রোহিঙ্গা ক্যাম্পে অ্যাঞ্জেলিনা জোলি

মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্য থেকে সেনাদের অত্যাচারে পালিয়ে আসা রোহিঙ্গা শরণার্থীদের দুর্দশা দেখতে কক্সবাজারে তিনদিনের সফরে উড়ে এসেছেন জাতিসংঘের শরণার্থী বিষয়ক সংস্থার (ইউএনএইচসিআর) বিশেষ দূত ও হলিউডের জনপ্রিয় অভিনেত্রী অ্যাঞ্জেলিনা জোলি।

সোমবার বেলা ১টা ১০ মিনিটের দিকে মেরিন ড্রাইভ সড়ক দিয়ে কক্সবাজারের টেকনাফের হোয়াইক্যংয়ের চাকমারকুল রোহিঙ্গা শিবিরে পৌঁছে তাদের সঙ্গে কথা বলেন তিনি। তবে এ সময় সংবাদকর্মীদের ক্যাম্পে ঢুকতে বাধা দেওয়া হয়। সফরের দ্বিতীয় দিনে তার উখিয়ার কুতুপালং রোহিঙ্গা শিবিরে যাওয়ার কথা রয়েছে।

ইউএনএইচসিআর-এর কার্যালয় জানায়, কক্সবাজারের একাধিক রোহিঙ্গা শিবির পরিদর্শন করবেন অ্যাঞ্জেলিনা জোলি। তিনি সেখানকার শরণার্থীদের সঙ্গে কথা বলবেন। তাদের দুঃখ-দুর্দশার কথা শুনবেন। এ ছাড়া শিবিরগুলোতে আশ্রয় নেয়া শিশুদের সঙ্গেও সময় কাটাবেন।

জোলি ২০০১ সাল থেকে জাতিসংঘের শরণার্থী বিষয়ক সংস্থা ইউএনএইচসিআর-এর বিশেষ দূত হিসেবে কাজ করছেন। ২০১৭ সালেই মিয়ানমার সেনাবাহিনীর হাতে রোহিঙ্গা নারীদের নির্যাতনের শিকার হওয়ার বর্ণনা শুনে ঢাকায় আসার আগ্রহ প্রকাশ করেছিলেন হলিউডের এ অভিনেত্রী। একই সালের নভেম্বরে ভ্যাঙ্কুভারে জাতিসংঘ পিসকিপিং মিনিস্টেরিয়েলে অ্যাঞ্জেলিনা জোলি যৌন নিপীড়নের শিকার নারীদের পক্ষে জোরালো বক্তব্য রাখেন। তার আগে যৌন নিপীড়ন বিষয়ক এক বৈঠকে আর্মড ফোর্সেস ডিভিশনের প্রিন্সিপ্যাল স্টাফ অফিসার লেফটেন্যান্ট জেনারেল মাহফুজুর রহমান রোহিঙ্গা ইস্যুতে জোলির সমর্থন চেয়েছিলেন। ভ্যাঙ্কুভারে অনুষ্ঠিত বৈঠকে জোলি তার   বক্তব্যে বলেছিলেন— ‘বাংলাদেশে পালিয়ে আসা প্রায় প্রতিটি রোহিঙ্গা নারী যৌন হয়রানির শিকার হয়েছেন।’

টেকনাফ সংবাদদাতা জানান, এ দিকে রোহিঙ্গাদের পরিস্থিতি ?ঘুরে দেখার পর ঢাকায় ফিরে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, পররাষ্ট্রমন্ত্রী একে আবদুল মোমেন এবং সরকারের একাধিক শীর্ষ কর্মকর্তার সঙ্গে বৈঠক করার কথা রয়েছে জোলির। রোহিঙ্গা সমস্যার সমাধানে ইউএনএইচসিআর কীভাবে বাংলাদেশ সরকারকে আরও সহযোগিতা করতে পারে, তা নিয়ে আলোচনা করবেন জোলি। এ ছাড়া বিশ্বের সবচে নিগৃহীত এ সংখ্যালঘু গোষ্ঠির মানুষের সমস্যা সমাধান কীভাবে নিরাপদ ও টেকসই উপায়ে করা সম্ভব, সে বিষয়েও আলোচনা করবেন এ অভিনেত্রী। অ্যাঞ্জেলিনা জোলির জন্ম ১৯৭৫ সালের ৪ জুন। তিনি একজন মার্কিন অভিনেত্রী, চলচ্চিত্র নির্মাতা ও মানবহিতৈষী। তিনি তিনবার গোল্ডেন গ্লোব পুরস্কার, দুইবার স্ক্রিন অ্যাক্টরস গিল্ড পুরস্কার এবং একবার একাডেমি পুরস্কার লাভ করেছেন। ২০০১ সালে তিনি জাতিসংঘের শরণার্থী সংস্থার শুভেচ্ছাদূত মনোনীত হন। বিশ্বব্যাপী মানবতার প্রচার, বিশেষ করে শরণার্থীদের নিয়ে কাজ করার জন্য জোলি বিশ্বজুড়ে বিশেষভাবে সমাদৃত।