ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের নেতৃত্বাধীন ১৪ দল শরিক বাংলাদেশ জাসদের শুক্র ও শনিবার দু’দিনব্যাপী জাতীয় কমিটির সভা হয়েছে। সভা শেষে গণমাধ্যমে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, সভায় একাদশ সংসদ নির্বাচন সম্পর্কে বলা হয়েছে— নির্বাচনে দেশের সকল রাজনৈতিক দল ও জনগণ উদ্দীপনা ও আশা নিয়ে অংশগ্রহণ করলেও নির্বাচনের পরে বিষণ্নতায় আক্রান্ত হয়েছে গোটা জাতি। এর মূল কারণ হচ্ছে প্রশাসনের এক শ্রেণির অতি উত্সাহী অংশ ভোটের পূর্বরাতেই ভুয়া ভোটের মাধ্যমে ব্যালট বাক্স ভর্তি করে রাখাসহ নানা অনিয়ম সংঘটিত করেছে। এ ধরনের ন্যক্কারজনক ঘটনা নজিরবিহীন। গণতন্ত্রের ধারাবাহিকতা রক্ষার স্বার্থেই তাদের চিহ্নিত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন। ভবিষ্যতে এ ধরনের নির্বাচনের পুনরাবৃত্তি যেন না ঘটে তা নিশ্চিত করতে হবে।
সভায় ১৪ দল সম্পর্কে বলা হয়েছে, বাংলাদেশ জাসদ মনে করে- যে রাজনৈতিক প্রয়োজনে ১৪ দলীয় জোট গঠিত হয়েছিল তা এখনও বহাল রয়েছে। ক্ষমতাসীন রাজনৈতিক দল যদি ১৪ দলের প্রয়োজনীয়তা অনুভব না করে ১৪ দল ত্যাগও করে, তবুও অন্যান্য শরিক দল ১৪ দলের ধারাবাহিকতা বজায় রেখে মুক্তিযুদ্ধের চেতনার পরিপূর্ণ বাস্তবায়নের লক্ষ্যে ’৭১-এর যুদ্ধাপরাধী, জঙ্গিবাদ, সাম্প্রদায়িকতার বিরুদ্ধে লড়াই অব্যাহত রাখবে।
সভায় দলীয় কর্মসূচির বিষয়ে বলা হয়েছে, একটি প্রগতিশীল গণতান্ত্রিক দল হিসেবে বাংলাদেশ জাসদ সমতা-গণতন্ত্র-ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার লড়াইকে জয়যুক্ত করার জন্য আশু কর্মসূচি প্রণয়ন করে ধারাবাহিক আন্দোলন গড়ে তুলবে। বাংলাদেশ জাসদের সভাপতি শরীফ নুরুল আম্বিয়ার সভাপতিত্বে ঢাকার তোপখানা রোডস্থ বাংলাদেশ শিশু কল্যাণ পরিষদ মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত সভায় অন্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন দলের কার্যকরী সভাপতি মইনউদ্দিন খান বাদল এমপি, সাধারণ সম্পাদক নাজমুল হক প্রধান, স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. মুশতাক হোসেন প্রমুখ।