শিক্ষকের গাফিলতিতে পিএসসিতে অংশ নিতে পারছে না ৪ শিক্ষার্থী

প্রধান শিক্ষকের গাফিলতির কারণে পরীক্ষার ফরম পূরনসহ প্রাইভেটের টাকা পরিশোধের পরও পিএসসি পরীক্ষায় অংশ নেওয়া হচ্ছে না ৪ শিক্ষার্থীর। পটুয়াখালীর কলাপাড়ার গোলবুনিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক গোলাম মোস্তফা বাবুলের বিরুদ্ধে এ অভিযোগ করেছেন শিক্ষার্থীদের অভিভাবকরা।

শনিবার কলাপাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকতার কাছে প্রেরিত অভিযোগে জানা গেছে, রবিবার পিএসসি পরীক্ষায় অংশ নেওয়ার জন্য শিক্ষার্থী আসাদুল বিশ্বাস, সজল মৃধা, সাহাদ সরদার ও সাগর মৃধা গত বৃহস্পতিবার পরীক্ষায় প্রবেশপত্র আনতে বিদ্যালয়ে যায়। কিন্তু তাদের প্রবেশপত্র না দিয়ে ফেরত পাঠায় প্রধান শিক্ষক। তাৎক্ষণিক অভিভাবকরা বিদ্যালয়ে গেলে প্রধান শিক্ষক তাদের জানিয়ে দেন তারা এ বছর পরীক্ষায় অংশ গ্রহণ করতে পারবে না। তালিকায় তাদের নাম আসে নেই।

শিক্ষার্থী আসাদুল জানায়, আমরা মডেল পরীক্ষা দিয়েছি। তখনও আমাদের স্কুলের বারান্দায় বসে পরীক্ষা নেওয়া হয়েছে। এখন পরীক্ষা দিতে না পারলে তো আমাদের লেখাপড়া বন্ধ হয়ে যাবে। শিক্ষাজীবন থেকে ঝরে যাবে একটি বছর।

আসাদের মা আসমা বেগম বলেন, স্যারের ফরম পূরণের টাকা, প্রাইভেটের টাকা সব দিয়েছি। তাহলে আমার ছেলে কেন পরীক্ষা দিতে পারবে না? তালিকায় ছাত্রদের নাম কেন থাকবে না? স্যারে কী আমাদের টাকা জমা দেয়নি? একই কথা বলেন অন্য শিক্ষার্থীদের অভিভাবকরা।

আরো পড়ুন: বাথটাবভর্তি পয়সা নিয়ে আইফোন কিনতে গেল যুবক

তারা এ বিষয়টি স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান ও ম্যানেজিং কমিটিকে অবহিত করেছেন। কিন্তু প্রধান শিক্ষকের খামখেয়ালীর কারণে ৪ শিক্ষার্থীর শিক্ষা জীবন ঝরে যাওয়ার শঙ্কা দেখা দিয়েছে বলে অভিভাবকরা জানান।

প্রধান শিক্ষক গোলাম মোস্তফা বাবুল জানান, তার বিরুদ্ধে আনিত অভিযোগ মিথ্যা। ওই শিক্ষার্থীরা তার কাছে কোন টাকা দেয় নি। তবে কেন পরীক্ষায় অংশ নিতে পারবে না জানতে চাইলে কোন উত্তর দিতে পারেন নি।

কলাপাড়া উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. জালাল আহমেদ জানান, অভিভাবকদের অভিযোগ পেয়ে অভিযুক্ত শিক্ষককে ডেকে পাঠানো হয়েছে। শনিবার সন্ধ্যায় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার উপস্থিতিতে এ বিষয়টি জানতে চাওয়া হবে। অভিযোগ প্রমাণিত হলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানান।

ইত্তেফাক/বিএএফ