ফেনী সীমান্ত হাটে অনির্দিষ্টকালের ধর্মঘট পালন করছে বাংলাদেশি ব্যবসায়ীরা। অসম বাণিজ্য ও ভারতীয় ক্রেতাদের হাটে প্রবেশে সেদেশের কড়াকড়ি আরোপ করায় এ ধর্মঘট চলছে। তিন সপ্তাহ পেরিয়ে গেলেও সমস্যা সমাধানে উদ্যোগ নেয়া হয়নি। তাই দূর-দূরান্ত থেকে হাটে এসে ফিরে যেতে হচ্ছে ক্রেতা-দর্শনার্থীদের।
ফেনী সীমান্ত হাট ব্যবসায়ী সমিতির সাধারণ সম্পাদক মো. আতাউর রহমান জানান, সীমান্তবাসীদের মধ্যে সমপ্রীতি বাড়ানো ও বাণিজ্য প্রসারের লক্ষ্যে বাংলাদেশের মধুগ্রাম ও ভারতের শ্রীনগর সীমান্তে ২০১৫ সালের ১৩ জানুয়ারি চালু হয় দেশের তৃতীয় সীমান্ত হাট। প্রতি মঙ্গলবার বসে হাট। শুরুতে দু’দেশের ১৫ শ’ করে তিন হাজার বাসিন্দা নিত্যপণ্য কিনতে আসত। তবে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনীর কড়াকড়ি আরোপে সেদেশের ক্রেতারা হাটে তেমন আসছে না। অন্যদিকে হাটে উঠছে চুক্তি বহির্ভূত ভারতীয় পণ্য।
সেদেশের ক্রেতারা বাজারে না আসায় ও অসম বাণিজ্যের কারণে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে দেশীয় ব্যবসায়ীরা। প্রতি হাটে বাংলাদেশি ২৭ দোকানি গড়ে ৫ হাজার টাকার পণ্য বিক্রি করে। সেখানে ভারতীয় ২৭ দোকানির গড়ে ৫ লাখ টাকার বেশি পণ্য বিক্রি হয়।
ফেনী সীমান্ত হাট ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি মো. রফিক মিলন জানান, উভয় দেশের ক্রেতারা সর্বোচ্চ দুইশ ডলারের পণ্য ক্রয় করতে পারে। ভারতীয় ক্রেতারা ৫ কেজির বেশি পণ্য কিনলে বিএসএফ তা রেখে দেয়। বিপরীতে বাংলাদেশি ক্রেতারা তিন/চার শ’ ডলার মূল্যের পণ্য কিনলেও বিজিবি তাতে বাধা দেয় না। এতে বাংলাদেশি বিক্রেতারা অব্যাহত লোকসানের মুখে পড়ে। এ অবস্থায় গত ১৫ জানুয়ারি থেকে তারা অনির্দিষ্টকালের ধর্মঘটের ডাক দিয়েছে। ব্যবসায়ীরা টানা দু’সপ্তাহ অবস্থান কর্মসূচির পাশাপাশি মানববন্ধন ও বিক্ষোভ মিছিল করেছে।
ফেনী ৪ বিজিবি’র পরিচালক লে.কর্নেল শামীম ইফতেখার বলেন, সীমান্ত বাজারে আসতে ভারতীয় নাগরিকদের ওপর কড়াকড়ি আরোপ করেছে বিএসএফ। তাই বাংলাদেশি ব্যবসায়ীরা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।
ছাগলনাইয়া উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান মো. মেছবাউল হায়দার চৌধুরী সোহেল বলেন, হাট পরিচালনায় গঠিত কমিটির যৌথ মিটিং হলে সমস্যা সমাধান হয়ে যাবে।
ফেনী জেলা প্রশাসক মো. ওয়াহিদুজ্জামান জানান, যেহেতু হাটে অসম্য বাণিজ্য হচ্ছে সেহেতু ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে দেশীয় ব্যবসায়ীরা। হাট চালু থাকলে লাভবান হয় ভারতের ব্যবসায়ীরা। আর বন্ধ থাকলেও তারাই বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হবে। ভারত থেকে যতক্ষণ না আমাদের সাথে বিষয়টি সমাধানের জন্য বসতে রাজি হবে ততদিন আমরাও এটি নিয়ে তাদের সাথে আলোচনায় বসব না। আমাদের ব্যবসায়ীরাও এ বিষয়ে একমত হয়েছে।