বাগেরহাট হাসপাতালে চিকিত্সক ও রোগীর স্বজনদের মারধরের পাল্টাপাল্টি অভিযোগ

দুইজন গ্রেপ্তার

বাগেরহাট প্রতিনিধি

বাগেরহাট সদর হাসপাতালের জরুরি বিভাগের চিকিত্সক শেখ ইমরান মোহাম্মদকে মারধর করার অভিযোগ উঠেছে রোগীর দুই স্বজনের বিরুদ্ধে। রবিবার রাত আটটার দিকে সদর হাসপাতালের গেটে এই মারধরের ঘটনা ঘটে। পুলিশ অভিযোগ পেয়ে রাতেই ওই দুজনকে গ্রেপ্তার করে। রবিবার গভীর রাতে মারধরের শিকার চিকিত্সক শেখ ইমরান মোহাম্মদ বাদী হয়ে দুই ব্যক্তির বিরুদ্ধে সরকারি কাজে বাধা দানের অভিযোগ এনে বাগেরহাট মডেল একটি মামলা করেছেন। সোমবার সকালে পুলিশ তাদের আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠায়।

হাসপাতালে ভর্তি মিলন খানের স্ত্রী সেলিনা পারভীন ডাক্তারের সঙ্গে তার স্বামী ও ভাইয়ের ঘটে যাওয়া ঘটনার জন্য দুঃখ প্রকাশ করেছেন। তবে ঘটনার পর হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ ওয়ার্ডে বসে আমাকে, আমার স্বামী, ননদ ও ভাইকে মারধর করেছে বলে অভিযোগ করেছেন। তার স্বামী ও ভাইকে পুলিশ যেমন আটক করেছে তেমনি তিনিও তার স্বামী ও ভাইকে যারা মারধর করেছেন তাদের বিচার কে করবে বলে প্রশ্ন রাখেন। তিনি তাদেরও বিচার দাবি করেন।

এদিকে, হাসপাতালের জরুরি বিভাগের চিকিত্সক ইমরানকে মারধরের খবর পেয়ে রাতেই সদর হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ও সিভিল সার্জন ডা. জি কে এম সামসুজ্জামান ছুটে যান। চিকিত্সককে মারধরের খবর সহকর্মী চিকিত্সক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের মধ্যে ছড়িয়ে পড়লে তারা ক্ষোভে ফেটে পড়েন। তারা এই ঘটনার নিন্দা এবং দোষীদের কঠোর শাস্তির দাবি জানান। গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন, বাগেরহাট পৌরসভার খারদ্বার এলাকার লিয়াকত খানের ছেলে মিলন খান এবং হাড়িখালী এলাকার সরোয়ার হোসেনের ছেলে মাসুম বিল্লাহ।

বাগেরহাট সদর হাসপাতালের জরুরি বিভাগের চিকিত্সক শেখ ইমরান মোহাম্মদ বলেন, রবিবার রাত আটটার দিকে হাসপাতালে কর্তব্য শেষ করে অন্য আরেকজনকে দায়িত্ব বুঝে দিয়ে বাসায় ফেরার উদ্দেশ্যে জরুরি বিভাগের গেটের সামনে যাই। গেটে ঢোকার সময় আমার সাথে হাসপাতালে ভর্তি এক শিশু রোগীর দুইজনের গায়ে সামান্য ধাক্কা লাগে। এ সময় হাসপাতালের কয়েকজন ইন্টার্নি চিকিত্সক ওই রোগীর স্বজনদের আমার পরিচয় বললে তারা তা শুনে ক্ষিপ্ত হয়ে আমাকে প্রথমে রুঢ় ভাষায় গালাগাল করে। আমি তাদের কথার প্রতিবাদ করলে তারা চড়াও হয়ে আমাকে চর থাপ্পড় ও লাথি মারে।

রোগীর স্বজনদের মারধর করার অভিযোগ অস্বীকার করে বাগেরহাট সদর হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ও সিভিল সার্জন ডা. জি কে এম সামসুজ্জামান বলেন, হাসপাতালের কর্তব্যরত চিকিত্সক বাইরের লোকের দ্বারা আঘাত প্রাপ্ত হোক এটা আমরা চাই না। এই ঘটনায় আইন যেটা বলে আমরা তার শান্তিপূর্ণ সমাধান চাই। হাসপাতালে চিকিত্সককে মারধরের ঘটনাটি খুবই দুঃখজনক। হাসপাতালে ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনা ঘটুক তা আমরা চাই না।

বাগেরহাট মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মাহাতাব উদ্দিন বলেন, হাসপাতালের জরুরি বিভাগের কর্তব্যরত চিকিত্সক শেখ ইমরান মোহাম্মদকে মারধর করার অভিযোগ পেয়ে দুই ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে সরকারি কর্তব্যকাজে বাধাদানের অভিযোগে মামলা হয়েছে। গতকাল সোমবার সকালে তাদের আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।