কোপা আমেরিকার ট্রফি নিশ্চিত হওয়ার পর নিজের কান্না আটকে রাখতে পারেননি লিওনেল মেসি। আবেগাক্রান্ত মেসি ম্যাচশেষেও জানালেন, কতোটা আগ্রহ নিয়ে এমন একটা দিনের জন্য অপেক্ষা করেছেন বছরের পর বছর!
চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী ব্রাজিলের এই মারাকানায় ২০১৪ সালে স্বপ্নভঙ্গ হয়েছিলো মেসিদের। সেদিনের চিত্রটা যেন আজও চোখে ভাসে তার। এতগুলো বছর সেটি লুকিয়ে রাখলেও, কোপা জয়ের পর আর সেটি লুকাননি লিও। তার মুখেই শুনুন।
লিও বলেন, আমার মনে হয়, সৃষ্টিকর্তা আমার জন্য এই মুহুর্তটা জমিয়ে রেখেছিলেন। ফাইনালে, ব্রাজিলের বিপক্ষে এবং এই দেশের মাটিতে। এরচেয়ে আনন্দের আর কি হতে পারে? কোচের কৃতিত্ব অনেক বেশি। সে সবসময়ই জাতীয় দলের জন্য সেরাটা চায়। সে জানে কিভাবে গোটা দলটাকে এক করা যায়। তার অনেক বেশি প্রশংসা প্রাপ্য।
ম্যাচশেষে গণমাধ্যমে মেসি আরো বলেন, এটা অন্যরকম আনন্দ, ভাষায় প্রকাশ করার মতো নয়। আমি জানতাম একটা পর্যায়ে এটি ঘটবে। আমাদের লক্ষ্যটা ছিল পরিষ্কার এবং আমাদের চ্যাম্পিয়ন হওয়ার সামর্থ্য ছিলো। এই আনন্দটা তীব্র। অনেকবার এমন আনন্দের স্বপ্ন দেখেছি।
Lionel Messi has finally won an international trophy with Argentina.
— Footy Humour (@FootyHumour) July 11, 2021
The GOAT debate is over. ???????? pic.twitter.com/xk1KzEy1bw
এই মারাকানায় ২০১৪ বিশ্বকাপের ফাইনালে খেলতে পারেননি আনহেল দি মারিয়া। পারেননি পরের ২ বছরের কোপার ফাইনালেও খেলতে। আর্জেন্টাইন ক্যাপ্টেন মেসি জানালেন, দি মারিয়াকে ম্যাচের আগেই তিনি জানিয়েছিলেন আজ কিছু একটা করতে পারবেন তিনি।
মেসি বলেন, আমি দি মারিয়াকে বলেছিলাম যে সে আজকে তার প্রতিশোধ নিতে পারবে। দেখুন সেটিই হলো। সে ছাড়াও আমি আমার সব সতীর্থের সঙ্গে এটি ভাগাভাগি করতে চাই। এমনকি তাদেরকেও এই আনন্দটা দিতে চাই, যারা এর কাছাকাছি গিয়েছিলো কিন্তু জিততে পারেনি। এটা তাদের জন্যও।
এই এক ট্রফির মাধ্যমে মেসির অনন্ত আক্ষেপ ফুরোলো। দেশের জন্য একটা ট্রফি! শুধুই একটা ট্রফি। অসংখ্য অর্জনের ভীড়ে এই একটা ট্রফির প্রশ্নে লিওনেল মেসির মুখ মলিন হয়ে ওঠে। তিনিও জানেন, সবার মুখটা এবার বন্ধ করা যাবে।
মেসি বলেন, জাতীয় দলের হয়ে কিছু জয় করার এই আক্ষেপ আমাকে পুড়িয়েছে দীর্ঘদিন। আমাকে এখান থেকে বের হতে হতো। আমি অনেকবারই এর কাছাকাছি গিয়েছিলাম। আমি জানতাম একটা পর্যায়ে সবাই ভুল প্রমাণিত হবে। জানতাম আমরা ট্রফি জিতবো। আমার মনে হয় এরচেয়ে ভালো মুহুর্ত আর হতে পারেনা।
ইত্তেফাক/এএএন