জবি ছাত্রলীগের দু’গ্রুপে দিনভর সংঘর্ষে আহত ১৫, কমিটি স্থগিত

ক্যাম্পাসে আধিপত্য বিস্তার ও পূর্বের ঘটনার জের ধরে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের দুই গ্রুপের মধ্যে দফায় দফায় সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এসময় চারটি বাস ভাঙচুর করা হয়। আহত হয় ১৫ ছাত্রলীগ কর্মী।

সংঘর্ষের সময় ক্যাম্পাসে একাধিক ককটেল বিস্ফোরণের শব্দ শোনা যায়। এ ছাড়াও বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী প্রক্টর সহকারী অধ্যাপক শাহীন মোল্লাসহ প্রক্টরিয়াল বডির কয়েকজন সদস্য আহত হন। হেলমেট পরিহিত ছাত্রলীগের দুই গ্রুপের কর্মীরা লোহার রড, লাঠি, হাতুড়ি, চাপাতিসহ দেশীয় অস্ত্র নিয়ে ক্যাম্পাসে মহড়া দেয়। এসময় বিশ্ববিদ্যালয়ের সাধারণ শিক্ষার্থীরা আতঙ্কিত হয়ে ক্যাম্পাসে দৌড়াদৌড়ি শুরু করে। বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগ ক্যাম্পাসের স্থিতিশীলতা রক্ষা করতে না পারায় তাদের সাংগঠনিক কার্যক্রম স্থগিত করেছে কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগ। গতকাল রবিবার সকাল সাড়ে আটটা থেকে দুপুর দুইটা পর্যন্ত সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। পূর্বের একটি ঘটনার জের ধরে গতকাল সকাল সাড়ে আটটার দিকে সভাপতি ও সাধারণ সম্পদকের গ্রুপের কর্মীরা ক্যাম্পাসে শহীদ মিনারের সামনে ও বিজ্ঞান ভবনের চত্বরে অবস্থান নেয়। সভাপতি গ্রুপের কর্মীরা সাধারণ সম্পাদকের গ্রুপের কর্মীদের ধাওয়া দিয়ে ক্যাম্পাসের পিছনের গেট দিয়ে বের করে দেয়। সভাপতি গ্রপের কর্মীরা ক্যাম্পাসের ভিতরে অবস্থান নেয়। সাড়ে ১১টার দিকে সাধারণ সম্পাদক কর্মীরা প্রধান ফটক দিয়ে ক্যাম্পাসে ঢুকতে চাইলে সভাপতি গ্রুপের কর্মীরা তাদের আবার ধাওয়া করে। এসময় বিশ্ববিদ্যালয় প্রক্টরিয়াল বডির সদস্যরা ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার মাঝখানে পড়ে যায়।

সহকারী প্রক্টর শাহীন মোল্লাসহ কয়েকজন ইটের আঘাতে আহত হন। এসময় বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ভবন, বিজ্ঞান ভবন ও ক্যান্টিনের সামনে কয়েকটি ককটেল বিস্ফোরণের শব্দ শোনা যায়। ক্যাম্পাসের ভিতরে দাঁড়িয়ে থাকা চারটি বাস ভাঙচুর করা হয়। দুপুর ১টার দিকে ক্যাম্পাসের ভিতরে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হলে সাধারণ সম্পাদকের কর্মীরা আবার ক্যাম্পাসে প্রবেশ করতে চাইলে সভাপতি গ্রুপের কর্মীরা তাদের ওপর হামলা করে। এসময় বিশ্ববিদ্যালয়ের রফিক ভবনের নিচে পরিসংখ্যান বিভাগের শ্রেণিকক্ষের দরজা ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে। সংঘর্ষের সময় অর্ধশতাধিক ছাত্রলীগ কর্মী হেলমেট পরিহিত ছিল। তারা ক্যাম্পাসের সাধারণ শিক্ষার্থীদের মোটর বাইকে থাকা হেলমেট জোর করে কেড়ে নেয়।

অবকাশ ভবনের তৃতীয় তলা সাংবাদিক সমিতি থেকে সাংবাদিকরা ঘটনার ছবি ও ভিডিও করতে চাইলে ছাত্রলীগের নারী কর্মীরা সমিতির ভিতর প্রবেশ করে সাংবাদিকদের মোবাইল কেড়ে নেওয়ার চেষ্টা করে।

সংঘর্ষের ঘটনায় ১৫ ছাত্রলীগ কর্মী আহত হন। এ ঘটনায় গঠিত তদন্ত কমিটিকে আগামী সাত কর্মদিবসের মধ্যে তদন্ত রিপোর্ট জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। জবি ছাত্রলীগের সভাপতি তরিকুল ইসলাম বলেন, গত বৃহস্পতিবার মেয়েলি একটা বিষয় নিয়ে সাধারণ সম্পাদকের কর্মীরা ছাত্রলীগের দুই কর্মীকে মারধর করে। রবিবার এ ঘটনার সমাধানে আমাদের নিজেদের মধ্যে বসার কথা ছিল; কিন্তু সাধারণ সম্পাদকের কর্মীরা তার আগেই আমার কর্মীদের উপর আক্রমণ করে। জবি ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক শেখ জয়নুল আবেদিন রাসেল বলেন, পূর্ব-ঘটনার জেরে মারামারির সূত্রপাত হয়। আমার কর্মীদের ওপর  সভাপতি গ্রুপের কর্মীরা আক্রমণ করে।

কোতোয়ালি জোনের এসি বদরুল হাসান বলেন, ক্যাম্পাসে ছাত্রলীগের দুই গ্রুপের ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া চলার সময় মাঝখানে অবস্থান নেই। দুই পক্ষকে আলাদা রেখে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনি। বিশ্ববিদ্যালয় প্রক্টর ড. নূর মোহাম্মদ বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের সাথে আলোচনা করে জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। বিশ্ববিদ্যালয় উপাচার্য ড. মীজানুর রহমান বলেন, সংঘর্ষের ঘটনায় প্রক্টরিয়াল বডিকে একটি প্রতিবেদন তৈরি করতে বলা হয়েছে।