নগরবিদদের মতে অন্তত ১০টি পয়েন্টে জেব্রা ক্রসিং প্রয়োজন। এগুলো হলো-মণ্ডলপাড়া মোড়, গণবিদ্যা নিকেতন স্কুলসংলগ্ন সড়ক, মর্গ্যান স্কুল সংলগ্ন মোড়, ২নং রেল গেট মোড়, গ্রিনলেজ ব্যাংকের
মোড়, চাষাঢ়া চৌরাস্তা, মিশনপাড়া, মেট্রোহল, মহিলা কলেজ ও তোলারাম কলেজের সামনের রাস্তা
হাবিবুর রহমান বাদল, নারায়ণগঞ্জ
নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশন (এনসিসি) বলছে ‘দায়িত্ব পুলিশের’ আর পুলিশ আঙ্গুল তুলছে সিটি করপোরেশনের দিকে। এভাবেই স্থানীয় সরকার ও প্রশাসনের সমন্বয়হীনতার কারণে থেকেই যাচ্ছে নারায়ণগঞ্জের অনেক সমস্যা। আর তাতে ভুগতে হচ্ছে সাধারণ মানুষদের- এমনই একটি সমস্যা হচ্ছে জনগণের সড়ক পারাপারের সমস্যা। ব্যস্ত সড়কে ফুট ওভারব্রিজ ও জেব্রা ক্রসিং না থাকায় পথচারীদের ঝুঁকি নিয়ে রাস্তা পার হতে হচ্ছে। প্রায়শই দুর্ঘটনায় হতাহতের ঘটনাও ঘটছে।
অন্য দিকে ফুটওভার ব্রিজ প্রকল্পটি জাইকার অফিসে ফাইলবন্দি থাকায় সেটি আপাতত হচ্ছে বলে মনে হচ্ছে না, তবে জেব্রা ক্রসিং তৈরি এনসিসি’র সামর্থ্যের মধ্যেই রয়েছে।’ অথচ, এ জরুরি বিষয়ে কার্যকর উদ্যোগ নিতে দেখা যাচ্ছে না দায়িত্বরত কর্তৃপক্ষকে।
নিয়ম অনুযায়ী, নগরীর প্রতিটি মোড়ে ফুটওভার ব্রিজ বা জেব্রা ক্রসিং দেওয়ার দায়িত্ব নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের। অথচ নগরীর কোনো সড়কেই ফুটওভার ব্রিজ অথবা জেব্রা ক্রসিং- এগুলোর কোনোটিই নেই। নগরীর বিভিন্ন সড়ক ঘুরে দেখা যায়, দ্বিমুখী ও চতুর্মুখী গুরুত্বপূর্ণ মোড় রয়েছে প্রায় ২০টি। এছাড়া নগর ভবন থেকে চাষাঢ়া ও চাষাঢ়া হতে খানপুর হাসপাতাল পর্যন্ত সড়ক ডিভাইডারগুলোতে (আইল্যান্ড) পথচারী পারাপারের জন্য কিছুটা ফাঁক রাখা হয়েছে। এরকম ফাঁক রয়েছে প্রায় ২৭টি স্থানে। কিন্তু জেব্রা ক্রসিং না থাকায় এসব স্থান দিয়ে অত্যন্ত ঝুঁকি নিয়ে সড়ক পার হতে হচ্ছে পথচারীদের। অনেক সময় গাড়ি থামাতে হাত উঁচিয়ে দৌড় দিচ্ছেন তারা। এতে প্রায়শই ঘটছে দুর্ঘটনা, হতাহত হচ্ছে মানুষ। ২০১৭ সালের ২৯ জানুয়ারি চাষাঢ়া মহিলা কলেজের সামনে আনন্দ পরিবহনের বাসের চাপায় পাঁচ বছরের এক পথচারী শিশু নিহত হয়েছে। এর আগে ২০১৬ সালের ২৯ অক্টোবর চাষাঢ়ায় আনন্দ পরিবহনের বাসের চাপায় দোলন (১১) নামে আরো এক শিশুর মৃত্যু হয়।
পথচারীদের অনেকেই বলেন, সড়কের সৌন্দর্য বাড়িয়ে লাভ কি, যদি জীবনের ঝুঁকি নিয়েই চলাচল করতে হয়। সবার আগে প্রয়োজন নির্দিষ্ট স্থান দিয়ে আমাদের রাস্তা পারাপারের ব্যবস্থা করে দেওয়া। জেব্রা ক্রসিং করা হচ্ছে না কেন, জানতে চাইলে নাসিকের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা এহতেশামুল হক বলেন, ‘জেব্রা ক্রসিং এর পয়েন্ট কোথায় কোথায় হবে সেটাই চিহ্নিত করা হয়নি। এটি চিহ্নিত করবে ট্রাফিক বিভাগ। জেব্রা ক্রসিং করার ক্ষেত্রে শুধু আমরা নই, ট্রাফিক পুলিশকেও সংযুক্ত করতে হবে’। অন্য দিকে, টিআই শরফুদ্দিন নামে এক ট্রাফিক পুলিশ নাসিকের সমালোচনা করে বলেন, ‘আমরা হয়তো বলে দিতে পারবো কোথায় জেব্রা ক্রসিং করতে হবে, কিন্তু এটি করার দায়িত্ব সিটি করপোরেশনের। আমরা জেব্রা ক্রসিং করতে একাধিকবার জানিয়েছি। কিন্তু কোনো কাজ হয়নি। বর্তমানে চাষাঢ়া, গ্রিনলেজ ব্যাংকের মোড় ও ২নং রেলগেটে জরুরি জেব্রা ক্রসিং প্রয়োজন। এ ছাড়া শিবু মার্কেট ও জালকুড়িতেও এটি করা দরকার’।
নগরবিদদের মতে নারায়ণগঞ্জ শহরে অন্তত ১০টি পয়েন্টে বর্তমানে জেব্রা ক্রসিং প্রয়োজন। এগুলো হলো- মণ্ডলপাড়া মোড়, গণবিদ্যা নিকেতন স্কুলসংলগ্ন সড়ক, মর্গ্যান স্কুল সংলগ্ন মোড়, ২নং রেল গেট মোড়, গ্রিনলেজ ব্যাংকের মোড়, চাষাঢ়া চৌরাস্তা, মিশনপাড়া, মেট্টোহল, মহিলা কলেজ ও তুলারাম কলেজের সামনের রাস্তা।