বাস চেকার স্টপেজ প্রতারণার নতুন ফাঁদ

মগবাজার ওয়ারলেস থেকে বাংলামটর যাব বলে বাসে উঠলাম। মগবাজার মোড় পার হতেই বাসটির বেশ কিছুটা সময় লেগে গেল। সামনে তাকিয়ে দেখি বেশ বড় জ্যাম (সম্ভবত বাংলামটর থেকে দিলু রোডের মাথা পর্যন্ত)। একটু একুট করে বাস এগুচ্ছে। ভাবলাম বসে থেকে লাভ নেই। নেমে হাঁটা শুরু করি। উঠে দাঁড়াতেই ভাড়া চাইলেন হেলপার। ৫ টাকা দেওয়াতে বললেন, ভাড়া ১০ টাকা। জিজ্ঞাসা করলাম, কেন! মগবাজার মোড়ের আগে ৫ টাকা আর মোড় পার হতেই ১০ টাকা হয়ে গেল। হেলপার বললেন, দেখলেন না বাস চেক হইছে! বললাম, চেক হয়েছে তো যাত্রীদের কী? আর আমি বাংলামটর পর্যন্ত তো যাব না। এখানেই নেমে যাব। নাছোড়বান্দা হেলপার ১০ টাকা ভাড়া নেবেনই। আমিও ৫ টাকার পক্ষে। শুরু হলো বাগবিতণ্ডা। পুরো বাস জুড়ে হইচই। কিছু যাত্রী আমাকে বললেন, কী করবেন ভাই! ওদের কাছে আমরা জিম্মি। এক পর্যায়ে ১০ টাকা মিটিয়েই বাস থেকে নামলাম। সিকি কিলোমিটার পথও গেলাম না। ভাড়া দিলাম ১০ টাকা। অথচ বিআরটিএ-র নীতিমালা অনুযায়ী সরকার নির্ধারিত প্রতি কিলোমিটারের ভাড়া ১ টাকা ৭০ পয়সা। কোনো কোনো বাস মালিক এভাবেই দ্রুত ধনী হয়। আর সামষ্টিকভাবে বাংলাদেশ পেয়ে যায় বিশ্বে দ্রুত ধনী হওয়ার তালিকায় এক নম্বর স্থান। নগরজুড়ে এমন অসংখ্য চেক স্টপেজ রয়েছে। সড়কে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে কত প্রচার-প্রচারণা চলছে। পাশাপাশি কথিত সিটিং সার্ভিসের নামে প্রতারণা চলছেই। 

বোরহান বিশ্বাস

খিলগাঁও, ঢাকা