বাড়ছে নদীভাঙনের আশঙ্কা
বাবুল আকতার মঞ্জুর, শিবালয় (মানিকগঞ্জ) সংবাদদাতা
শিবালয় উপজেলার গুরুত্বপূর্ণ উথলী-জাফরগঞ্জ সড়কের পাশে বাশাইল-কলাবাগান নামক স্থানে কান্তাবতী নদী থেকে কতিপয় ব্যক্তি দীর্ঘদিন যাবত্ প্রকাশ্যে অবৈধভাবে বিপুল পরিমাণ মাটি কেটে নিয়ে যাচ্ছে। মাটি বোঝাই ছোট-বড় ট্রাকসহ যানবাহনের চাপে গ্রামের রাস্তা ভেঙে যাচ্ছে, ধুলা-বালিতে পরিবেশ দূষিত হচ্ছে। মাটিখেকোদের বিরুদ্ধে স্থানীয় লোকজন সংশ্লিষ্ট দপ্তরে লিখিত অভিযোগ করলেও কেউ কোনো ব্যবস্থা নিচ্ছেন না। ফলে এলাকাবাসীর মাঝে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
জানা গেছে, যমুনার শাখা কান্তাবতী নদী জাফরগঞ্জ থেকে প্রায় আট কিলোমিটার দূরবর্তী বাড়াদিয়ায় এসে ইছামতিতে মিশেছে। বর্ষায় নদীতে প্রবল স্রোত থাকলেও শুষ্ক মওসুমে নদী বক্ষের অনেকাংশে পলি জমে পানিশূন্য হয়ে পড়ে। ঠিক তখনই এলাকার কিছু প্রভাবশালী লোক নদী থেকে মাটি কেটে নিয়ে ব্যক্তিগত বা বাণিজ্যিক কাজে লাগায়। অসাধু ব্যবসায়ীরা নদী বক্ষে ড্রেজার ও এস্কেবেটর দিয়ে মাটি কেটে নিয়ে যাচ্ছে। অপরিকল্পিতভাবে মাটি কাটার ফলে বর্ষায় কান্তাবতী নদীর পাড় ভেঙে পড়ার আশংকা করা হচ্ছে। নদীবক্ষে যত্রতত্র মাটি কাটায় বর্ষায় এর স্বাভাবিক গতিপথ পরিবর্তিত হয়ে পার্শ্ববর্তী সড়ক, ঘরবাড়ি, ফসলি জমিসহ বিভিন্ন স্থাপনা ভেঙে পড়ার আশংকা রয়েছে। নদী-নালা, খাল-বিল, জলাশয় থেকে সরকারি অনুমতি ছাড়া মাটি কাটা নিষেধ হলেও প্রভাবশালীরা এর কোনো তোয়াক্কা না করে দিবা-রাত্রি এহেন অপতত্পরতায় লিপ্ত রয়েছে। উথলী ইউপির তিন ও ছয় নম্বর ওয়ার্ড মেম্বার, স্থানীয় মোহাম্মদ আলী মোহন এবং এক যুবলীগ নেতার মদদে এ স্থানে নদী থেকে মাটি কাটা হচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে। তবে এ বিষয়ে অভিযুক্তরা ব্যক্তিগত জমি থেকে মাটি কাটা হচ্ছে বলে দাবি করেন।
শিবালয় উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) নাহিয়ান আহমেদ ইত্তেফাককে জানান, নদী থেকে অবৈধভাবে মাটি কাটার সঙ্গে জড়িত ইউপি মেম্বারসহ অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। ইউএনও মেহেদী হাসান জানান, বিনা অনুমতিতে নদী বক্ষে মাটি কাটার সাথে জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।