ৩৮ জন চিকিত্সক ডেপুটেশনে অন্যত্র চলে যাওয়ায় মাত্র ৫১ জন চিকিত্সক দিয়ে সারা জেলায় চিকিত্সা দেওয়া হয়ে থাকে।
ঠাকুরগাঁও হাসপাতালে ভুয়া সার্টিফিকেট কেনাবেচা!
ঠাকুরগাঁও:ভুয়া মেডিক্যাল সার্টিফিকেট কেনাবেচার আখড়া হয়ে উঠছে ঠাকুরগাঁও আধুনিক সদর হাসপাতাল। আর এসব ভুয়া সার্টিফিকেট দেখিয়ে থানায় খুন, ধর্ষণ, নির্যাতনসহ বিভিন্ন মামলা করা হচ্ছে। ফলে ন্যায়বিচার থেকে বঞ্চিত হচ্ছে অনেক সাধারণ মানুষ। পাশাপাশি প্রকৃত চিকিত্সকদের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন্ন হচ্ছে।
সরেজমিনে জানা গেছে, হাসপাতালের বহির্বিভাগ, জরুরি বিভাগ ও ভেতরে ভুয়া সার্টিফিকেট বিক্রির জন্য মক্কেল ধরতে ওত পেতে থাকে চক্রের সদস্যরা। সংঘর্ষ অথবা নির্যাতনে কেউ আহত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হলে তারা প্রথমে সহযোগিতার ভান করে রোগী ও স্বজনদের সঙ্গে খাতির জমায়। মামলা করার ইচ্ছে আছে জানতে পারলেই মেডিক্যাল সার্টিফিকেট পাইয়ে দেয়ার কথা বলে চুক্তি করে। সার্টিফিকেটভেদে মক্কেলের কাছ থেকে সর্বনিম্ন ১ থেকে ১০ হাজার টাকাও নেয় তারা। পরে বিভিন্ন বিভাগের চিকিত্সকের নাম, পদবি ও স্বাক্ষর নকল করে মেডিক্যাল সার্টিফিকেট দেয়া হয়।
সম্প্রতি ঠাকুরগাঁও থানায় দায়ের নারী ও শিশু নির্যাতন মামলার বাদী শেফালি বেগম হাসপাতালে চিকিত্সা নেন বলে মামলায় উল্লেখ করা হয়। যাচাইকালে দেখা গেছে ভুয়া টিকিটে ভুয়া চিকিত্সক তাকে চিকিত্সা ও ইনজুরি সার্টিফিকেট দিয়েছেন।
এদিকে ঠাকুরগাঁও আধুনিক সদর হাসপাতালের সিভিল সার্জন ডা. আবু মোঃ খায়রুল কবিরের কাছে জানতে চাইলে তিনি ভুয়া সার্টিফিকেট দেয়ার কথা অস্বীকার করে বলেন, ডাক্তারদের সঠিক সার্টিফিকেট দেয়ার নির্দেশ দেয়া আছে।
নিকলী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে পানি নেই আড়াই মাস
নিকলী (কিশোরগঞ্জ):গত আড়াই মাস ধরে কিশোরগঞ্জের নিকলী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে পানি সরবরাহের পাম্পটি বিকল হয়ে আছে। পাম্পটি বিকল থাকায় ৩১ শয্যাবিশিষ্ট এ স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি হওয়া রোগী ও স্বজনদের দুর্ভোগ চরম আকার ধারণ করেছে। শৌচকার্যসহ নানা বিড়ম্বনায় রয়েছেন রোগীসহ চিকিত্সকরা। বুধবার সকাল ১০টার দিকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে সরেজমিনে দেখা যায়, রোগীদের প্রচণ্ড ভিড়। ডায়রিয়া ও নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত রোগীর ভিড় ছিল সবচেয়ে বেশি। দুপুর ১২টা পর্যন্ত রোগী ভর্তি ছিলেন ৫৯ জন। স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের দ্বিতীয় তলায় নারী ও শিশু ওয়ার্ডের শৌচাগারের সামনে কয়েকজন দাঁড়িয়ে।
নিকলী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. আস আদ দীন মাহমুদ বলেন, গত বছর ১১ নভেম্বর স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের পানি সরবরাহের মোটর পাম্পটি বিকল হয়ে গেলে নির্বাহী প্রকৌশল স্বাস্থ্য বিভাগ ময়মনসিংহকে লিখিতভাবে তিনবার জানানো হয়েছে। কিন্তু আড়াই মাসেও বিকল মোটর পাম্পটি মেরামত করতে কর্তৃপক্ষ কোনো উদ্যোগ নেয়নি। বা ওই বিভাগের কোনো প্রতিনিধিকেও পাঠাননি।