সৈয়দপুর (নীলফামারী) সংবাদদাতা
মাত্র সাড়ে ১২ হাজার টাকার জন্য বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হতে পারছেন না সুকুমার রায়। এর ফলে তার উচ্চ শিক্ষা গ্রহণের স্বপ্ন ভেঙে খান খান হতে বসেছে। সুকুমারের বাড়ি নীলফামারীর সৈয়দপুর উপজেলার বাঙালিপুর ইউনিয়নের লক্ষণপুর বালাপাড়ায়। বাবা দীনবন্ধু রায় (৬০) ক্ষুদ্র মুড়ি বিক্রেতা। ভারে করে গ্রামে গ্রামে মুড়ি বিক্রি করেন তিনি। মা সুধারানী (৫৫) ওই মুড়ি ভাজার কাজে সহযোগিতা করেন। গরিব পরিবারে জন্ম নেওয়া সুকুমারের রয়েছে আরও বড় দুই ভাই-বোন। বড় ভাই বিষ্ণপদ রায় নীলফামারী সরকারি কলেজের সম্মান শেষ বর্ষের ছাত্র। বোন দীপা রানী সৈয়দপুর ডিগ্রি কলেজের স্নাতক শ্রেণিতে পড়েন। অভাবের সংসারে ছেলে-মেয়েদের মানুষ হিসেবে গড়ে তুলতে হিমশিম খাচ্ছেন দীনবন্ধু রায়।
দীনবন্ধু জানান, দুই ছেলে-মেয়েকে লেখাপড়া শেখাতে ঠিকমতো খরচ যোগাতে পারি না। সুকুমার খুব ভালো ছাত্র। গ্রামের স্কুল থেকে এসএসসি পরীক্ষায় জিপিএ-৫ পেয়েছে সুকুমার। পরে এইচএসসি পরীক্ষাতেও জিপিএ ৪.১৭ পায় সে। ওই ফলাফল নিয়ে সে দিনাজপুরের হাজী দানেশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে উত্তীর্ণ হয়। কিন্তু বিধিবাম। আজ মঙ্গলবার তার ভর্তির শেষ দিন। অথচ আজো আমি টাকা যোগার করতে পারেনি।
বাবার পাশে বসে থাকা সুকুমার হতাশার এ কথা বলে কান্নায় ভেঙে পড়েন। এক পর্যায়ে কথা হয় তার সাথে। তিনি জানান, আমি ওই বিশ্ববিদ্যালয়ে দুটি ইউনিটে চান্স পেয়েছি। কিন্তু ভর্তি হতে লাগবে ১২ হাজার ৬৫০ টাকা। আমার গরিব বাবা-মা কিছুতেই ওই টাকা যোগার করতে পারছেন না। আমার হয়তো উচ্চ শিক্ষা গ্রহণ করা সম্ভব হবে না। বাবা-মায়ের মুখে হাসি ফোটাতে পারবো না আমি।