হাসপাতালের পাশে মাদকের হাট

দলবদ্ধ হয়ে মাদক সেবন, বিপাকে রোগী ও স্বজনরা

রফিকুল ইসলাম রবি

রাত তখন ২টা। রংপুর থেকে জাতীয় হূদরোগ ইনস্টিটিউটে রোগী নিয়ে এসেছেন সালেহা আক্তার। রোগীর জন্য জরুরি ওষুধ কিনতে হবে। যেতে হবে হাসপাতালের ঠিক বিপরীত পাশে রাস্তার ওপার কোনো ফার্মেসিতে। হাসপাতাল থেকে বেরিয়ে ওষুধের দোকানে রওনা হয়েও যেতে পারলেন না তিনি। হাসপাতালের সামনে রাস্তার ফুটপাত ঘিরে একদল যুবককে মাদক সেবন করতে দেখেন। সাহস করে সামনে পা বাড়ালেন না। ওষুধ না কিনেই ফিরে আসতে হলো তাকে। এভাবে রাজধানীর শেরেবাংলা নগরে গুরুত্বপূর্ণ হাসপাতালগুলোতে সারাদেশ থেকে আসা রোগী, স্বজন এবং পথচারীদের প্রতিনিয়ত বিব্রতকর পরিস্থিতিতে পড়তে হচ্ছে।

ঠাকুরগাঁও থেকে সোহরাওয়ার্দী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে রোগীর সঙ্গে আসা সুমন হাওলাদার বলেন, শেরেবাংলা নগরে দেশের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হাসপাতালগুলো অবস্থিত। অথচ রাতে হাসপাতালের আশপাশ দিয়ে হাঁটতে ভয় লাগে। অনেক জায়গা ঘুটঘুটে অন্ধকার। কোথাও সড়ক বাতি জ্বলে না। সারা রাত যেখানে রোগী আসে, তার আশপাশ দিনের মতো পরিষ্কার আলো থাকা উচিত।

শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের সামনে মাঠের পশ্চিমপাশে দোকানের পিছনে অন্ধকারে মাদকের আড্ডা বসায় বহিরাগতরা। মাঠের মধ্যে গভীর রাত পর্যন্ত দলবদ্ধ হয়ে যুবকদের আড্ডা দিতে দেখা যায়। একই হাসপাতালের দক্ষিণ পাশের চায়ের দোকানগুলো ঘিরে রোগী ছাড়াও বহিরাগতদের আনাগোনা বেশি থাকে। দোকানের পিছনে মাদক সেবন করে বহিরাগতরা। অন্যদিকে জাতীয় হূদরোগ ইনস্টিটিউটের সামনের বাগানে চায়ের দোকানের পিছনে বসে মাদকের আড্ডা। গুরুত্বপূর্ণ এ হাসপাতালের দক্ষিণ পাশের দোকানগুলো সারারাত খোলা থাকে। হূদরোগ ইনস্টিটিউট থেকে শিশু মেলার মধ্যে অবস্থিত জাতীয় কিডনি ইনস্টিটিউট ও হাসপাতাল এবং জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালের আশেপাশের জায়গাগুলো রাতের বেলা ঘুটঘুটে অন্ধকার থাকে। মাদকসেবীরা মাদক সেবনের জন্য এই জায়গাগুলো বেশি ব্যবহার করছে। এছাড়া জাতীয় অর্থোপেডিক হাসপাতাল ও পুনর্বাসন প্রতিষ্ঠানের পাশের বস্তিতে বসে মাদকের হাট। এছাড়া জাতীয় শিশু হাসপাতালের বিপরীতে রাস্তার ওপারে অবস্থিত জাতীয় চক্ষু বিজ্ঞান ইনস্টিটিউট ও হাসপাতাল, এর পিছনে রয়েছে জাতীয় নাক কান গলা ইনস্টিটিউট, ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব নিউরো সায়েন্সেস ও হাসপাতালের আশপাশের এলাকাগুলোর চিত্রও একই রকম।

রাজধানীর শেরেবাংলা নগরে অবস্থিত দেশের গুরুত্বপূর্ণ হাসপাতালগুলোতে সারা দেশ থেকে দিনরাত সবসময় হাজার হাজার রোগী চিকিত্সার জন্য আসে। এজন্য ওই এলাকায় সারারাত লোকজনের যাতায়াত থাকে। হাসপাতালের আশেপাশের দোকানগুলোও সারারাত খোলা থাকে। অথচ হাসপাতালের আশপাশের এলাকা, রাস্তাঘাট অন্ধকারে ডুবে থাকে। এসব জায়গায় মাদকের আখড়া বসায় মাদকসেবীরা। চলে বেচাকেনাও। মোহাম্মদপুর জেনেভা ক্যাম্প এবং বিএনপি বাজার বস্তি এলাকা থেকে এখানে মাদক সরবরাহ হয়। আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর কড়াকড়ির কারণে জেনেভা ক্যাম্প ও বিএনপি বাজার বস্তি এলাকার মাদক ব্যবসায়ীরা মাদক বেচাকেনার জন্য হাসপাতালের আশপাশের এলাকাগুলোকে সেভজোন হিসেবে ব্যবহার করছে। অন্যদিকে মাদকসেবীরা এখন জেনেভা ক্যাম্প ও বস্তিমুখী না হয়ে মাদক ব্যবসায়ীদের সঙ্গে যোগাযোগ করে হাসপাতালের আশপাশের এলাকা থেকে মাদকদ্রব্য ক্রয় করে।