ভুল রিপোর্টে ৫শ’ কোটি টাকা ক্ষতির মুখে লিবার্টি ফ্যাশন কারখানা

৫ বছর ধরে রপ্তানি বন্ধ 

ইত্তেফাক রিপোর্ট

টেসকো নামে একটি বিদেশি ক্রেতা প্রতিষ্ঠানের মনোনীত প্রতিষ্ঠান কর্তৃক ভুল প্রতিবেদন দেওয়ার পর বিশাল ক্ষতির মুখে পড়েছে লিবার্টি ফ্যাশন নামে একটি কারখানা। ইউরোপভিত্তিক ক্রেতাদের কারখানা পরিদর্শন জোট অ্যাকর্ড ওই বিতর্কিত রিপোর্টের ভিত্তিতে বিদেশি ক্রেতাদের কারখানাটির সঙ্গে ব্যবসায়ে সতর্কতা জারি করে। এর পর গত পাঁচ বছর ধরে ব্যবসা না করতে পেরে বন্ধ হয়ে আছে পাঁচ হাজার শ্রমিকের ওই কারখানা। গতকাল সোমবার রাজধানীর জাতীয় প্রেসক্লাবে এক সংবাদ সম্মেলনে কারখানা মালিক  মোজাম্মেল হক এই দাবি করেন। তিনি বলেন, এর ফলে তার ৪৯০ কোটি টাকার ব্যবসায়িক ক্ষতি হয়েছে। বন্ধ হওয়ার আগে বছরে সাড়ে তিনশ’ কোটি টাকার পোশাক রপ্তানি করা প্রতিষ্ঠানটির এখন এক টাকাও রপ্তানি নেই। ব্যাংকের দায়-দেনায় এখন তার পথে বসার উপক্রম।

মোজাম্মেল হক বলেন, ইঞ্জিনিয়ারিং ফার্মটি উদ্দেশ্যমূলকভাবে কারখানার কাঠামোতে ত্রুটি রয়েছে বলে ভুল রিপোর্ট দেয়। কিন্তু পরবর্তীতে সরকারি প্রতিষ্ঠান কলকারখানা ও প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন অধিদপ্তর (ডিআইএফই), বুয়েটসহ বেসরকারি একাধিক প্রতিষ্ঠানের পরীক্ষায় কাঠামোগত কোনো ত্রুটি পায়নি। একটি ভুল রিপোর্টের ভিত্তিতে অ্যাকর্ড লিবার্টি ফ্যাশনের সঙ্গে ব্যবসায়ে সতর্কতা জারি করলেও কারখানার প্রকৃত চিত্র তুলে ধরতে উদ্যোগ নেয়নি। এজন্য অ্যাকর্ডের নির্বাহী পরিচালক রব ওয়েজকে দায়ী করেন তিনি।  তিনি বলেন, ডিআইএফই’র প্রকৌশল পরীক্ষার প্রতিবেদন (ডিইএ) অ্যাকর্ডের কাছে জমা দেওয়া হলেও  আজ পর্যন্ত অ্যাকর্ড তা অনুমোদন দেয়নি। 

তিনি বলেন, সব ধরনের আধুনিক সুযোগ-সুবিধা রয়েছে কারখানাটির। ১৪ বছর ধরে বিশ্বখ্যাত প্রতিষ্ঠান টেসকোর সঙ্গে ব্যবসা করে আসছিল লিবার্টি ফ্যাশন। কিন্তু ভুল পরিদর্শন রিপোর্টের ওপর ভিত্তি করে বিশ্ববাসীকে জানানো হয়, কারখানাটি ধসে পড়বে। পাঁচ হাজার শ্রমিকের বড় একটি কারখানাকে এভাবে ‘টার্গেট’ করার পেছনে প্রকৃত কারণ চিহ্নিত করতে সরকারের প্রতি দাবি জানিয়ে তিনি বলেন, গোয়েন্দা সংস্থা কিংবা লন্ডনের স্কটল্যান্ড ইয়ার্ডের সহযোগিতা নিয়ে প্রকৃত ঘটনা প্রকাশ করুন।